প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:গল্পগুচ্ছ (চতুর্থ খণ্ড).pdf/১৯৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


> & O গল্পগুচ্ছ সম্বোধন করিয়া কর্ণার দিকে কটাক্ষপাত করিয়া কহিতেন, ‘আজ বাগানে বড়ো গলা বাহির করা হইতেছিল ! লাজা করে না r কিন্তু তাহাতে কর্ণা কিছই সাবধান হয় নাই। কিন্তু এ তো কর্ণার শান্ত অবস্থা, কর্ণা যখন মনের সাথে তাহার পিতৃভবনে থাকিত তখন যদি এই পঞ্চান্ন বৎসরের অভিজ্ঞ গহিণী তাহাকে দেখিতেন তবে কী করিতেন বলিতে পারি না। আবার এক-একবার যখন বিষন্ন ভাব কর্ণার মনে আসিত তখন তাহার মতি" সম্পণে বিপরীত। আর তাহার কথা নাই, হাসি নাই, গল্প নাই, সে এক জায়গায় চুপ করিয়া বসিয়া থাকিবে- রজনী পাশে বসিয়া লক্ষী দিদি আমার বলিয়া কত সাধাসাধি করিলে উত্তর নাই। কর্ণা প্রায় মাঝে মাঝে এমনি বিষন্ন হইত, কতক্ষণ ধরিয়া কাঁদিয়া কাঁদিয়া তবে সে শান্ত হইত। একদিন কাঁদিতে কাঁদিতে মহেন্দ্রকে জিজ্ঞাসা করিল, "নরেন্দ্র কোথায় ।” মহেন্দু কহিল, “আমি তো জানি না।” কর্ণা কহিল, "কেন জান না।” কেন জানে না সে কথা মহেন্দু ঠিক করিয়া বলিতে পারিল না, তবে নরেন্দ্রের সন্ধান করিতে স্বীকার করিল। কিন্তু নরেন্দ্রের অধিক সন্ধান করিতে হইল না। নরেন্দ্র কেমন করিয়া তাহার সন্ধান পাইয়াছে। একদিন কর্ণা যখন রজনীর নিকট দুই রাজার গল্প করিতে ভারি ব্যস্ত ছিল, এমন সময়ে ডাকে তাহার নামে একখানি চিঠি আসিল । এ পযন্তও তাহার বয়সে সে কখনও নিজের নামের চিঠি দেখে নাই। এ চিঠি পাইয়া করণোর মহা আহাদ হইল, সে জানিত চিঠি পাওয়া এক মহা কাণ্ড, রাজা--রাজড়াদেরই অধিকার। আসত চিঠি ছিড়িয়া খালিতে তাহার কেমন মায়া হইতে লাগিল, আগে সকলকে দেখাইয়া অনেক অনিচ্ছার সহিত লেফাফা খলিল, চিঠি পড়িল, চিঠি পড়িয়া তাহার মুখ শাখাইয়া গেল, থর থর করিয়া কাঁপিতে কপিতে চিঠি মহেন্দ্রকে मिळ् । নরেন্দ্র লিখিতেছেন— ‘তিন শত টাকা আমার প্রয়োজন, না পাইলে আমার সবনাশ, না পাইলে আমি আত্মহত্যা করিয়া মরিব । ইতি।’ কর্ণা কাঁদিয়া উঠিল। কর্ণা মহেন্দুকে জিজ্ঞাসা করিল, “কী হবে।” মহেন্দু কহিল কোনো ভাবনা নাই, এখনি টাকা লইয়া সে যাইতেছে। নরেন্দ্রের ঠিকানা চিঠিতে লিখা ছিল, সেই ঠিকানা-উদ্দেশ্যে মহেন্দু চলিল। 曼 রয়োবিংশ পরিচ্ছেদ মহেন্দু দেশে আসিয়া অবধি মোহিনীর বড়ো খোঁজ-খপর পাওয়া যায় না। মহেন্দ্র তো তাহার কোনো কারণ খংজিয়া পায় না—‘একদিন কী অপরাধ করিয়াছিলাম তাহার জন্য কি দুই জনের এ জন্মের মতো ছাড়াহাড়ি হইবে ? সে মনে করিল হয়তো মোহিনী রাগ করিয়াছে, হয়তো মোহিনী তাহাকে ভালোবাসে না। পাঠকেরা শুনিলে বোধ হয় সন্তুষ্ট হইবেন না যে, মহেন্দু এখনও মোহিনীকে ভালোবাসে। কিন্তু মহেন্দ্রের সে ভালোবাসার পক্ষে যে যজি কত, তাহা শুনিলে কাহারও আর