প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:গল্পগুচ্ছ (চতুর্থ খণ্ড).pdf/৫৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ল্যাবরেটরি Ե ՀԳ নামে গজেব রটেছিল। মকদ্দমায় জিতে তুমি তো সরে পড়লে, সে লোকটা গলায় দড়ি দিয়ে মরতে যায় আর-কি।” "এত যুগ ধরে মেয়েমানুষ টিকে আছে কী করে । ছল করার কম কৌশল লাগে না, লড়াইয়ের তাগবাগের সমানই সে, তবে কিনা তাতে মধ্যও কিছু খরচ করতে হয়। এ হল নারীর স্বভাবদত্ত লড়াইয়ের রীতি।” "ঐ দেখো, আবার তুমি আমাকে ভুল করছ। আমরা বিজ্ঞানী, আমরা বিচারক নই, স্বভাবের খেলা আমরা নিকাম ভাবে দেখে যাই। সে খেলায় যা ফল হবার তা ফলতে থাকে। তোমার বেলায় ফলটা বেশ হিসেবমতই ফলেছিল, বলেছিলাম ধন্য মেয়ে তুমি। এ কথাটাও ভেবেছি, আমি যে তখন প্রোফেসর ছিলাম, আর্টিকেলডা ক্লাক ছিলাম না, সেটা আমার বাঁচোয়া। মাকরি সয্যের কাছ থেকে যতটুকু দরে আছে ততটুকু দরে থেকেই বেচে গেল। ওটা গণিতের হিসাবের কথা, ওতে ভালো নেই মন্দ নেই। এ-সব কথা বোধ হয় তুমি বুঝতে শিখেছ।” “তা শিখেছি। গ্রহগুলো টান মেনে চলে আবার টান এড়িয়ে চলে—এটা একটা शिरथ नवाब्र उडू बई-कि ।” “আর-একটা কথা কবল করছি। এইমাত্র তোমার সঙ্গে কথা কইতে কইতে একটা হিসেব মনে মনে কবছিলাম, সেও অঙ্কের হিসেব। ভেবে দেখো, বয়সটা যদি অন্তত দশটা বছর কম হত তা হলে খামকা আজ একটা বিপদ ঘটত। কোলিশন ঐটুকু পাশ কাটিয়ে গেল। আর-কি! তব বাপের জোয়ার উঠছে বকের মধ্যে। ভেবে দেখো, সন্টিটা আগাগোড়াই কেবল অঙ্ক কষার খেলা।” এই বলে চৌধুরী দই হাঁট চাপড়িয়ে হাহা করে হেসে উঠলেন। একটা কথা তাঁর হ:শ ছিল না যে, তাঁর সঙ্গে দেখা করবার আগে সোহিনী দীঘণ্টা ধরে রঙে-চঙে এমন করে বয়স বদল করেছে যে সন্টিকতাকে আগাগোড়াই দিয়েছে ঠকিয়ে । 8 পরের দিন অধ্যাপক এসে দেখলেন সোহিনী রোঁয়া-ওঠা হাড়-বের-করা একটা কুকুরকে স্নান করিয়ে তোয়ালে দিয়ে তার গা মছিয়ে দিচ্ছে। চৌধুরী জিগগেসা করলেন, “এই অপয়মন্তটাকে এত সম্মান কেন।” “ওকে বাঁচয়েছি বলে। পা ভেঙেছিল মোটরের তলায় পড়ে, আমি সারিয়ে তুলেছি ব্যাণ্ডেজ বোধে। এখন ওর প্রাণটার মধ্যে আমারও শেয়ার আছে।” “রোজ রোজ ঐ অলক্ষেনের চেহারা দেখে মন খারাপ হয়ে যাবে না ?” “চেহারা দেখবার জন্যে ওকে তো রাখি নি। মরতে মরতে এই-যে ও সেরে উঠছে, এটা দেখতে আমার ভালো লাগে। ঐ প্রাণীর বেচে থাকবার দরকারটা যখন দিনে দিনে মিটিয়ে দিই, তখন ধমকিম করতে ছাগলছানার গলায় দড়ি বোধে আমাকে কালীতলায় দৌড়তে হয় না। তোমাদের বায়োলজির ল্যাবরেটরির কানাখোঁড়া কুকুরখরগোশ-গুলোর জন্যে আমি একটা হাসপাতাল বানাব স্থির করেছি।” “মিসেস মল্লিক, তোমাকে যতই দেখছি তাক লাগছে।” । “আরও বেশি দেখলে ওটার উপশম হবে। রেবতীৰাবার খবর দেবেন বলে