প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:গল্পগুচ্ছ (চতুর্থ খণ্ড).pdf/৫৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


Ե Հ8 গল্পগুচ্ছ বন্ধ। বন্ধুত্বপ্রয়াসিনীরা নিমন্ত্রণ করে চায়ে টেনিসে সিনেমায়, নিমন্ত্রণ পৌছয় না কোনো ঠিকানায়। অনেক লোভী ফিরতে লাগল মধুগন্ধভরা আকাশে, কিন্তু কোনো অভাগ্য কাঙাল সোহিনীর ছাড়পত্র পায় না। এ দিকে দেখা যায় উৎকণ্ঠিত মেয়ে সযোগ পেলে উকিঝকি দিতে চায় অজায়গায়। বই পড়ে যে বই টেক্সটবকে কমিটির অনুমোদিত নয়, ছবি গোপনে আনিয়ে নেয় যা আট-শিক্ষার আনকেল্য করে বলে বিড়ম্বিত। ওর বিদুষী শিক্ষয়িত্রীকে পর্যন্ত অন্যমনস্ক করে দিলে । ডায়োসিশন থেকে বাড়ি ফেরবার পথে আলাথাল-চুল-ওয়ালা গোঁফের-রেখামাত্রদেওয়া সন্দের-হানো এক ছেলে ওর গাড়িতে চিঠি ফেলে দিয়েছিল। ওর রক্ত উঠেছিল ছম ছম করে। চিঠিখানা লকিয়ে রেখেছিল জামার মধ্যে। ধরা পড়ল মায়ের কাছে। সমস্ত দিন ঘরে বন্ধ থেকে কাটল অনাহারে । সোহিনীর স্বামী যাদের বত্তি দিয়েছিলেন, সেই-সব ভালো ভালো ছাত্রমহলে সোহিনী পার সন্ধান করেছে। সবাই প্রায় আড়ে আড়ে ওর টাকার থলির দিকে তাকায়! একজন তো তার থিসিস ওর নামে উৎসগ করে বসল। ও বললে, ‘হায় রে কপাল, লাজায় ফেললে আমাকে। তোমার পোস্ট গ্রাজয়েটি মেয়াদ ফরিয়ে আসছে শুনলাম, অথচ মালাচন্দন দিলে অজায়গায়—হিসাব করে ভক্তি না করলে উন্নতি হবে না যে ’ কিছুদিন থেকে একটি ছেলের দিকে সোহিনী দটিপাত করছিল। ছেলেটি পছন্দসই বটে। তার নাম রেবতী ভট্টাচার্য। এরই মধ্যে সায়ান্সের ডাক্তার পদবীতে চড়ে বসেছে। ওর দলটো-একটা লেখার যাচাই হয়ে গেছে বিদেশে । ළු লোকের সঙ্গে মেলামেশা করবার কলাকৌশল সোহিনীর ভালো করেই জানা আছে। মন্মথ চৌধুরী রেবতীর প্রথম দিককার অধ্যাপক। তাঁকে নিলে বশ করে। কিছুদিন চায়ের সঙ্গে রাটিটোস্ট, অমলেট, কখনও বা ইলিশমাছের ডিমের বড়া খাইয়ে কথাটা পাড়লে। বললে, “আপনি হয়তো ভাবছেন আমি আপনাকে বারে বারে চা খেতে ডাকি কেন।” “মিসেস মল্লিক, আমি তোমাকে নিশ্চয় বলতে পারি— সেটা আমার দভাবনার বিষয় নয়।” সোহিনী বললে, “লোকে ভাবে আমরা বন্ধত্বে করে থাকি বাথের গরজে ।” “দেখো মিসেস মল্লিক, আমার মত হচ্ছে এই—গরজটা যারই হোক, বন্ধত্বেটাই তো লাভ। আর এই বা কম কথা কী, আমার মতো অধ্যাপককে দিয়েও কারও সবাথসিন্ধি হতে পারে। এ জাতটার বন্ধি কেতাবের বাইরে হাওয়া খেতে পায় না বলে ফ্যাকাশে হয়ে গেছে। আমার কথা শুনে তোমার হাসি পাচ্ছে দেখতে পাচ্ছি। দেখো, যদিও আমি মাস্টারি করি তব ঠাট্টা করতেও পারি। দ্বিতীয়বার চা খেতে ডাকবার প্বে এটা জেনে রাখা ভালো।” “জেনে রাখলাম, বাঁচলুম। অনেক অধ্যাপক দেখেছি, তাঁদের মুখ থেকে হাসি বের করতে ভাক্তার ডাকতে হয় ।”