পাতা:গল্পগুচ্ছ (চতুর্থ খণ্ড).pdf/১৯৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


షి ఆ8 গল্পগুচ্ছ জন্য এক তিলও ইচ্ছা হয় নি। কত দেশ দেখিলাম, কত স্থানে ভ্রমণ করিলাম, কত দিন কত মাস চলিয়া গেল, কিন্তু কী দেখিলাম কী করিলাম কিছল যদি মনে আছে ! চোকের উপর কত পবত নদী অরণ্য মন্দির আটালিকা গ্রাম উঠিত, কিন্তু সে সকল যেন কী। কিছুই নয়। যেন সবনের মতো, যেন মায়ার মতো, যেন মেঘের পবত-অরণ্যের মতো। চোখের উপর পড়িত তাই দেখিতাম, আর কিছুই নহে। এইরুপ করিয়া ষে কত দিন গেল তাহা বলিতে পারি না— আমার মনে হইয়াছিল এক বৎসর হইবে, কিন্তু পরে গণনা করিয়া দেখিলাম চার মাস। ক্ৰমে ক্ৰমে আমার মন শান্ত হইয়া আসিয়াছে। এখন ভবিষ্যৎ ও অতীত ভাবিবার অবসর পাইলাম। আমি এখন লাহোরে আসিয়াছি। এখানকার একজন বাঙালিবাবর বাড়িতে আশ্রয় লইলাম, ও অলপ অলপ করিয়া ডাক্তারি করিতে আরম্ভ করিলাম। এখন আমার মন্দ আর হইতেছে না। কিন্তু আয়ের জন্য ভাবি না ভাই, আমার হদয়ে যে নতন মনস্তাপ উত্থিত হইয়াছে তাহাতে যে আমাকে কী অস্থির করিয়া তুলিয়াছে বলিতে পারি না। আমার নিজের উপর যে কী ঘণা হইয়াছে তাহা কী করিয়া প্রকাশ করিব । যখন দেশে ছিলাম তখন রজনীর জন্যে এক দিনও ভাবি নাই, যখন দেশ ছাড়িয়া আসিলাম তখনও এক মহোতের জন্য রজনীর ভাবনা মনে উদিত হয় নাই, কিন্তু দেশ হইতে যত দরে গিয়াছি—যত দিন চলিয়া গিয়াছে— হতভাগিনী রজনীর কথা ততই মনে পড়িয়াছে—আপনাকে ততই মনে পড়িয়াছে—আপনাকে ততই নিঠর পিশাচ বলিয়া মনে হইয়াছে। আমার ইচ্ছা করে এখনই দেশে ফিরিয়া যাই, তাহাকে যত্ন করি, তাহাকে ভালোবাসি, তাহার নিকট ক্ষমা প্রাথনা করি। সে হয়তো এতদিনে আমার কলঙ্কের কথা শুনিয়াছে। আমি তাহার কাছে কী বলিয়া দাঁড়াইব । না ভাই, আমি তাহা পারিব না।... মহেন্দু আমি দেখিতেছি, যে-সকল বাহ্য কারণে মহেন্দুের রজনীর উপর বিরাগ ছিল, সেসকল কারণ হইতে দরে থাকিয়া মহেন্দু একটা ভাবিবার অবসর পাইয়াছে। যতই তাহার আপনার নিষ্ঠরাচরণ মনে উদিত হইয়াছে ততই রজনীর উপর মমতা তাহার দঢ়মলে হইয়াছে। মহেন্দ্র এখন ভাবিয়াই পাইতেছে না তাহাকে কেন ভালোবাসে নাই—এমন মদ, কোমল স্নিগ্ধ স্বভাব, তাহাকে ভালোবাসে না এমন পিশাচ আছে! কেন, তাহাকে দেখিতেই বা কী মন্দ! মন্দ ? কেন, অমন সন্দের স্নেহপণ চক্ষ। অমন কোমল ভাবব্যঞ্জক মুখশ্ৰী ! ভাব লইয়া রপে, না, বর্ণ লইয়া? রজনীর যাহা-কিছল ভালো তাহাই মহেন্দ্রের মনে পড়িতে লাগিল, আর তাহার যাহা-কিছর মন্দ তাহাও মহেন্দু ভালো বলিয়া দাঁড় করাইতে চেষ্টা করিতে লাগিল। ক্লমে রজনীকে যতই ভালো বলিয়া ব্যঝিল, আপনাকে ততই পিশাচ বলিয়া মনে হইল। মহেন্দ্রের সেখানে বিলক্ষণ পসার হইয়াছে। মাসে প্রায় দুই শত টাকা উপাজান করিত। কিন্তু প্রায় সমস্তই রজনীর কাছে পাঠাইয়া দিত, নিজের জন্য এত অলপ টাকা রাখিয়া দিত যে, আমি ভাবিয়া পাই না কী করিয়া তাহার খরচ চলিত। অনেক দিন হইয়া গেছে মহেন্দ্রের বাড়ি আসিতে বড়োই ইচ্ছা হয়, কিন্তু সকল কথা মনে উঠিলে আর ফিরিয়া আসিতে পা সরে না। মহেন্দ্র একটা চিঠি