প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:গল্পগুচ্ছ (চতুর্থ খণ্ড).pdf/১৮৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


సిటO গল্পগুচ্ছ তো গান গাইতে গাইতে পিছন ফিরিয়া চাহিতে চাহিতে চলিয়া গেল। আর-একজন, আর-একজন, আর-একজন– এইরুপ এক এক করিয়া কত পথিক চলিয়া গেল। এ পর্যন্ত কর্ণা ভদ্র পথিক একজনও দেখিতে পায় নাই। কিন্তু কী সবনাশ । ওই একজন প্যাণ্টলন-চাপকান-ধারী আসিতেছে। অনেক সময়ে ভদ্রলোকদের (ভদ্র কথা সাধারণ অথে যেরপে ব্যবহত হয়) যত ভয় হয় এত আর কাহাদেরও নয়। ঐ দেখো, কর্ণা যে গাছের তলায় বসিয়াছিল সেই দিকেই আসিতেছে। কর্ণা তো ভয়ে আকুল, মাটির দিকে চাহিয়া থরথর কপিতে লাগিল। পথিকটি তো, বলা নয় কহা নয়, অতি শান্ত ভাবে আসিয়া, সেই গাছের তলাটিতে আসিয়া বসিল কেন। বসিতে কি আর জায়গা ছিল না। পথের ধারে কি আর গাছ ছিল না। পথিকটি স্বরুপবাব। স্বরুপবাবর সীলোকদিগের প্রতি যে একটা স্বাভাবিক টান ছিল তাহারই আকর্ষণ এড়াইতে না পারিয়া গাছের তলায় আসিয়া বসিয়াছিলেন । তিনি জানিতেন না যে করণকে সেখানে দেখিতে পাইবেন। কিন্তু যখন কর্ণাকে দেখিলেন, চিনিলেন। তখন তাঁহার বিস্ময়ের ও আনন্দের অবধি রহিল না। কর্ণা দেখে নাই পথিকটি কে। সে ভয়ে বিহবল হইয়া পড়িয়াছে সেখান হইতে উঠিয়া যাইবে-যাইবে মনে করিতেছে, কিন্তু পারিতেছে না। কিছুক্ষণ তো বিস্ময় ও আনন্দের তোড় সামলাইতে গেল, তার পর স্বরুপ অতি মধরে গদগদ বরে কহিলেন, “কর্ণা !” কর্ণা এই সম্বোধন শনিয়া একেবারে চমকিয়া উঠিল, পথিকের দিকে চাহিল, দেখিল স্বরুপবাবু! তাহার চেয়ে একটা সাপ যদি দেখিত কর্ণা কম ভয় পাইত । করণো কিছুই উত্তর দিল না। সবরপে অনেক কথা বলিতে লাগিল, এ কয় রাত্রি সে কর্ণার জন্যে কত কষ্ট পাইয়াছিল তাহার সমস্ত বর্ণনা করিল। সেই সখেরাত্রে তাহাদের প্রেমালাপের যখন সবে সত্রপাত হইয়াছিল, এমন সময়ে ভঙ্গ হওয়াতে অনেক দুঃখ করিল। সে অতি হতভাগ্য, বিধাতা তাহাকে চিরজীবন দুঃখী করিবার জন্যই বুঝি সন্টি করিয়াছেন—তাহার কোনো আশাই সফল হয় না। অবশেষে, কর্ণা নরেন্দ্রের বাড়ি হইতে যে বাহির হইয়া আসিয়াছে, ইহা লইয়া অনেক আনন্দ প্রকাশ করিল। কহিল— আরও ভালোই হইয়াছে, তাহাদের দুইজনের যে প্রেম, যে সবগীয় প্রেম, তাহা নিম্পকণ্টকে ভোগ করিতে পারিবে। আরও এমন অনেক কথা বলিল, তাহা যদি লিখিয়া লওয়া যাইত তাহা হইলে অনেক বড়ো বড়ো নভেলের রাজপত ক্ষত্রিয় বা অন্যান্য মহা মহা নায়কের মুখে স্বচ্ছন্দে বসানো ষাইত। কিন্তু কর্ণা তাহার রসাবাদন করিতে পারে নাই। স্বরপ এলাহাবাদে যাইবে, তাই স্টেশনে যাইতেছিল। পথের মধ্যে এই সকল ঘটনা। বরপ প্রস্তাব করিল কর্ণা তাহার সঙ্গে পশ্চিমে চলকে, তাহা হইলে আর কোনো ভাবনা ভাবিতে হবে না। কর্ণা কাল রাত্রি হইতে ভাবিতেছিল কোথায় যাইবে, কী করবে। কিছুই ভাবিয়া পায় নাই। আজিকার দিন তো প্রায় যায়-বায়— রালি আসিবে, তখন কী করিবে, কত প্রকার লোক পথ দিয়া যাওয়া-আসা করিতেছে, এই-সকল নানান ভাবনার সময় এ প্রস্তাবটা কর্ণার মন্দ লাগিল না। ছেলেবেলা হইতে যে চিরকাল গাহের বাহিরে কখনও যায় নাই, সে এই অনাবত পথিবীর দটি কী করিয়া সহিবে