প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:গল্পগুচ্ছ (চতুর্থ খণ্ড).pdf/৪৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


४२० গল্পগুচ্ছ ল্যাবরেটরি 4%z নন্দকিশোর ছিলেন লণ্ডন য়ুনিভাসিটি থেকে পাস করা এঞ্জিনিয়ার। যাকে সাধভাষায় বলা যেতে পারে দেদীপ্যমান ছাত্র, অর্থাৎ ৱিলিয়ান্ট, তিনি ছিলেন তাই স্কুল থেকে আরম্ভ করে শেষ পর্যন্ত পরীক্ষার তোরণে তোরণে ছিলেন পয়লা শ্রেণীর সওয়ারি। ওঁর বন্ধি ছিল ফলাও, ওঁর প্রয়োজন ছিল দরাজ, কিন্তু ওঁর অর্থসবল ছিল আটি মাপের । রেলওয়ে কোপানির দটো বড়ো ব্রিজ তৈরি করার কাজের মধ্যে উনি চকে পড়তে পেরেছিলেন। ও কাজের আয়ব্যয়ের বাড়তি-পড়তি বিস্তর, কিন্তু দন্টান্তটা সাধ নয়। এই ব্যাপারে যখন তিনি ডানহাত বাঁহাত দই হাতই জোরের সঙ্গে চালনা করেছিলেন তখন তাঁর মন খ:তখত করে নি। এ-সব কাজের দেনাপাওনা নাকি কোম্পানি-নামক একটা অ্যাবসট্রাক্ট সত্তার সঙ্গে জড়িত, সেই জন্যে কোনো ব্যক্তিগত লাভ-লোকসানের তহবিলে এর পীড়া পৌছয় না। ওঁর নিজের কাজে কতারা ওঁকে জীনিয়স বলত, নিখত হিসাবের মাথা ছিল তাঁর। বাঙালি বলেই তার উপযন্ত পারিশ্রমিক তাঁর জোটে নি। নীচের দরের বিলিতি কমচারী প্যাপ্টের দই ভরা পকেটে হাত গজে যখন পা ফাঁক করে হ্যালো মিস্টার মল্লিক' বলে ওঁর পিঠ-থাবড়া দিয়ে কতাত্বি করত তখন ওঁর ভালো লাগত না। বিশেষত যখন কাজের বেলা ছিলেন উনি, আর দামের বেলা আর নামের বেলা ওরা। এর ফল হয়েছিল এই যে, নিজের ন্যায্য প্রাপ্য টাকার একটা প্রাইভেট হিসেব গুর মনের মধ্যে ছিল, সেটা পুষিয়ে নেবার ফন্দি জানতেন ভালো করেই। পাওনা এবং অপাওনার টাকা নিয়ে নন্দকিশোর কোনোদিন বাবগিরি করেন নি। থাকতেন শিকদারপাড়া গলির একটা দেড়তলা বাড়িতে। কারখানা-ঘরের দাগদেওয়া কাপড় বদলাবার ওঁর সময় ছিল না। কেউ ঠাট্টা করলে বলতেন, ‘মজর মহারাজের তকমা -পরা আমার এই সাজ ।” কিন্তু বৈজ্ঞানিক সংগ্রহ ও পরীক্ষার জন্যে বিশেষ করে তিনি বাড়ি বানিয়েছিলেন খুব মস্ত। এমন মশগুল ছিলেন নিজের শখ নিয়ে যে, কানে উঠত না লোকেরা বলাবলি করছে—এত বড়ো ইমারতটা যে আকাশ ফুড়ে উঠল, আলাদিনের প্রদীপটা ছিল কোথায় । এক রকমের শখ মানুষকে পেয়ে বসে সেটা মাতলামির মতো, হংশ থাকে না যে লোকে সন্দেহ করছে। লোকটা ছিল সন্টিছাড়া, ওঁর ছিল বিজ্ঞানের পাগলামি। ক্যাটালগের তালিকা ওলটাতে ওলটাতে ওঁর সমস্ত মন প্রাণ চৌকির দই হাতা অাঁকড়ে ধরে উঠত ঝোঁকে ঝোঁকে। জমনি থেকে, আমেরিকা থেকে, এমন-সব দামী দামী যন্ত্র আনাতেন যা ভারতবর্ষের বড়ো বড়ো বিশ্ববিদ্যালয়ে মেলে না। এই বিদ্যালোভীর মনে সেই তো ছিল বেদনা। এই পোড়াদেশে জ্ঞানের ভোজের উচ্ছিন্ট নিয়ে সন্তা দরের পাত পাড়া হয়। ওদের দেশে বড়ো বড়ো যন্ত্র ব্যবহারের যে সযোগ আছে আমাদের দেশে না থাকাতেই ছেলেরা টেক্সটবকের শুকনো পাতা থেকে