প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:গল্পগুচ্ছ (চতুর্থ খণ্ড).pdf/২৪৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গ্রন্থপরিচয় SOసిd ভূমিকার শেষ অংশের তুলনা— ছেলেবেলা', তৃতীয় অধ্যায়, শেষ অংশ। সমাপিত আমাদের ঘাটে একটি নৌকো লেগে আছে, এবং এখানকার অনেকগুলি "জনপদবধ তার সম্মখে ভিড় করে দাঁড়িয়েছে। বোধ হয় একজন কে কোথায় যাচ্ছে এবং তাকে বিদায় দিতে সবাই এসেছে। অনেকগুলি কচি ছেলে অনেকগুলি ঘোমটা এবং অনেকগুলি পাকা চুল একত্র হয়েছে। কিন্তু ওদের মধ্যে একটি মেয়ে আছে, তার প্রতিই আমার মনোযোগটা সবাপেক্ষা আকৃষ্ট হচ্ছে। বোধ হয় বয়সে বারো-তেরো হবে, কিন্তু একট হাটপাট হওয়াতে চোন্দ-পনেরো দেখাচ্ছে । মুখখানি বেড়ে। বেশ কালো অথচ বেশ দেখতে। ছেলেদের মতো চুল ছাঁটা, তাতে মুখটি বেশ দেখাচ্ছে। এমন বন্ধিমান এবং সপ্রতিভ এবং পরিকার সরল ভাব। একটা ছেলে কোলে করে এমন নিঃসংকোচ কৌতুহলের সঙ্গে আমাকে চেয়ে চেয়ে দেখতে লাগল। তার মুখখানিতে কিছ যেন নিরবন্ধিতা কিবা অসরলতা কিবা অসম্পণেতা নেই। বিশেষত আধা ছেলে আধা মেয়ের মতো হয়ে আরো একটা বিশেষ মনোযোগ আকর্ষণ করে। ছেলেদের মতো আত্মসম্বন্ধে সম্পণে অচেতন ভাব এবং তার সঙ্গে মাধরী মিশে ভারি নতুন রকমের একটি মেয়ে তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশে যে এরকম ছাঁদের জনপদবধ দেখা যাবে এমন প্রত্যাশা করি নি। দেখছি এদের বংশটাই তেমন বেশি লাজক নয়। একজন মেয়ে ডাঙায় দাঁড়িয়ে রৌদ্রে চুল এলিয়ে দশাঙ্গলি-বারা জটা ছাড়াচ্ছে এবং নৌকোর আর-একটি রমণীর সঙ্গে উচ্চৈঃস্বরে ঘরকন্নার আলাপ হচ্ছে। শোনা গেল তার একটিমাত্র ‘মায়্যা, অন্য ‘ছাওয়াল নাই, কিন্তু সে মেয়েটির বাধিসদ্ধি নেই—“কারে কী কয় কারে কী হয়— আপন পর জ্ঞান নেই’— আরো অবগত হওয়া গেল গোপাল সা’র জামাইটি তেমন ভালো হয় নি, মেয়ে তার কাছে যেতে চায় না। অবশেষে ধখন যাত্রার সময় হল তখন দেখলাম আমার সেই চুলছাটা গোলগাল হাতে-বালা-পরা উজল-সরলমুখশ্ৰী মেয়েটিকে নৌকোয় তুললে। বকলম বেচারা বোধ হয় বাপের বাড়ি থেকে স্বামীর ঘরে যাচ্ছে। নোঁকো যখন ছেড়ে দিলে মেয়েরা ডাঙায় দাঁড়িয়ে চেয়ে রইল, দই-একজন অচিল দিয়ে ধীরে ধীরে নাক চোখ মাছতে লাগল। একটি ছোটো মেয়ে, খাব এটে চুল বাঁধা, একটি বর্ষীয়সীর কোলে চড়ে তার গলা জড়িয়ে তার কাঁধের উপর মাথাটি রেখে নিঃশব্দে কাঁদতে লাগল। ষে গেল সে বোধ হয় এ বেচারির দিদিমণি, এর পতুলখেলায় বোধ হয় মাঝে মাঝে যোগ দিত, বোধ হয় দন্টমি করলে মাঝে মাঝে সে একে ঢিপিয়ে দিত। সকালবেলাকার রৌদ্র এবং নদীতীর এবং সমস্ত এমন গভীর বিষাদে পণে বোধ হতে লাগল। সকালবেলাকার একটা অত্যন্ত হতাশ্বাস করণ রাগিণীর মতো। মনে হল সমস্ত পথিবীটা এমন সন্দের অথচ এমন বেদনায় পরিপণ! এই অজ্ঞাত ছোটো মেয়েটির ইতিহাস আমার যেন অনেকটা পরিচিত হয়ে গেল। সাজাদপুর, ৪ জুলাই ১৮৯১ -व्रक्षीणप्टनाथ ! झिम्च्ह्य