প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:গল্পগুচ্ছ (চতুর্থ খণ্ড).pdf/২৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


**** * * গল্পগাছ হয়তো সে খবে সেয়ানা নয়, সেজন্যে ভাববেন না।” দু-চার কথায় সমস্যার মীমাংসা হয় নি। সেদিনকার মতো একটা আধাখেচড়া निच्छखि इङन । অময়ৰাব লোকটি মাঝারি সাইজের, শ্যামবণ, দেহটি রোগা, কপাল চওড়া, মাথার সামনেদিককার চুল ফরেফরে হয়ে এসেছে। মুখটি প্রিয়দর্শন, দেখে বোঝা বার কারও সঙ্গে শয়তা করবার অবকাশ পান নি। চোখদুটিতে ঠিক অন্যমনস্কতা নয়, যাকে বলা যেতে পারে দরেমনস্কতা— অর্থাৎ রাস্তায় চলবার সময় ওঁকে নিরাপদ রাখবার দায়িত্ব বাইরের লোকদেরই। বন্ধ ওঁর খুব অলপই, কিন্তু যে কজন আছে তারা ওঁর সম্পবন্ধে খুব উচ্চ আশা রাখে, আর বাকি যে-সব চেনা লোক তারা নাক সিটকে ওঁকে বলে হাইব্রাউ। কথাবাত অলপ বলেন, সেটাকে লোকে মনে করে হৃদ্যতারই বলপতা। মোটের উপর গুর জীবনযাত্রায় জনতা খুব কম। তাঁর সাইকলজির পক্ষে আরামের বিষয় এই যে, দশজনে ওঁকে কণী ভাবে সে উনি জানেনই না । অভীকের কাছে বিভা আজ তাড়াতাড়ি যে আটশো টাকা এনে দিয়েছিল সে একটা অন্ধ আবেগে মরিয়া হয়ে। বিভার নিয়মনিষ্ঠার প্রতি তার মামার বিশ্বাস অটল। কখনও তার ব্যত্যয় হয় নি। মেয়েদের জীবনে নিয়মের প্রবল ব্যতিক্রমের ঝটকা হঠাৎ কোন দিক থেকে এসে পড়ে, তিনি বিষয়ী লোক সেটা কল্পনাও করতে পারেন নি। এই অকস্মাৎ আকাজের সমস্ত শাসিত ও লজ্জা মনের মধ্যে সপষ্ট করে দেখে নিয়েই এক মহত্যের ঝড়ের ঝাপটে বিভা উপস্থিত করেছিল তার উৎসগ" অভীকের কাছে। প্রত্যাখ্যাত সেই দান আবার নিয়মের পিলপেগাড়ির মধ্যে ফিরে এসেছে। বতমান ক্ষেত্রে ভালোবাসার সেই সপধাবেগ তার মনে নেই। স্বাধিকার লঙঘন করে কাউকে টাকা ধার দেবার কথা সে সাহস করে মনে আনতে পারলে না । তাই বিভা পাল্যান করেছে, মায়ের কাছ থেকে উত্তরাধিকারসত্রে পাওয়া দামী গয়না বেচে যা পাবে সেই টাকা অমরকে উপলক্ষ করে দেবে আপন স্বদেশকে । বিভার কাছে যে-সব ছেলেমেয়ে মানুষ হচ্ছে, ও তাদের পড়ায় সাহায্য করে। আজ রবিবার। খাওয়ার পরে এতক্ষণ ওর ক্লাস বসেছিল। সকাল-সকাল দিল ছয়টি। বাক্স বের করে মেঝের উপর একখানা কাঁথা পেতে তাতে একে একে বিভা গয়না সাজাচ্ছিল। ওদের পরিবারের পরিচিত জহনরিকে ডেকে পাঠিয়েছে। এমন সময় সিড়িতে পায়ের শব্দ শনতে পেল অভৗকের। প্রথমেই গয়নাগলো তাড়াতাড়ি লকোবার ঝোঁক হল, কিন্তু যেমন পাতা ছিল তেমনি রেখে দিলে। কোনো কারণেই অভাঁকের কাছে কোনো কিছু চাপা দেবে, সে ওর স্বভাবের বিরুদ্ধে । অতীক ঘরের মধ্যে প্রবেশ করে খানিক ক্ষণ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখল, বৰল ব্যাপারখানা কী। বললে, “অসামান্যের পারানি কড়ি। আমার বেলায় তুমি মহামায়া, ভূলিয়ে রাখো; অধ্যাপকের বেলায় তুমি তারা, তাঁরয়ে দাও । অধ্যাপক জানেন কি জবলা নারী মশালভূজে তাঁকে পারে পাঠাবার উপায় করেছে।” “ना, छाहनन ना ।” “জানলে কি এই বৈজ্ঞানিকের পৌরষে ঘা লাগবে না ?”