প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:গল্পগুচ্ছ (চতুর্থ খণ্ড).pdf/৩৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


:૪૦, গল্পগুচ্ছ হয়ে আসার। তার পাথেয় আর খরচ জাগিয়েছেন অধ্যাপক। লোকটার সদির ধাত ছিল। বধির ভগবানের কাছে আমরা দাবেলা প্রার্থনা করেছি, বিবাহের পর্বে লোকটা যেন নামোনিয়া হয়ে মরে। কিন্তু মরে নি। পাস করেছে। করেই ইনডিয়া গবমেন্টের উচ্চপদস্থ একজন মরবির মেয়েকে বিয়ে করেছে। লন্জায় ক্ষোভে নিজের কাজ ছেড়ে দিয়ে মমাহত মেয়েটিকে নিয়ে অধ্যাপক কোথায় যে অন্তধীন করেছেন, তার খবর রেখে যান নি।’ চিঠিখানা পড়লাম। দৃঢ় সংকল্প করলাম, এই মেয়েটিকে তার লন্জ থেকে, অবসাদ থেকে উদ্ধার করব। এ ইতিমধ্যে অচিরার সঙ্গে কোনো রকম করে একটা কথা আরম্ভ করবার জন্যে মন ছটফট করতে লাগল। যদি বিজ্ঞানী না হয়ে হতুম সাহিত্যরসিক, কিবা বাঙাল না হয়ে যদি হতুম পশ্চিমবঙ্গের আধুনিক, তা হলে নিশ্চয় মুখে কথা বাধত না। কিন্তু বাঙালি মেয়েকে ভয় করি, চিনি নে বলে বোধ হয়। একটা ধারণা ছিল, হিন্দনায়ী অজানা পরপরযেমাত্রের কাছে একান্তই অনধিগম্য। খামকা কথা কইতে যাই যদি, তা হলে ওর রক্তে লাগবে অশুচিতা। সংস্কার জিনিসটা এমনি অন্ধ। এখানে কাজে যোগ দেবার প্বে কিছুদিন তো কলকাতায় কাটিয়ে এসেছি— আতমীয়বর্ধমহলে দেখে এলমে সিনেমামgপথবতিনী রঙমাখানো বাঙালি মেয়ে, যারা জাতবান্ধবী, তাদের—থাক তাদের কথা। কিন্তু অচিরার কোনো পরিচয় না পেরেই মনে হল ও আর-এক জাতের—এ কালের বাইরে আছে দাঁড়িয়ে নিমাল আত্মমবাদার, পশভীর মেয়ে। মনে-মনে কেবলই ভাবছি প্রথম একটি কথা শুরু করব কী করে। এই সময়ে কাছাকাছি দই-একটা ডাকাতি হয়ে গিয়েছিল। মনে হল এই উপলক্ষে অচিরাকে বলি, রাজাকে বলে আপনার জন্যে পাহারার বন্দোবস্ত করে দিই।’ ইংরেজ মেয়ে হলে হয়তো এই গায়েপড়া আনকেল্যকে পধা মনে করত, মাথা বাঁকিয়ে বলত সে ভাবনা আমার’। কিন্তু এই বাঙালির মেয়ে যে কী ভাবে কথাটা নেবে, আমার সে অভিজ্ঞতা নেই। দীঘকাল বাংলার বাইরে থেকে আমার মনের অভ্যাস অনেকখানি জড়িয়ে গেছে বিলিতি সংস্কারে। দিনের আলো প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। এইবার অচিরার ঘরে ফেরবার সময়, কিবা ওর দাদামশায় এসে ওকে বেড়াতে নিয়ে যাবেন। এমন সময়ে একজন হিন্দুস্থানী গোঁয়ার এসে অচিরার হাত থেকে হঠাৎ তার ব্যাগ আর ডায়ারিটা ছিনিয়ে নিয়ে চলে যাচ্ছিল। আমি সেই মহেনতেই বনের আড়াল থেকে বেরিয়ে এসে বললাম, “কোনো ভয় নেই আপনার ।” এই বলে ছটে সেই লোকটার ঘাড়ের উপর গিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তেই সে ব্যাগ আর খাতা ফেলে দৌড় মারলে। আমি লুঠের ধন নিয়ে এসে অচিরাকে দিলাম। অচিরা বললে, “ভাগ্যিস আপনি—” আমি বললাম, “আমার কথা বলবেন না, ভাগ্যিস.ও লোকটা এসেছিল।” “তার মানে ?”