প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:গল্পগুচ্ছ (চতুর্থ খণ্ড).pdf/১৮৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


করপো పాటs অন্যায় নহে। সে মনে করিল, যে তিরস্কার তাহাকে করা হইতেছে সে তিরস্কার বুঝি তাহার যথার্থই পাওয়া উচিত। রজনী কাহাকেও কিছু বলিল না, একবার কাঁদিলও না। এ কয়দিন তাহার খেী অতিশয় গম্ভীর— অতিশয় শাত-যেন মনে-মনে কী একটি সংকল্প করিয়াছে, মনে-মনে কী একটি প্রতিজ্ঞা বধিয়াছে। এই দুই মাস হইল মহেন্দ্র বিদেশে গিয়াছে— এই দুই মাস ধরিয়া রজনী যেন কী একটা ভাবিতেছিল, এত দিনে সে ভাবনা যেন শেষ হইল, তাই রজনীর মখে অতি গম্ভীর অতি শান্ত দেখাইতেছে । সন্ধ্যা হইলে ধীরে ধীরে সে মোহিনীর বাড়িতে গেল। মোহিনীর সহিত দেখা হইল, থতমত খাইয়া দড়িাইল । যেন কী কথা বলিতে গিয়াছিল, বলিতে পারিল না, বলিতে সাহস করিল না। মোহিনী অতি স্নেহের সহিত জিজ্ঞাসা করিল, “কী রজনী। কি বলিতে আসিয়াছিস ।” রজনী ভয়ে ভয়ে ধীরে ধীরে কহিল, "দিদি, আমার একটি কথা রাখতে হবে ।" মোহিনী আগ্রহের সঙ্গে কহিল, “কণী কথা বলো ৷” রজনী কতবার না বলি না বলি’ করিয়া অনেক পীড়াপীড়ির পর আস্তে আস্তে কহিল মোহিনীকে একটি চিঠি লিখিতে হইবে। কাহাকে লিখিতে হইবে । মহেন্দুকে ; কী লিখিতে হইবে । না, তিনি বাড়িতে ফিরিয়া আসন, তাহাকে আর অধিক দিন যন্ত্রণা ভোগ করিতে হবে না। রজনী তাহার দিদির বাড়িতে থাকিবে । বলিতে বলিতে রজনী কাঁদিয়া ফেলিল । উনবিংশ পরিচ্ছেদ জ্যৈষ্ঠ মাসের মধ্যাহ্ন। রৌদ্র ঝাঁ ঝাঁ করিতেছে। রাশি রাশি ধলি উড়াইয়া গ্রামের পথ দিয়া মাঝে মাঝে দই-একটা গোরুর গাড়ি মন্থর গমনে যাইতেছে। দই-একজন মাত্র পথিক নিভৃত পথে হন হন করিয়া চলিয়াছে। সতৰধ মধ্যাহ্নে কেবল একটি গ্রাম্য বাঁশির স্বর শনা যাইতেছে, বোধ হয় কোনো রাখাল মাঠে গোর ছাড়িয়া দিয়া গাছের ছায়ায় বসিয়া বাজাইতেছে । করুণা সমস্ত রাত চলিয়া চলিয়া শ্রান্ত হইয়া গাছের তলায় পড়িয়া আছে । করুণা-যে কোনো কুটীরে আতিথ্য লইবে, কাহারও কাছে কোনো প্রার্থনা করিবে, সে সবভাবেরই নয়। কী করিলে কি হইবে, কণী বলিতে হয়, কী কহিতে হয়, তাহার কিছল যদি ভাবিয়া পায়। লোক দেখিলে সে ভয়ে আকুল হইয়া পড়ে। এক-একজন করিয়া পথিক চলিয়া যাইতেছে, কর্ণার ভয় হইতেছে— ‘এইবার এই বুঝি আমার কাছে আসিবে, ইহার বুঝি কোনো দুরভিসন্ধি আছে! বেলা প্রায় তিন প্রহর হইবে, এখনও পর্যন্ত কর্ণা কিছু আহার করে নাই। পথশ্রমে, ধলোয়, অনিদ্রায়, অনাহারে, ভাবনায় কর্ণা এক দিনের মধ্যে এমন পরিবতিত হইয়া গিয়াছে, এমন বিষম বিবণ মলিন শীর্ণ হইয়া গিয়াছে যে দেখিলে সহসা চিনা যায় না । ঐ একজন পথিক আসিতেছে। দেখিয়া ভালো মনে হইল না। কর্ণার দিকে তার ভারি নজর—বিদ্যাসন্দরের মালিনী-মাসীর সপকের একটা গান ধরিল— কিন্তু এই জ্যৈষ্ঠ মাসের বিপ্রহর রসিকতা করিবার ভালো অবসর নয় বৰিয়া সে 한 놀