প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:গল্পগুচ্ছ (চতুর্থ খণ্ড).pdf/৫০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ল্যাবরেটরি * ৮২১ কেবল এ’টোকাটা হাতড়িয়ে বেড়ায়। উনি হেকে উঠে বলতেন, ক্ষমতা আছে আমাদের মগজে, অক্ষমতা আমাদের পকেটে। ছেলেদের জন্যে বিজ্ঞানের বড়ো রাস্তাটা খালে দিতে হবে বেশ চওড়া করে, এই হল ওঁর পণ। দরমল্য যন্ত্র যত সংগ্রহ হতে লাগল, ওঁর সহকমীদের ধমবোধ ততই অসহ্য হয়ে উঠল। এই সময়ে ওঁকে বিপদের মুখ থেকে বাঁচালেন বড়োসাহেব। নন্দকিশোরের দক্ষতার উপর তাঁর প্রচুর শ্রদ্ধা ছিল। তা ছাড়া রেলওয়ে কাজে মোটা মোটা মুঠোর অপসারণদক্ষতার দন্টান্ত তাঁর জানা ছিল। চাকরি ছাড়তে হল। সাহেবের আনকেলে; রেল-কোপানির পরোনো লোহালক্কড় সস্তা দামে কিনে নিয়ে কারখানা ফেদে বসলেন। তখন য়রোপের প্রথম যুদ্ধের বাজার সরগরম। লোকটা অসামান্য কৌশলী, সেই বাজারে নতুন নতুন খালে নালায় তাঁর মনেফার টাকায় বান ডেকে এল। এমন সময় আর-একটা শখ পেয়ে বসল ওঁকে । এক সময়ে নন্দকিশোর পাঞ্জাবে ছিলেন তাঁর ব্যবসার তাগিদে। সেখানে জটে গেল তাঁর এক সাঙ্গনী। সকালে বারান্দায় বসে চা খাচ্ছিলেন, বিশ বছরের মেয়েটি ঘাগরা দলিয়ে অসংকোচে তাঁর কাছে এসে উপস্থিত— জলজৰলে তার চোখ– ঠোঁটে একটি হাসি আছে, যেন শান-দেওয়া ছয়রির মতো। সে ওঁর পায়ের কাছে ঘোষে এসে বললে, “বাবজি, আমি কয়দিন ধরে এখানে এসে দ-বেলা তোমাকে দেখছি। আমার তাজব লেগে গেছে।” নন্দকিশোর হেসে বললেন, “কেন, এখানে তোমাদের চিড়িয়াখানা নেই नाकि ?” সে বললে, “চিড়িয়াখানার কোনো দরকার নেই। যাদের ভিতরে রাখবার, তারা বাইরে সব ছাড়া আছে। আমি তাই মানুষ খুজছি।” "খ:জে পেলে ?” নন্দকিশোরকে দেখিয়ে বললে, “এই তো পেয়েছি।” নন্দকিশোর হেসে বললেন, “কী গণে দেখলে বলো দেখি।" ও বললে, “এখানকার বড়ো বড়ো সব শেঠজি, গলায় মোটা সোনার চেন, হাতে হীরার আংটি, তোমাকে ঘিরে এসেছিল— ভেবেছিল বিদেশী, বাঙালী, কামবার বোঝে না। শিকার জন্টেছে ভালো। কিন্তু দেখলাম তাদের একজনেরও ফন্দি খাটল না। উলটে ওরা তোমারই ফাঁসকলে পড়েছে। কিন্তু তা ওর। এখনও বোঝে নি, আমি বঝে নিয়েছি।” : নন্দকিশোর চমকে গেল কথা শুনে। বঝেলে একটি চিজ বটে-সহজ নয়। মেয়েটি বললে, “আমার কথা তোমাকে বলি, তুমি শনে রাখো। আমাদের পাড়ায় একজন ডাকসাইটে জ্যোতিষী আছে। সে আমার কুটি গণনা করে বলেছিল, একদিন দনিয়ায় আমার নাম জাহির হবে। বলেছিল আমার জন্মস্থানে শয়তানের माथि ठाएछ ।” নন্দকিশোর বললে, “বল কী! শয়তানের ?” মেয়েটি বললে, "জানো তো বাবজি, জগতে সব চেয়ে বড়ো নাম হচ্ছে ঐ শয়তানের। তাকে যে নিন্দে করে কর্ক, কিন্তু সে খাব খাঁটি। আমাদের বাবা