প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:গল্পগুচ্ছ (চতুর্থ খণ্ড).pdf/৪৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


切 >8 গল্পগুচ্ছ আবার মানতে হল, "হাঁ, প্রস্তাব তাঁর দিক থেকেই উঠেছিল।" “তবে ?” “আমার কাজ যে ভারতবষের। শুধ সে তো বিজ্ঞানের নয়।" “অথাৎ ভালোবাসার সফলতা আপনার মতো সাধকের কামনার জিনিস নয় । মেয়েদের জীবনের চরম লক্ষ্য ব্যক্তিগত আপনাদের নৈব্যক্তিক।" এ জবাবটা হঠাৎ মাখে এল না। আমাকে চুপ করে থাকতে দেখে অচিরা বললে, “বাংলা সাহিত্য আপনি বোধ হয় পড়েন না। কচ ও দেবযানী বলে একটা কবিতা আছে। তাতে ঐ কথাই আছে, মেয়েদের ব্রত হচ্ছে পরিষেকে বাঁধা, আর পরষদের ব্ৰত সে বাঁধন কাটিয়ে অমরলোকের রাস্তা বানানো। কচ বেরিয়ে পড়েছিল দেবযানীর অনুরোধ এড়িয়ে, আপনি কাটিয়ে এসেছেন মায়ের অননয়। একই কথা । মেয়েপুর ষের এই চিরকালের বন্দ্বে আপনি জয়ী হয়েছেন। জয় হোক আপনার পৌরুষের। কাঁদকে মেয়েরা, সে কান্না আপনারা নিন প্রজার নৈবেদ্য। দেবতার উদ্দেশে আসে নৈবেদ্য, কিন্তু দেবতা থাকেন নিরাসক্ত।" অধ্যাপক এই আলোচনার মল লক্ষ্য কিছুই বুঝলেন না। সগবে বললেন, “দিদির মুখে গভীর সত্য কেমন বিনা চেষ্টায় প্রকাশ পায়, বাইরের লোকে শনলে মনে করবে-" তাঁর কেবলই ভয়, বাইরের লোক তাঁর নাতনিকে ঠিক বুঝতে পারবে না। অচিরা বললে, “বাইরের লোকে মেয়েদের জ্যাঠামি সইতে পারে না, তাদের কথা তুমি ভেবো না। তুমি আমাকে ঠিক বুঝলেই হল।" অচিরা খাব বড়ো কথাও বলে থাকে হাসির ছলে, কিন্তু আজ সে কী গভীর। আমার একটা কথা আন্দাজে মনে হল, ভবতোষ ওকে বুঝিয়েছিল যে, সে যে ভারতসরকারের উচ্চ গগনের জ্যোতিলোক থেকে বধ এনেছে, তারও লক্ষ্য খুব উচ্চ এবং নিঃসবাথ”। ব্রিটিশ রাষ্ট্ৰশাসনের ভান্ডার হতেই সে শক্তি সংগ্রহ করতে পারবে দেশের কাজে লাগাতে। এত সহজ নয় অচিরাকে ছলনা করা। সে যে ভোলে নি, তার প্রমাণ রয়ে গেছে সেই বিখন্ডিত চিঠির খামটা থেকেই। অচিরা আবার বললে, “দেবযানী কচকে কী অভিসম্পাত দিয়েছিল জানেন নবীনবাব ?” "ויזה" “বলেছিল, তোমার জ্ঞানসাধনার ধন তুমি নিজে ব্যবহার করতে পারবে না, অন্যকে দান করতে পারবে ।’ আমার কাছে কথাটা আশ্চর্য বোধ হয়। যদি এই অভিসম্পাত আজ দিত কেউ য়ুরোপকে, তা হলে সে বেচে যেত। বিশেবর জিনিসকে নিজের জিনিসের মতো ব্যবহার করেই ওরা লোভের তাড়ায় মরছে। সত্যি কি না বলো দাদা।" “খবে সত্যি। কিন্তু আশ্চর্য এই এত কথা তুমি কী করে ভাবলে।" “নিজগুণে একটুও নয়। ঠিক এই রকম কথা তোমার কাছে অনেকবার শুনেছি। তোমার একটা মহদগণ আছে, ভোলানাথ তুমি, কখন কী বল সমস্ত ভুলে যাও। চোরাই মালের উপর নিজের ছাপ লাগিয়ে দিতে ভয় থাকে না।”