প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:গল্পগুচ্ছ (চতুর্থ খণ্ড).pdf/২১৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


মফুেট పెtfషి জমিয়া চাষার এক-একটা পাহাড় সমস্ত দগধ করিয়া কালো করিয়া রাখিয়াছে, বর্ষার পর সেখানে শস্যবপন হইবে। দক্ষিণে কণফলি, বামে দগম পবত। এইখানে প্রায় এক সপ্তাহকাল উভয় পক্ষ পরস্পরের আক্রমণ-প্রতীক্ষায় বসিয়া আছে। ইন্দ্রকুমার যুদ্ধের জন্য অস্থির হইয়াছেন, কিন্তু যবেরাজের ইচ্ছা বিপক্ষ পক্ষেরা আগে আসিয়া আক্ৰমণ করে। সেই জন্য বিলম্বব করিতেছেন–কিন্তু তাহারাও নড়িতে চাহে না, সিথর হইয়া আছে। অবশেষে আক্ৰমণ করাই পিথর হইল । সমস্ত রাত্রি আক্রমণের আয়োজন চলিতে লাগিল। রাজধর প্রস্তাব করিলেন, "দাদা, তোমরা দুইজনে তোমাদের দশ হাজার সৈন্য লইয়া আক্ৰমণ করো। আমার পাঁচ হাজার হাতে থাক, আবশ্যকের সময় কাজে লাগিবে।" ইন্দ্রকুমার হাসিয়া বলিলেন, “রাজধর তফাতে থাকিতে চান।” যবেরাজ কহিলেন, “না, হাসির কথা নয়। রাজধরের প্রস্তাব আমার ভালো বোধ হইতেছে।” ইশা খাঁও তাহাই বলিলেন । রাজধরের প্রস্তাব গ্রাহ্য হইল । যবেরাজ ও ইন্দ্রকুমারের অধীনে দশ হাজার সৈন্য পাঁচ ভাগে ভাগ করা হইল। প্রত্যেক ভাগে দুই হাজার করিয়া সৈন্য রহিল। পিথর হইল, একেবারে শত্রবাহের পাঁচ জায়গায় আক্ৰমণ করিয়া ব্যহেভেদ করিবার চেষ্টা করা হইবে। সব প্রথম সারে ধানকীরা রহিল, তার পরে তলোয়ার বশ প্রভৃতি লইয়া অন্য পদাতিকেরা রহিল এবং সবশেষে অশ্ববারোহীরা সার বাঁধিয়া চলিল । আরাকানের মগ সৈন্যেরা দীঘ এক বাঁশবনের পশ্চাতে বহে রচনা করিয়াছিল। প্রথম দিনের আক্রমণে কিছুই হইল না। ত্রিপুরার সৈন্য ব্যহ ভেদ করিতে পারিল ना । সপ্তম পরিচ্ছেদ দ্বিতীয় দিন সমস্তদিন নিম্ফল যন্ধে -অবসানে রাত্রি যখন নিশীথ হইল, যখন উভয় পক্ষের সৈন্যেরা বিশ্রামলাভ করিতেছে, দই পাহাড়ের উপর দই শিবিরে পথানে সখানে কেবল এক-একটা আগন জনলিতেছে, শগালেরা রণক্ষেত্রে ছিন্ন হস্ত পদ ও মত দেহের মধ্যে থাকিয়া থাকিয়া দলে দলে কাঁদিয়া উঠিতেছে— তখন শিবিরের দই ক্লোশ দরে রাজধর তাঁহার পাঁচ হাজার সৈন্য লইয়া সারবন্দী নৌকা বধিয়া কর্ণফুলি নদীর উপরে নৌকার সেতু নিমাণ করিয়াছেন। একটি মশাল নাই, শব্দ নাই, সেতুর উপর দিয়া অতি সাবধানে সৈন্য পার করিতেছেন। নীচে দিয়া যেমন অন্ধকারে নদীর স্রোত বহিয়া যাইতেছে তেমনি উপর দিয়া মানুষের সোত অবিচ্ছিন্ন বহিয়া যাইতেছে। নদীতে ভাঁটা পড়িয়াছে। পরপারের পবতময় দগম পাড় দিয়া সৈন্যেরা অতি কটে উঠিতেছে। রাজধরের প্রতি সৈন্যাধ্যক্ষ ইশা খাঁর আদেশ ছিল যে, রাজধর রাত্ৰিযোগে তাঁহার সৈন্যদের লইয়া নদী বাহিয়া উত্তর দিকে ষাল্লা করিবেন—তীরে উঠিয়া বিপক্ষ সৈন্যদের পশ্চাভাগে লঙ্কোয়িত থাকিবেন। প্রভাতে যবেরাজ ও ইন্দ্রকুমার সম্মখে ভাগে আক্ৰমণ করিবেন—বিপক্ষেরা যুদ্ধে প্রান্ত