প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:গল্পগুচ্ছ (চতুর্থ খণ্ড).pdf/৫৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ল্যাবরেটরি ᏓᎴᏠᏱ খতম। রেবন এখন ভারতীয় ঘানিতে ফোঁটা ফেটি তেল বের করছেন।” সোহিনী অস্থির হয়ে বলে উঠল, “দেয়ালে মাথা ঠুকে মরতে ইচ্ছে করছে। একটা মেয়ে রেবতীকে তলিয়ে দিয়েছে, আর-একটা মেয়ে তাকে টেনে তুলবে ডাঙায় এই আমার পণ রইল।” “পষ্ট কথা বলি ম্যাডাম। জানোয়ারগুলোকে শিঙে ধরে তলিয়ে দেবার হাত তোমার পাকা—লেজে ধরে তাদের উপরে তোলবার হাত তেমন দরেস্ত হয় নি। তা, এখন থেকে অভ্যাসটা শার হোক। একটা কথা জিজ্ঞাসা করি—সায়াসে এত উৎসাহ তোমার এল কোথা থেকে ৷” “সকল রকম সায়ালেসই সারা জীবন আমার স্বামীর মন ছিল মেতে। তাঁর নেশা ছিল বম চুর্যট আর ল্যাবরেটরি। আমাকে চুরাট ধরিয়ে প্রায় বমি'জ মেয়ে বানিয়ে তুলেছিলেন। ছেড়ে দিলাম, দেখলাম পরষদের চোখে খটকা লাগে। তাঁর আর-এক নেশা আমার উপর দিয়ে জমিয়েছিলেন। পরষরা মেয়েদের মজায় বোকা বানিয়ে, উনি আমাকে মজিয়েছিলেন বিদ্যে দিয়ে দিনরাত। দেখন চৌধুরীমশায়, স্বামীর দুবলতা স্মীর কাছে ঢাকা থাকে না, কিন্তু আমি ওঁর মধ্যে কোনোখানে খাদ দেখতে পাই নি। কাছে থেকে যখন দেখতুম, দেখেছি উনি বড়ো ; আজ দরে থেকে দেখছি, দেখি উনি আরও বড়ো।” চৌধুরী জিগগেসা করলেন, “কোনখানে সব চেয়ে তাঁকে বড়ো ঠেকছে।” “বলব ? উনি বিবান বলে নয়। বিদ্যার পরে ওঁর নিকাম ভক্তি ছিল বলে। উনি একটা পুজোর আলো পুজোর হাওয়ার মধ্যে ছিলেন । আমরা মেয়েরা দেখবারছোঁবার মতো জিনিস না পেলে পুজো করবার থই পাই নে। তাঁর এই ল্যাবরেটরি আমার পুজোর দেবতা হয়েছে। ইচ্ছে করে এখানে মাঝে মাঝে ধপধনো জালিয়ে শাঁখঘণ্টা বাজাই। ভয় করি আমার স্বামীর ঘণাকে। তাঁর দৈনিক পুজো ছিল যখন, এই-সব যন্ত্রতন্ত্র ঘিরে জমত কলেজের ছাত্রেরা, শিক্ষা নিত তাঁর কাছ থেকে, আর আমিও বসে যেতুম।” "ছেলেগুলো সায়ালেস মন দিতে পারত কি।” “যারা পারত তাদেরই বাছাই হয়ে যেত। এমন-সব ছেলে দেখেছি যারা সত্যকার বৈরাগী। আবার দেখেছি কেউ কেউ নোট নেবার ছলে একেবারে পাশের ঠিকানার চিঠি লিখে সাহিত্যচর্চা করত।” “কেমন লাগত।” "সত্যি কথা বলব ? খারাপ লাগত না। স্বামী চলে যেতেন কাজে, ভাবকেদের মন আশেপাশে ঘরে ঘরে করত।” “কিছ মনে কোরো না, আমি সাইকলজি স্টাডি করে থাকি। জিগগেসা করি, ওরা কিছর ফল পেত কি।” “বলতে ইচ্ছে করে না, নোংরা আমি। দচারজনের সঙ্গে জানাশোনা হয়েছে যাদের কথা মনে পড়লে আজও মনের মধ্যে মচড়িয়ে ধরে।" “দচারজন ?” “মন যে লোভী—মাংসমন্জার নীচে লোভের চাপা আগন সে লুকিয়ে রেখে দেয়, খোঁচা পেলে জলে ওঠে। আমি তো গোড়াতেই নাম ডুবিয়েছি, সত্যি কথা,