প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:গল্পগুচ্ছ (চতুর্থ খণ্ড).pdf/১৬৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


>○しs গল্পগুচ্ছ দেশাচারের বিরুদ্ধে নিদারণে কালপনিক সংগ্রাম করিতেন। স্বাধীনবিবাহ বিধবাবিবাহ প্রভৃতি প্রসঙ্গে মহেন্দু সংস্কারকমহাশয়ের সহিত উৎসাহের সহিত যোগ দিতেন, কিন্তু বহুবিবাহনিবারণ-প্রসঙ্গে তাঁহার তেমন উৎসাহ থাকিত না। এ ভাবের তাৎপর্য যদিও গদাধরবাব বুঝিতে পারেন নাই, কিন্তু আমরা এক রকম বকিয়া লইয়াছি। গদাধর ও স্বরপের সঙ্গে মহেন্দ্রের যেমন বনিয়া গিয়াছিল, এমন নরেন্দ্র ও তাহার দলবলের সহিত হয় নাই। মহেন্দু ইহাদের নিকট ক্রমে তাহার দই-একটি করিয়া মনের কথা বলিতে লাগিল, অবশেষে মোহিনীর সহিত প্রণয়ের কথাটাও অবশিষ্ট রহিল না। এই প্রণয়ের কথাটা শুনিয়া বরপবাব অত্যন্ত উন্মত্ত হইয়া উঠিলেন। তিনি ভাবিলেন মহেন্দু তাঁহার প্রণয়ের অন্যায় প্রতিদ্বন্দ্বী হইয়াছেন; অনেক দুঃখ করিয়া অনেক কবিতা লিখিলেন এবং আপনাকে একজন উপন্যাসনাটকের নায়ক কল্পনা করিয়া মনে-মনে একটা তৃপ্ত হইলেন। গদাধর কোনো প্রকারে মোহিনীর পারিবারিক অধীনতাশঙ্খল ভগন করিয়া তাহাকে মন্ত বায়তে আনয়ন করিবার জন্য মহেন্দ্রকে অনুরোধ করিলেন। তিনি কহেন, গহ হইতে আমাদের স্বাধীনতা শিক্ষা করা উচিত, প্রথমে পারিবারিক অধীনতা হইতে মুক্তিলাভ করিতে শিখিলে ক্রমশ আমরা স্বাধীনতাপথে অগ্রসর EFTS vtfHA | SKAifs -MÆ GATA :Charity begins at home t GERfA গহ হইতে স্বাধীনতার শর। সংস্কারকমহাশয় নিজে বাল্যকাল হইতেই ইহার দষ্টান্ত দেখাইয়া আসিতেছেন। বারো বৎসর বয়সে পিতার সহিত বিবাদ করিয়া তিনি গহ হইতে নিরদেশ হন, ষোলো বৎসর বয়সে শিক্ষকের সহিত বিবাদ করিয়া ক্লাস ছাড়িয়া চলিয়া আসেন, কুড়ি বৎসর বয়সে তাঁহার সন্ত্রীর সহিত মনান্তর হয় এবং তাঁহাকে তাঁহার বাপের বাড়ি পাঠাইয়া নিশিচন্ত হন এবং এইরপে স্বাধীনতার সোপানে সোপানে উঠিয়া সম্প্রতি ত্রিশ বৎসর বয়সে নিজে সমস্ত কুসংস্কার ও প্রেজুডিসের অধীনতা হইতে মুক্ত হইয়া অসভ্য বঙ্গদেশের নিদয় দেশাচারসমুহকে বস্তৃতার ঝটিকায় ভাঙিয়া ফেলিবার চেষ্টায় আছেন। কিন্তু গদাধরের সহিত মহেন্দ্রের মতের ঐক্য হইল না, এমন-কি মহেন্দু মনে-মনে একটা অসন্তুষ্ট হইল। গদাধর আর অধিক কিছু বলিল না ; ভাবিল, “আরও দিনকতক যাক, তাহার পরে পনরায় এই কথা তুলিব।’ আরও দিনকতক গেল, মহেন্দ্র এখন নরেন্দ্রদের দলে সম্পর্ণেরপে যোগ দিয়াছে। মহেন্দ্রের মনে আর মনুষ্যত্বের কিছুমাত্র অবশিষ্ট নাই। গদাধর আর-একবার পবে"কার কথা পাড়িল, মহেন্দ্রের তাহাতে কোনো আপত্তি হইল না। মহেন্দ্রের নামে কলঙ্ক ক্রমে রাষ্ট্ৰ হইতে লাগিল। কিন্তু মহেন্দ্রের হৃদয়ে এতটুকু লোকলজ্জা আবশিষ্ট ছিল না যে, এই অপবাদে তাহার মন তিলমাত্র ব্যথিত হইতে পারে। 海 মহেন্দ্রের ভগিনী পিতা ও অন্যান্য আত্মীয়েরা ইহাতে কিছু কাট পাইল বটে, কিন্তু হতভাগিনী রজনীর হৃদয়ে যেমন আঘাত লাগিল এমন আর কাহারও নয়। যখন মহেন্দু মদ খাইয়া এলোমেলো বকিতে থাকে তখন রজনীর কী মমান্তিক ইচ্ছা হয় যে, আর কেহ সেখানে না আসে। যখন মহেন্দু মাতাল অবস্থায় টলিতে টলিতে