প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:গল্পগুচ্ছ (চতুর্থ খণ্ড).pdf/৫৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


げ○0 গল্পগুচ্ছ বলতে আমার বাধে না। আজন্ম তপস্বিনী নই আমরা। ভড়ং করতে করতে প্রাণ বেরিয়ে গেল মেয়েদের। দ্রৌপদীকুতাঁদের সেজে বসতে হয় সীতাসাবিত্রী। একটা কথা বলি আপনাকে চৌধুরীমশায়, মনে রাখবেন, ছেলেবেলা থেকে ভালোমন্দ-বোধ আমার পস্ট ছিল না। কোনো গরম আমায় তা শিক্ষা দেন নি। তাই মন্দের মাঝে আমি ঝাঁপ দিয়েছি সহজে, পারও হয়ে গেছি সহজে। গায়ে আমার দাগ লেগেছে কিন্তু মনে ছাপ লাগে নি। কিছ আমাকে অাঁকড়ে ধরতে পারে নি। যাই হোক, তিনি যাবার পথে তাঁর চিতার আগমনে আমার আসক্তিতে আগন লাগিয়ে দিয়েছেন, জমা পাপ একে একে জবলে যাচ্ছে। এই ল্যাবরেটরিতেই জবলছে সেই হোমের আগন।” “ব্ল্যাভো, সত্যি কথা বলতে কী সাহস তোমার।" "সত্যি কথা বলিয়ে নেবার লোক থাকলে বলা সহজ হয়। আপনি যে খব সহজ, খুব সত্যি।” “দেখো, ঐ যে চিঠি-লিখিয়ে ছেলেগুলো তোমার প্রসাদ পেয়েছিল, তারা কি এখনও আনাগোনা করে।” d “সেই করেই তো তারা মছে দিয়েছে- আমার মনের ময়লা। দেখলাম জটছে তারা আমার চেকবইয়ের দিকে লক্ষ করে। ভেবেছিল মেয়েমানুষের মোহ মরতে চায় না, ভালোবাসার সিধের গত দিয়ে পৌছবে তাদের হাত আমার টাকার সিন্দকে। এত রস আমার নেই তারা তা জানত না। আমার শুকনো পাঞ্জাবি মন। আমি সমাজের আইনকানন ভাসিয়ে দিতে পারি দেহের টানে পড়ে, কিন্তু প্রাণ গেলেও বেইমানি করতে পারব না। আমার ল্যাবরেটরির এক পয়সাও তারা খসাতে পারে নি। আমার প্রাণ শক্ত পাথর হয়ে চেপে আছে আমার দেবতার ভাণ্ডারের স্বার। ওদের সাধ্য নেই সে পাথর গলাবে। আমাকে যিনি বেছে এনেছিলেন তিনি ভুল করেন নি।” 重 “তাঁকে আমি প্রণাম করি, আর পাই যদি সেই ছেলেগুলোর কান মলে দিই।” বিদায় নেবার আগে অধ্যাপক একবার ল্যাবরেটরিটা ঘরে এলেন সোহিনীকে সঙ্গে নিয়ে। বললেন, “এইখানেই মেয়েলিবন্ধির চোলাই হয়ে গেছে, অপদেবতার গাদ গেছে নেমে, বেরিয়ে এসেছে খাঁটি পিরিট।” সোহিনী বললে, “যা বলন, মন থেকে ভয় যায় না। মেয়েলিবন্ধি বিধাতার আদিসটি। যখন বয়স অলপ থাকে মনের জোর থাকে, তখন সে লুকিয়ে থাকে ঝোপেঝাপে, যেই রক্ত আসে ঠাণ্ডা হয়ে বেরিয়ে আসেন সনাতনী পিসিমা। তার আগেই আমার মরবার ইচ্ছে রইল।” অধ্যাপক বললেন, “ভয় নেই তোমার, আমি বলছি তুমি সজ্ঞানে মরবে।” 6. সাদা শাড়ি পরে, মাথায় কাঁচাপাকা চুলে পাউডার মেখে, সোহিনী মাখের উপর একটা শচি সাত্ত্বিক আভা মেজে তুললে। মেয়েকে নিয়ে মোটরলঞ্চে করে উপস্থিত