প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:গল্পগুচ্ছ (চতুর্থ খণ্ড).pdf/২৩৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


పి008 গল্পগছে বাংলাদেশে গল্পগুচ্ছ পড়বার যাগের অবসান হয় নি কি ? অলপ বয়সে বাংলাদেশের পল্লীপ্রকৃতির সঙ্গে যখন আমার চোখে চোখে পরিচয় হয়েছিল তখন প্রতিদিন আমার মনে যে আনন্দের ধারা উদবারিত হয়েছিল তাই সহজে প্রবাহিত হয়েছিল ঐ নিরলংকৃত সরল গল্পগুলির ভিতর দিয়ে। আমার নিজের বিশ্বাস এই আনন্দবিস্মিত দটির ভিতর দিয়ে বাংলাদেশকে দেখা আমাদের সাহিত্যে আর কোথাও নেই। বাংলা পল্লীর সেই অন্তরঙ্গ আতিথ্য থেকে সরে এসেছি, তাই সাহিত্যের সেই শ্যামছায়াশীতল নিভৃত বাঁথিকার ভিতর দিয়ে আমার বর্তমান মোটর-চলা কলম আর কোনোদিন চলতেই পারবে না। আবার যদি শিলাইদহে বাসা উঠিয়ে নিয়ে যেতে পারি তা হলে মন হয়তো আবার সেই স্নিগ্ধ সরলতার মধ্যে প্রবেশ করতে পারবে। ১১ জন ১৯৩৭ —রবীন্দ্রনাথ। চিঠিপত্র ৯ লোকে অনেক সময়ই আমার সম্প্রবন্ধে সমালোচনা করে ঘরগড়া মত নিয়ে। বলে, উনি তো ধনীঘরের ছেলে। ইংরেজিতে যাকে বলে রপোর চামচে, মদখে নিয়ে জন্মেছেন। পল্লীগ্রামের কথা উনি কী জানেন ?? আমি বলতে পারি আমার থেকে কম জানেন তাঁরা, যাঁরা এমন কথা বলেন। কী দিয়ে জানেন তাঁরা ? অভ্যাসের জড়তার ভিতর দিয়ে জানা কি যায় ? যথার্থ জানায় ভালোবাসা। কুড়ির মধ্যে যে কীট জন্মেছে সে জানে না ফলকে। জানে, বাইরে থেকে যে পেয়েছে আনন্দ। আমার যে নিরন্তর ভালোবাসার দটি দিয়ে আমি পল্লীগ্রামকে দেখেছি তাতেই তার হদয়ের বার খালে গিয়েছে। আজ বললে অহংকারের মতো শোনাবে, তব বলব আমাদের দেশের খুব অলপ লেখকই এই রসবোধের চোখে বাংলাদেশকে দেখেছেন। আমার রচনাতে পল্লীপরিচয়ের যে অন্তরঙ্গতা আছে, কোনো বাঁধাবলি দিয়ে তার সত্যতাকে উপেক্ষা করলে চলবে না। সেই পল্লীর প্রতি যে একটা আনন্দময় আকর্ষণ আমার যৌবনের মুখে জাগ্রত হয়ে উঠেছিল, আজও তা যায় নি। ১৮ ফাল্গন మరి 8ఆ —রবীন্দ্রনাথ। কবির উত্তর। প্রবাসী, বৈশাখ ১৩৪৭ আমার রচনায় যাঁরা মধ্যবিত্ততার সন্ধান করে পান নি বলে নালিশ করেন তাঁদের কাছে আমার একটা কৈফিয়ত দেবার সময় এল। ... এক সময়ে মাসের পর মাস আমি পল্লীজীবনের গল্প রচনা করে এসেছি। আমার বিশ্বাস এর পবে বাংলা সাহিত্যে পল্লীজীবনের চিত্র এমন ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ হয় নি। তখন মধ্যবিত্ত শ্রেণীর লেখকের অভাব ছিল না, তাঁরা প্রায় সকলেই প্রতাপসিংহ বা প্রতাপাদিত্যের ধ্যানে নিবিষ্ট ছিলেন। আমার আশঙ্কা হয় এক সময়ে গল্পগুচ্ছ বজোয়া লেখকের সংসগদোষে অসাহিত্য বলে অপশ্য হবে। এখনি যখন আমার লেখার শ্রেণীনিণায় করা হয় তখন এই লেখাগুলির উল্লেখমাত্র হয় না, যেন ওগুলির অস্তিত্বই নেই। জাতে-ঠেলাঠেলি আমাদের রক্তের মধ্যে আছে, তাই ভয় হয় এই আগাছাটাকে উপড়ে ফেলা শক্ত হবে । [ চৈত্র ১৩৪৭ ] —রবীন্দ্রনাথ। সাহিত্যবিচার। সাহিত্যের বরাপ