প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:গল্পগুচ্ছ (চতুর্থ খণ্ড).pdf/১৯১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


సి ఆ ఇ গল্পগুচ্ছ করুণা চলিল। উভয়ে স্টেশনে গিয়া উপস্থিত হইল। গাড়ি ছাড়িতে এখনও দেরি আছে। জিনিসপত্র পটালি-বেচিকা লইয়া যান্ত্রিগণ মহা কোলাহল করিতেছে। কানে-কলম-গোঁজা রেলওয়ে ক্লাকগণ ভারি উচু চালে ব্যস্তভাবে ইতস্ততঃ ফর ফর করিয়া বেড়াইতেছেন। পান সোডাওয়াটার নানাপ্রকার মিস্টান্নের বোঝা লইয়া ফেরিওয়ালারা আগামী গাড়ির জন্য অপেক্ষা করিতেছে। এইরুপ তো অবস্থা। এমন সময়ে একৃজন পরিষে কর্ণার পাশে সেই বেঞ্চে আসিয়া বসিল। করণো উঠিয়া যাইবে-যাইবে করিতেছে, এমন সময়ে তাহার পাশবপথ পরিষে বিসময়ের স্বরে কহিয়া উঠিল, “মা, তুমি ষে এখানে!” কর্ণা পণ্ডিতমহাশয়ের সবর শনিয়া চমকিয়া উঠিল। অনেকক্ষণ কিছু বলিতে পারিল না। অনেকক্ষণ নিজল নয়নে চাহিয়া চাহিয়া, কাঁদিয়া ফেলিল। কাঁদিতে কাঁদিতে কহিল, “সাবভৌমমহাশয়, আমার ভাগ্যে কী ছিল!” পণ্ডিতমহাশয় তো আর অশ্র সম্বরণ করিতে পারেন না। গদগদ স্বরে কহিলেন, “মা, যাহা হইবার তাহা হইয়াছে, তাহার জন্য আর ভাবিয়ো না । আমি প্রয়াগে যাইতেছি, আমার সঙ্গে আইস। পথিবীতে আর আমার কেহই নাই—যে কয়টা দিন বাঁচিয়া আছি ততদিন আমার কাছে থাকো, ততদিন আর তোমার কোনো ভাবনা নাই।” - কর্ণা অধীর উচ্ছাসে কাঁদিতে লাগিল। এমন সময়ে নিধি আসিয়া উপস্থিত হইল। নিধি পন্ডিতমহাশয়ের খরচে কাশী দশন করিতে আসিয়াছেন। পন্ডিতমহাশয় তত্তজন্য নিধির কাছে অত্যন্ত কৃতজ্ঞ আছেন। তিনি বলেন, নিধির ঋণ তিনি এ জন্মে শোধ করিতে পরিবেন না। কর্ণাকে দেখিয়া একেবারে চমকিয়া উঠিল ; কহিল, “ভট্টাচাৰ্যমহাশয়, একটা কথা আছে।” পণ্ডিতমহাশয় শশবাস্তে উঠিয়া গেলেন। নিধি কহিল, “ঐ বাবটিকে দেখিতেছেন ?” পণ্ডিতমহাশয় চাহিয়া দেখিলেন। দেখিলেন--স্বরুপ। নিধি কহিল, “দেখিলেন! কর্ণার ব্যবহারটা একবার দেখিলেন ! ছি-ছি, সবগীয় কতার নামটা একেবারে ডুবাইল !" পণ্ডিতমহাশয় অনেকক্ষণ হাঁ করিয়া দড়িাইয়া রহিলেন, অবশেষে হত উলটাইয়া আস্তে আস্তে কহিলেন— “সিয়াশ্চরিত্রং পরষস্য ভাগ্যং দেবা না জানতি কুতো মনুষ্যাঃ।" নিধি কহিল, “আহা, নরেন্দ্র এমন ভালো লোক ছিল। ওই রাক্ষসীই তো তাহাকে নস্ট করিয়াছে।” নরেন্দ্র যে ভালো লোক ছিল সে বিষয়ে পণ্ডিতমহাশয়ের সংশয় ছিল না, এখন যে খারাপ হইয়া গিয়াছে তাহারও প্রমাণ পাইয়াছেন, কিন্তু এতক্ষণে কেন যে খারাপ হইয়া গিয়াছে তাহার কারণটা জানিতে পারিলেন। পণ্ডিতমহাশয়ের সন্ত্ৰীজাতির উপর দারণ ঘণা জন্মাইল। পণ্ডিতমহাশয় ভাবিলেন, আর না-ক্ষ্মীলোকেই তাঁহার সবনাশ করিয়াছে, সন্ত্রীজাতিকে আর বিশ্বাস করিবেন না।