প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:গল্পগুচ্ছ (চতুর্থ খণ্ড).pdf/৩৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শেষ কথা bf@《。 একটা অপব স্বরপ ছিটকিনি খালে অবারিত হয়, সেই আঘাত আমাকে লাগল কী করে। বরাবর জানি আমি পাহাড়ের মতো খটখটে, নিরেট। ভিতর থেকে উছলে পড়ল ঝরনা। একটা-কিছু বলতে ইচ্ছে করছিল, কিন্তু মানুষের সঙ্গে সব চেয়ে বড়ো আলাপের প্রথম কথাটি কী হতে পারে ভেবে পাই নে। সে হচ্ছে খাস্টীয় পরোণের প্রথম সন্টির বাণী— আলো জাগকে, অব্যন্ত হয়ে যাক ব্যস্ত। এক সময়ে মনে হল— মেয়েটি— ওর আসল নাম পরে জেনেছি কিন্তু সেটা ব্যবহার করব না, ওকে নাম দিলাম অচিরা। মানে কী। মানে এই, যার প্রকাশ হতে বিলম্বব হল না, বিদ্যতের মতো। রইল ঐ নাম—মখে দেখে মনে হল অচিরা জানতে পেরেছে কে একজন আড়ালে দাঁড়িয়ে আছে। উপস্থিতির একটা নীরব ধৰনি আছে বুঝি ! লেখা বন্ধ করেছে, অথচ উঠতে পারছে না। পলায়নটা পাছে বন্ড বেশি পণ্ট হয়। একবার ভাবলাম বলি, মাপ করন— কী মাপ করা, কী অপরাধ, কী বলব তাকে। একটন তফাতে গিয়ে বিলিতি বেটে কোদাল নিয়ে মাটিতে খোঁচা মারবার ভান করলাম, ঝুলিতে একটা কী পারলাম, সেটা অত্যন্ত বাজে। তার পরে ঝুকে পড়ে মাটিতে বিজ্ঞানী দস্টি চালনা করতে করতে চলে গেলাম। কিন্তু নিশ্চয় মনে জানি, যাঁকে ভোলাবার চেষ্টা করেছিলম তিনি ভোলেন নি। মগধ পর্যচিত্তের দ্বলতার আরও অনেক প্রমাণ তিনি আরও অনেকবার পেয়েছেন, সন্দেহ নেই। আশা করলাম আমার বেলায় এটা তিনি মনে-মনে উপভোগ করেছেন। এর চেয়ে বেড়া আর অলপএকটা যদি ডিঙোতুম, তা হলে— তা হলে কী হত কী জানি। রাগতেন, না রাগের ভান করতেন ? অত্যন্ত চঞ্চল মন নিয়ে চলেছি আমার বাংলোঘরের পথে, এমন সময় আমার চোখে পড়ল দই টুকরায় ছিন্ন করা একখানা চিঠির খাম। এটাকে জিয়লজিকাল নমনা বলে না। তব তুলে দেখলাম। নামটা ভবতোষ মজুমদার আই. সি. এস ; ঠিকানা ছাপরা, মেয়েলি হাতে লেখা। টিকিট লাগানো আছে, তাতে ডাকঘরের ছাপ নেই। যেন কুমারীর বিধা। আমার বিজ্ঞানী যখি ; পন্ট বঝেতে পারলাম, এই ছেড়া চিঠির খামের মধ্যে একটা ট্র্যাজেডির ক্ষতচিহ্ন আছে। পথিবীর ছোড়া স্তর থেকে তার বিপ্লবের ইতিহাস বের করা আমাদের কাজ। সেই আমার সন্ধানপট হাত এই ছোড়া খামের রহস্য আবিস্কার করতে সংকল্প করলে। ইতিমধ্যে ভাবছি নিজের অন্তঃকরণের রহস্য অভূতপবে। এক-একটা বিশেষ অবস্থার সংপশে তার ভাবখানা কী যে একটা নতুন আকারে দানা বেধে দেখা দেয়, এবারে তার পরিচয়ে বিস্মিত হয়েছি। এতদিন যে মনটা নানা কঠিন অধ্যবসায় নিয়ে শহরে শহরে জীবনের লক্ষ্য-সন্ধানে ঘরেছে, তাকে স্পষ্ট করে চিনেছিলাম। ভেবেছিলাম সেই আমার সত্যকার স্বভাব, তার আচরণের প্রবেত্ব সম্বন্ধে আমি হলপ করতে পারতুম। কিন্তু তার মধ্যে বৃদ্ধিশাসনের বহির্ভূত যে-একটা মঢ়ে লুকিয়ে ছিল, তাকে এই প্রথম দেখা গেল। ধরা পড়ে গেল আরণ্যক, যে যুক্তি মানে না, যে মোহ মানে। বনের একটা মায়া আছে, গাছপালার নিঃশব্দ চক্রান্ত, আদিম প্রাণের মন্ত্রধৰনি। দিনে দপেরে ঝাঁ ঝাঁ করে তার উদাত্ত সর, রাতে দ পারে মন্দ্ৰগম্ভীর ধৱনি, গঞ্জেন করতে থাকে জীবচেতনায়— আদিম প্রাণের গড় প্রেরণায় বন্ধিকে দেয় আবিস্ট করে।