প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:গল্পগুচ্ছ (চতুর্থ খণ্ড).pdf/২১৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ఏఏ0 গল্পগুচ্ছ হইলে পর সংকেত পাইলে রাজধর সহসা পশ্চাৎ হইতে আক্ৰমণ করিবেন। সেইজন্যই এত নৌকার বন্দোবস্ত হইয়াছে। কিন্তু রাজধর ইশা খাঁর আদেশ কই পালন করিলেন ? তিনি তো সৈন্য লইয়া নদীর পরপারে উত্তীণ হইলেন। তিনি আরএক কৌশল অবলম্বন করিয়াছেন, কিন্তু কাহাকেও কিছু বলেন নাই। তিনি নিঃশব্দে আরাকানের রাজার শিবিরাভিমুখে যাত্রা করিয়াছেন। চতুদিকে পর্বত, মাঝে উপত্যকা, রাজার শিবির তাহারই মাঝখানে অবস্থিত। শিবিরে নিভয়ে সকলে নিদ্রিত। মাঝে মাঝে অগ্নিশিখা দেখিয়া দরে হইতে শিবিরের প্রথান-নির্ণয় হইতেছে। পবতের উপর হইতে বড়ো বড়ো বনের ভিতর দিয়া রাজধরের পাঁচ হাজার সৈন্য অতি সাবধানে উপত্যকার দিকে নামিতে লাগিল— বষাকালে যেমন পবতের সবাঙ্গ দিয়া গাছের শিকড় ধাইয়া ঘোলা হইয়া জলধারা নামিতে থাকে—তেমনি পাঁচ সহস্ৰ মানুষ, পাঁচ সহস্র তলোয়ার, অন্ধকারের ভিতর দিয়া গাছের নীচে দিয়া সহস্র পথে আকিয়া-বাঁকিয়া যেন নিম্নাভিমুখে ঝরিয়া পড়িতে লাগিল। কিন্তু শব্দ নাই, মন্দ গতি । সহসা পাঁচ সহস্ৰ সৈন্যের ভীষণ চীৎকার উঠিল— ক্ষুদ্র শিবির যেন বিদীর্ণ হইয়া গেল এবং তাহার ভিতর হইতে মানুষগলা কিলকিল করিয়া বাহির হইয়া পড়িল। কেহ মনে করিল দঃস্বপন, কেহ মনে করিল প্রেতের উৎপাত, কেহ কিছুই মনে করিতে পারিল না। রাজা বিনা রক্তপাতে বন্দী হইলেন। রাজা বলিলেন, “আমাকে বন্দী করিলে বা বধ করিলে যন্ধের অবসান হইবে না। আমি বন্দী হইবামাত্র সৈন্যেরা আমার ভাই হামচুপামকে রাজা করিবে। যন্ধে যেমন চলিতেছিল তেমনি চলিবে । আমি বরঞ্চ পরাজয় স্বীকার করিয়া সন্ধিপত্র লিখিয়া দিই, আমার বন্ধন মোচন করিয়া দিন।” রাজধর তাহাতেই সম্মত হইলেন। আরাকানরাজ পরাজয় স্বীকার করিয়া সন্ধিপত্র লিখিয়া দিলেন। একটি হস্তিদন্ত-নিমিত মুকুট, পাঁচ শত মণিপুরি ঘোড়া ও তিনটে বড়ো হাতি উপহার দিলেন। এইরুপ নানা ব্যবস্থা করিতে করিতে প্রভাত হইল—বেলা হইয়া গেল। সদীঘ রাত্রে সমস্তই ভূতের ব্যাপার বলিয়া মনে হইয়াছিল, দিনের বেলা আরাকানের সৈন্যগণ আপনাদের অপমান স্পষ্ট অনুভব করিতে পারিল। চারি দিকে বড়ো বড়ো পাহাড় সযোলোকে সহস্রচক্ষ হইয়া তাহাদিগের দিকে তাকাইয়া নিঃশব্দে দাঁড়াইয়া রহিল। রাজধর আরাকানপতিকে কহিলেন, “আর বিলম্ব নয়, শীঘ্ৰ যন্ধে নিবারণ করিবার এক আদেশপত্র আপনার সেনাপতির নিকট পাঠাইয়া দিন। ও পরে এতক্ষণ সুমার যন্ধে বাধিয়া গেছে।” কতকগুলি সৈন্য-সহিত দমতের হস্তে আদেশপত্র পাঠানো হইল। অষ্টম পরিচ্ছেদ অতি প্রত্যুষেই, অন্ধকার দরে হইতে না হইতেই, যবেরাজ ও ইন্দ্রকুমার দুই ভাগে পশ্চিমে ও পাবে মগদিগকে আক্ৰমণ করিতে চলিয়াছেন । সৈন্যের অলপতা লইয়া রপনারায়ণ হাজারি দুঃখ করিতেছিলেন। তিনি বলিতেছিলেন – আর পাঁচ হাজার লইয়া আসিলেই ভাবনা ছিল না। ইন্দ্রকুমার বলিলেন, “ত্রিপরারির অনুগ্রহ যদি