প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:গল্পগুচ্ছ (চতুর্থ খণ্ড).pdf/১৮০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


করগো ఉ&సి স্বরুপ কহিল, “সেকি ! কর্ণার সহিত একবারও তো আমার দেখাসাক্ষাৎ কথাबाउ" इच्न नाइँ ।” নিধি মনে-মনে কহিল, ‘নিশ্চয় দেখাসাক্ষাৎ হইয়াছিল, নাহলে এত করিয়া তড়িাইবার চেষ্টা করিবে কেন। ইহাও একটি প্রমাণ হইল, কিন্তু আবার স্বরুপ যদি বলিত যে "হাঁ দেখা সাক্ষাৎ হইয়াছিল’ তবে তাহাও একটি প্রমাণ হইত। যাহা হউক, নিধির মনে আর সন্দেহ রহিল না। এমন একটি নিগঢ়ে বাতা নিধি আপনার বন্ধিকৌশলে জানিতে পারিয়াছে, এ কথা কি সে আর গোপনে রাখে। তাহার বন্ধির পরিচয় লোকে না পাইলে আর হইল কী। ‘তুমি যাহা মনে করিতেছ তাহা নয়, আমি ভিতরকার কথা সকল জানি’— চতুরতাভিমানী লোকেরা ইহা বাঝাইতে পারিলে বড়োই সন্তুষ্ট হয়। নিধির কাছে যদি বল যে, "রামহরিবাব বড়ো সংলোক অমনি নিধি চমকিয়া উঠিয়া জিজ্ঞাসা করিবে, কী বলিতেছ। কে সৎলোক। রামহরি বাবা ? ও—এমন করিয়া বলিবে যে তুমি মনে করিবে, এ ব্যকি রামহরিবাবর ভিতরকার কী একটা দোষ জানে। পীড়াপীড়ি করিয়া জিজ্ঞাসা করিলে কহিবে, সে অনেক কথা। নিধি সম্প্রতি যে গন্তে খবর পাইয়াছে তাহা পরামর্শ দিবার ছলে নরেন্দ্রকে বলিবে, এইরুপ মনে-মনে স্থির করিল। চতুদশ পরিচ্ছেদ কয় দিন ধরিয়া ছোটো ছেলেটির পীড়া হইয়াছে। তাহা হইবে না তো কী। কিছরই তো নিয়ম নাই। কর্ণা ডাক্তার ডাকাইয়া আনিল, ডাক্তার আসিয়া কহিল পীড়া শক্ত হইয়াছে। কর্ণা তো দিন রাত্রি তাহাকে কোলে করিয়া বসিয়া রহিল। পীড়া বাড়িতে লাগিল, কর্ণা কাঁদিয়া কাঁদিয়া সারা হইল। গ্রামের নেটিব ডাক্তার কপালীচরণবাব পীড়ার তত্ত্বাবধান করিতেছেন, তাঁহাকে ফি দিবার সময় তিনি কহিলেন, “থাক, থাক, পীড়া অগ্রে সারকে। পণ্ডিতমহাশয় বুঝিলেন, নরেন্দ্রদের দরবস্থা শুনিয়া দয়াদ্র ডাক্তারটি বুঝি ফি লইতে রাজি নহেন। দই বেলা তাঁহাকে ডাকাইয়া আনিলেন, তিনিও অম্লানবদনে আসিলেন। নরেন্দ্র এক্ষণে বাড়িতে নাই। ও পাড়ার পিতৃমাতৃহীন নাবালক জমিদারটি বসিয়াছেন। তাঁহারই সকন্ধে চাপিয়া নরেন্দ্র দিব্য আরামে আমোদ করিতেছেন এবং গদাধর ও বরপকে তাঁহারই হতে গচ্ছিত রাখিয়া নিশ্চিত হইবার চেষ্টা করিতেছেন। কিন্তু গদাধর ও বরপকে যে শীঘ্ন তাঁহার সকধ হইতে নড়াইবেন, তাহার জো নাই—গদাধরের একটি উদ্দেশ্য আছে, স্বরপেরও এক উদ্দেশ্য আছে। ছেলেটির পীড়া অত্যন্ত বাড়িয়া উঠিয়াছে। ডাক্তার ডাকিতে একজন লোক পাঠানো হইল। ডাক্তারটি তাহার হস্ত দিয়া, তাঁহার দ্য বেলার যাতায়াতের দরুন যাহা পাওনা আছে সমস্ত হিসাব সমেত এক বিল পাঠাইয়া দিলেন। ছেলেটি অবশ হইয়া পড়িয়াছে করণা তাহাকে কোলে করিয়া তাহার মাখের পানে চাহিয়া আছে। সকল কমে নিপুণ নিধি মাঝে মাঝে তাহার নাড়ি দেখিতেছে, কহিল নাড়ি অতিশয় ক্ষীণ হইয়া আসিয়াছে। আকুলহদয়ে সকলেই ডাক্তারের জন্য প্রতীক্ষা করিতেছে,