প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:গল্পগুচ্ছ (চতুর্থ খণ্ড).pdf/২৩৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গ্রন্থপরিচয় SOO& আমি একটা কথা বঝেতে পারি নে, আমার গল্পগুলিকে কেন গাঁতথমী বলা হয়। এগুলি নেহাত বাস্তব জিনিস। যা দেখেছি, তাই বলেছি। ভেবে বা কল্পনা করে আর-কিছু বলা যেত, কিন্তু তা তো করি নি আমি। ( ২২ মে ১৯৪১ ] —রবীন্দ্রনাথের উত্তি। আলাপচারী রবীন্দ্রনাথ অসংখ্য ছোটো ছোটো লিরিক লিখেছি, বোধ হয় পথিবীর অন্য কোনো কবি এত লেখেন নি–কিন্তু আমার অবাক লাগে তোমরা যখন বল যে, আমার গল্পগুচ্ছ গীতধৰ্মী। এক সময়ে ঘরে বেড়িয়েছি বাংলার নদীতে নদীতে, দেখেছি বাংলার পল্লীর বিচিত্র জীবনযাত্রা। একটি মেয়ে নেীকো করে শ্বশুরবাড়ি চলে গেল, তার বন্ধরো ঘাটে নাইতে নাইতে বলাবলি করতে লাগল, আহা যে পাগলাটে মেয়ে, শ্বশরবাড়ি গিয়ে ওর কী না জানি দশা হবে।" কিংবা ধরো একটা ক্ষ্যাপাটে ছেলে সারা গ্রাম দটেলমির চোটে মাতিয়ে বেড়ায়, তাকে হঠাৎ একদিন চলে যেতে হল শহরে তার মামার কাছে।" এইটুকু চোখে দেখেছি, বাকিটা নিয়েছি কল্পনা করে। একে কি তোমরা গানজাতীয় পদাৰ্থ বলবে? আমি বলব আমার গলেপ বাস্তবের অভাব কখনো ঘটে নি। যা-কিছু লিখেছি নিজে দেখেছি, মমে অনুভব করেছি, সে আমার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা। দেখেছি একজন পরষেকে নিয়ে দুজন মেয়ের রেষারেষি হানাহানি, দেখেছি পত্রবধর পরে মার সতীর বিদ্বেষ, আমার চোখের বালি নৌকাডুবি পড়লে তা বুঝতে পারবে। ...কল্পনায় গড়েছি, কবিতায় রচনা করেছি মানসসন্দেরীকে। এ হল কবিতার কথা, কিন্তু গল্পের উপাদান এ নয়। গল্পে যা লিখেছি তার মলে আছে আমার অভিজ্ঞতা, আমার নিজের দেখা। তাকে গীতধমনী বললে ভুল করবে। কঙ্কাল কি ক্ষধিত পাষাণকে হয়তো খানিকটা বলতে পারো, কারণ সেখানে কল্পনার প্রাধান্য, কিন্তু তাও পরোপুরি নয়। তোমরা আমার ভাষার কথা বলো, বলো যে গদ্যেও আমি কবি। আমার ভাষা যদি কখনো আমার গল্পাংশকে অতিক্ৰম ক’রে স্বতন্ত্র মাল্য পায়, সেজন্য আমাকে দোষ দিতে পারো না। এর কারণ, বাংলা গদ্য আমার নিজেকেই গড়তে হয়েছে। ভাষা ছিল না, পবে পবে স্তরে স্তরে তৈরি করতে হয়েছে আমাকে। আমার প্রথম দিককার গদ্যে, যেমন ‘কাব্যের উপেক্ষিতা, কেকাধবনি', এসব প্রবন্ধে, পদ্যের ঝোঁক খুব বেশি ছিল— ওসব যেন অনেকটা গদ্য-পদ্য গোছের। গদ্যের ভাষা গড়তে হয়েছে আমার গল্পপ্রবাহের সঙ্গে সঙ্গে। মোপাসাঁর মতো যেসব বিদেশী লেখকের কথা তোমরা প্রায়ই বলো, তাঁরা তৈরি ভাষা পেয়েছিলেন। লিখতে লিখতে ভাষা গড়তে হলে তাঁদের কী দশা হত জানি নে। ভেবে দেখলে বঝেতে পারবে, আমি যে ছোটো ছোটো গল্পগুলো লিখেছি, বাঙালি সমাজের বাস্তব জীবনের ছবি তাতেই প্রথম ধরা পড়ে । [ মে ১৯৪১ ] —রবীন্দ্রনাথ। সাহিত্য, গান ও ছবি। প্রবাসী, আষাঢ় ১৩৪৮ আমি একদা যখন বাংলাদেশের নদী বেয়ে তার প্রাণের লীলা অনুভব করেছিলাম তখন আমার অন্তরাত্মা আপন আনন্দে সেইসকল সংখদঃখের বিচিত্র আভাস অন্তঃকরণের মধ্যে সংগ্রহ করে মাসের পর মাস বাংলার যে পল্লীচিত্র রচনা করেছিল,