প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:গল্পগুচ্ছ (চতুর্থ খণ্ড).pdf/২১৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ᎼᏌᏌ গল্পগুচ্ছ গহে ফিরিবার সময় যুবরাজকে কহিলেন, “দাদা, আজ আমার যথার্থই পরাজয় হইয়াছে।” রাজধর যে কেমন করিয়া জিতিলেন তাহা কেহ বুঝিতে পারিল না। ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ রাজধর পরীক্ষাদিনের পুবে যখন কমলাদেবীর সাহায্যে ইন্দ্রকুমারের অস্মশালায় প্রবেশ করিয়াছিলেন, তখনই ইন্দ্রকুমারের তরুণ হইতে ইন্দ্রকুমারের নামাঙ্কিত একটি তাঁর নিজের তাণে তুলিয়া লইয়াছিলেন এবং নিজের নামাঙ্কিত তাঁর ইন্দ্রকুমারের তন্মণে এমন পথানে এমনভাবে স্থাপিত করিয়াছিলেন, যাহাতে সেইটিই সহজে ও সবাগ্রে তাঁহার হাতে উঠিতে পারে। রাজধর যাহা মনে করিয়াছিলেন তাহাই ঘটিল। ইন্দ্রকুমার দৈবক্রমে রাজধরের পথাপিত তাঁরই তুলিয়া লইয়াছিলেন—সেই জন্যই পরীক্ষাস্থলে এমন গোলমাল হইয়াছিল। কালক্রমে যখন সমস্ত শান্তভাব ধারণ করিল তখন ইন্দ্রকুমার রাজধরের চাতুরী কতকটা বঝিতে পারিয়াছিলেন, কিন্তু সে কথা আর কাহাকেও কিছল বলিলেন না— কিন্তু রাজধরের প্রতি তাঁহার ঘণা আরও বিগণে বাড়িয়া উঠিল। ইন্দ্রকুমার মহারাজের কাছে বার বার বলিতে লাগিলেন, “মহারাজ, আরাকানপতির সহিত যন্ধে আমাদিগকে পাঠান।” মহারাজ অনেক বিবেচনা করিতে লাগিলেন। আমরা যে সময়ের গল্প বলিতেছি সে আজ প্রায় তিন শো বৎসরের কথা । তখন ত্রিপরা স্বাধীন ছিল এবং চট্টগ্রাম ত্রিপরার অধীন ছিল। আরাকান চট্টগ্রামের সংলগ্ন। আরাকানপতি মাঝে মাঝে চট্টগ্রাম আক্ৰমণ করিতেন। এই জন্য আরাকানের সঙ্গে ত্রিপরার মাঝে মাঝে বিবাদ বাধিত । অমরমাণিক্যের সহিত আরাকানপতির সম্প্রতি সেইরাপ একটি বিবাদ বাধিয়াছে। যন্ধের সম্ভাবনা দেখিয়া ইন্দ্রকুমার যন্ধে যাইবার প্রস্তাব করিয়াছেন। রাজা অনেক বিবেচনা করিয়া অবশেষে সম্মতি দিলেন। তিন ভাইয়ে পাঁচ হাজার করিয়া পনেরো হাজার সৈন্য লইয়া চট্টগ্রামঅভিমুখে চলিলেন। ইশা খাঁ সৈন্যাধ্যক্ষ হইয়া গেলেন। কর্ণফুলি নদীর পশ্চিম ধারে শিবির পথাপিত হইল। আরাকানের সৈন্য কতক নদীর ও পারে কতক এ পারে। আরাকানপতি অলপসংখ্যক সৈন্য লইয়া নদীর পরপারে আছেন। এবং তাঁহার বাইশ হাজার সৈন্য যন্ধের জন্য প্রস্তুত হইয়া আক্রমণের প্রতীক্ষায় নদীর পশ্চিম পারে অপেক্ষা করিয়া আছে। যন্ধের ক্ষেত্র পবতময়। সমুখা-সমখি দই পাহাড়ের উপর দুই পক্ষের সৈন্য পথাপিত হইয়াছে। উভয় পক্ষ যদি যন্ধে করিতে অগ্রসর হয় তবে মাঝের উপত্যকায় দই সৈন্যের সংঘষ উপস্থিত হইতে পারে। পবতের চারি দিকে হরীতকী আমলকী শাল ও গাম্ভারীর বন। মাঝে মাঝে গ্রামবাসীদের শান্য গহ পড়িয়া রহিয়াছে, তাহারা ঘর ছাড়িয়া পলাইয়াছে। মাঝে মাঝে শস্যক্ষেত্র। পাহাড়েরা সেখানে ধান কাপাস তরমজ আল একত্রে রোপণ করিয়া গিয়াছে। আবার এক-এক জায়গায়