প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:গল্পগুচ্ছ (চতুর্থ খণ্ড).pdf/৩২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শেষ কথা b)Oෆ যদি অকালবৈধব্যযোগ থাকে, তবেই যেন কন্যার পিতা আমার কথা চিন্তা করেন। পাশ্চাত্য মহাদেশে নারীসঙ্গ ঠেকাবার বেড়া নেই। সেখানে আমার পক্ষে দযোগের বিশেষ আশঙ্কা ছিল। আমি যে স্পরযে, দেশে থাকতে নারীদের মখে সে কথা চোখের মৌন ভাষা ছাড়া অন্য কোনো ভাষায় শোনবার কোনো সম্পভাবন৷ ছিল না, তাই এ তথ্যটা আমার চেতনার বাইরে পড়ে ছিল। বিলেতে গিয়ে যেমন আবিস্কার করেছি সাধারণের তুলনায় আমার বৃদ্ধি বেশি আছে, তেমনি ধরা পড়েছিল আমাকে দেখতে ভালো। আমার এদেশী পাঠকদের মনে ঈষা জন্মাবার মতো অনেক কাহিনীর ভূমিকা দেখা দিয়েছিল, কিন্তু হলফ করে বলছি—আমি তাদের নিয়ে ভাবের কুহকে মনকে জমাট বাঁধতে দিই নি। হয়তো আমার স্বভাবটা কড়া, পশ্চিমবঙ্গের শৌখিনদের মতো ভাবালতায় আদুচিত্ত নই, নিজেকে পাথরের সিন্ধক করে তার মধ্যে আমার সংকল্পকে ধরে রেখেছিলাম। মেয়েদের নিয়ে রসের পালা শরে করে তার পরে সময় বঝে খেলা ভঙ্গ করা, সেও ছিল আমার প্রকৃতিবিরাধ। আমি নিশ্চয় জানতুম, যে জেদ নিয়ে আমি আমার ব্লতের আশ্রয়ে বেচে আছি, এক-পা ফসকালে সেই জেদ নিয়েই আমার ভাঙা ব্লতের তলায় পিষে মরতে হবে। আমার পক্ষে এর মাঝখানে কোনো ফকির পথ নেই। তা ছাড়া আমি জন্মপাড়াগে"য়ে, মেয়েদের সম্বন্ধে আমার সেকেলে সংকোচ ঘচেতে চায় না। তাই মেয়েদের ভালোবাসা নিয়ে যারা অহংকারের বিষয় করে, আমি তাদের অবজ্ঞা করি। বিদেশী ভালো ডিগ্রি পেয়েছিলাম। সেটা এখানে সরকারী কাজে লাগবে না জেনে ছোটোনাগপারে চন্দ্রবংশীয় এক রাজার—মনে করা যাক, চণ্ডবীর সিংহের দরবারে— কাজ নিয়েছিলাম। সৌভাগ্যক্রমে তাঁর ছেলে দেবিকাপ্রসাদ কিছুদিন কেমব্রিজে পড়াশুনো করেছিলেন। দৈবাৎ তাঁর সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিল জরিকে, সেখানে আমার খ্যাতি তাঁর কানে গিয়েছিল। তাঁকে বুঝিয়েছিলাম আমার পল্যান। শনে খুব উৎসাহিত হয়ে তাঁদের স্টেটে আমাকে জিয়লজিকাল সভের কাজে লাগিয়ে দিলেন। এমন কাজ ইংরেজকে না দেওয়াতে উপরিস্তরের বায়মণ্ডল বিক্ষব্ধ হয়েছিল। কিন্তু দেবিকাপ্রসাদ ছিলেন ঝাঁঝালো লোক। বড়ো রাজার মন টলমল করা সত্ত্বেও টিকে গেলাম। এখানে আসবার আগে মা আমাকে বললেন, “বাবা, ভালো কাজ পেয়েছ, এইবার একটি বিয়ে করো, আমার অনেক দিনের সাধ মিটক।” আমি বললাম, "অর্থাৎ, কাজ মাটি করো’। আমার যে কাজ তার সঙ্গে বিয়ের তাল মিলবে না।” - দঢ় সংকল্প— ব্যথ হল মায়ের অননেয়। যন্ত্রতন্ত্র সমস্ত বেধে-ছেদে নিয়ে চলে এলমে জঙ্গলে। এইবার আমার দেশব্যাপী কীতিসম্ভাবনার ভাবী দিগন্তে হঠাৎ যে একটুকু গল্প ফটে উঠল, তাতে আলেয়ার চেহারাও আছে, আরও আছে শকতারার। নীচের পাথরকে প্রশ্ন করে মাটির সন্ধানে বেড়াচ্ছিলাম বনে বনে। পলাশফলের