প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:গল্পগুচ্ছ (চতুর্থ খণ্ড).pdf/২৪৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গ্রন্থপরিচয় Soసిa করেই এই গল্পটা লিখেছিলাম। ওই বোটে বাংলাদেশের গ্রামের এমন একটা সজীব ছবি দেখেছি যা অনেকে দেখে নি। – রবীন্দ্রনাথের উন্তি। মংপতে রবীন্দ্রনাথ মেঘ ও রৌদ্র ছিন্নপত্র গ্রন্থ হইতে দ্বিতীয় উদধতি, ২৭ জন ১৮৯৪ তারিখে লেখা চিঠির অংশ দ্রষ্টব্য, পববতী পা ১০০১। ক্ষধিত পাষাণ ক্ষধিত পাষাণের কল্পনাও কপেলোক থেকে আমদানি। ৭ আশিবন, ১৩৩৮ – রবীন্দ্রনাথ। চিঠিপত্র ৯ সতেরো বছরে পড়লাম যখন . . . এই সময়ে আমার বিলেত যাওয়া ঠিক হয়েছে । আর সেই সঙ্গে পরামশ হল জাহাজে চড়বার আগে মেজদাদার সঙ্গে গিয়ে আমাকে বিলিতি চাল-চলনের গোড়াপত্তন করে নিতে হবে। তিনি তখন জজিয়তি করছেন আমেদাবাদে • • • আমেদাবাদে একটা পরোনো ইতিহাসের ছবির মধ্যে আমার মন উড়ে বেড়াতে লাগল। জজের বাসা ছিল শাহিবাগে, বাদশাহি আমলের রাজবাড়িতে। দিনের বেলায় মেজদাদা চলে যেতেন কাজে, বড়ো বড়ো ফাঁকা ঘর হা হাঁ করছে, সমস্ত দিন ভূতে-পাওয়ার মতো ঘরে বেড়াচ্ছি। সামনে প্রকাণ্ড চাতাল, সেখান থেকে দেখা যেত সাবরমতী নদী হাঁটজেল লুটিয়ে নিয়ে একে বেকে চলেছে বালির মধ্যে। চাতালটার কোথাও কোথাও চৌবাচ্ছার পাথরের গাঁথনিতে যেন খবর জমা হয়ে আছে বেগমদের সনানের আমিীরআনার । কলকাতায় আমরা মানযে, সেখানে ইতিহাসের মাথাতোলা চেহারা কোথাও দেখি নি। আমাদের চাহনি খুব কাছের দিকের বেটে সময়টাতেই বাঁধা। আমেদাবাদে এসে এই প্রথম দেখলাম চলতি ইতিহাস থেমে গিয়েছে, দেখা যাচ্ছে তার পিছন-ফেরা বড়োঘরোআনা। তার সাবেক দিনগুলো যেন যক্ষের ধনের মতো মাটির নীচে পোঁতা। আমার মনের মধ্যে প্রথম আভাস দিয়েছিল ক্ষধিত পাষাণের গলে্পর – সে আজ কত শত বৎসরের কথা। নহবতখানায় বাজছে রোশনচোঁকি দিনরাত্রে অষ্টপ্রহবের রাগিণীতে, রাস্তায় তালে তালে ঘোড়ার খবরের শব্দ উঠছে, ঘোড়সওয়ার তুকি ফৌজের চলছে কুচকাওয়াজ, তাদের বশর্ণর ফলায় রোদ উঠছে ঝকঝকিয়ে। বাদশাহি দরবারের চার দিকে চলেছে সবনেশে কানাকানি ফসফাস। অন্দরমহলে খোলা তলোয়ার হাতে হাবসি খোজারা পাহারা দিচ্ছে। বেগমদের হামামে ছটছে গোলাপজলের ফোয়ারা, উঠছে বাজবন্ধ-ক'কনের ঝনঝনি। আজ স্থির দাঁড়িয়ে শাহিবাগ, ভুলে-যাওয়া গল্পের মতো, তার চার দিকে কোথাও নেই সেই রঙ, নেই সেই-সব ধৰনি—শকেনো দিন, রস-ফরিয়ে-যাওয়া রান্ত্রি। 1 পরোনো ইতিহাস ছিল তার হাড়গুলো বের করে; তার মাথার খলিটা আছে, মুকুট নেই। তার উপরে খোলস মাখোশ পরিয়ে একটা পরোপুরি মতি মনের