প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:গল্পগুচ্ছ (চতুর্থ খণ্ড).pdf/৬৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ল্যাবরেটরি げ●● তাকালে। সখন বেহারাটা গলাসকেসের চাবি নিয়ে এল ঘরে। সোহিনী জিগগেসা করলে, “এক পেয়ালা চা আনিয়ে দেব কি।" রেবতী ভাবলে বলা উচিত, হাঁ। বললে, “দোষ কী।" ও বেচারার চা অভ্যাস নেই, সদির আভাস দিলে বেলপাতাসিন্ধ গরম জল খেয়ে থাকে। মনে মনে বিশ্ববাস ছিল স্বয়ং নীলা আসবে পেয়ালা হাতে। সোহিনী জিগগেসা করলে, “তুমি কি কড়া চা খাও।” ও ফস করে বলে বসল, “হাঁ।” ভাবলে এ ক্ষেত্রে হাঁ বলাটাই পাকা দস্তুর। এল চা, সেটা কড়া সন্দেহ নেই। কালীর মতো রঙ, নিমের মতো তিতো । চা আনলে মনুসলমান খানসামা। এটাও ওকে পরীক্ষা করবার জন্যে। আপত্তি করতে ওর মুখে কথা সরল না। এই সংকোচ ভালো লাগল না সোহিনীর। খানসামাকে বললে, “চা’টা ঢেলে দাও-না মোবারক, ঠান্ডা হয়ে গেল যে ।” খানসামার হাতের পরিবেশন-প্রত্যাশায় রেবতী বিশ মিনিট আগে এখানে আসে নি । কী দুঃখে যে মুখে চামচ উঠছিল অন্তষামীই জানছিলেন, আর জানছিল সোহিনী। হাজার হোক মেয়েমানুষ, দগতি দেখে বললে, “ও পেয়ালাটা থাক । দুধ ঢেলে দিচ্ছি, তার সঙ্গে কিছু ফল খেয়ে নাও। সকাল সকাল এসেছ, বোধ হয় কিছ খেয়ে আসা হয় নি।" কথাটা সত্য। রেবতী ভেবেছিল আজও সেই বোটানিকালের পনেরাবৃত্তি হবে। কাছ দিয়েও গেল না, মুখে রয়ে গেল কড়া চায়ের তিতো সবাদ আর মনে রয়েছে আশাভঙ্গের তিতো অভিজ্ঞতা। এমন সময় প্রবেশ করলেন অধ্যাপক ; ঘরে ঢুকেই রেবতীর পিঠ চাপড়িয়ে বললেন, "কী রে, হল কী, সব যে একেবারে ঠাণ্ডা হিম! খকুর মতো বসে বসে দুধ খাচ্ছিস ঢকে ঢক। চার দিকে যা দেখছিস একি খোকাবাবরে খেলনার দোকান। যাদের চোখ আছে তারা দেখেছে, মহাকালের চেলারা এইখানে আসে তাণ্ডবনৃত্য করতে ।” “আহা, কেন বকছেন । না খেয়েই ও বেরিয়েছিল আজ সকালে। এল যখন, দেখলাম মুখ যেন শকেনো।” “ঐ রে, পিসিমা দি সেকেন্ড ! এক পিসিমা দেবে এক গালে চাপড়, আর-এক পিসিমা দেবে অন্য গালে চুমো। মাঝখানে পড়ে ছেলেটা যাবে ভিজে কাদা হয়ে । আসল কথা কী জান, লক্ষয়ী যখন আপনি সেধে আসেন চোখে পড়েন না ; যারা সাত মল্লকে ঘরে তাঁকে খুজে বের করে, ধরা দেন তিনি তাদেরই কাছে। না-চেয়ে পাওয়ার মতো না-পাওয়ার আর রাস্তা নেই। আচ্ছা, বলো দেখি মিসেস— দরে হোক গে ছাই মিসেস, আমি ডাকবই তোমাকে সোহিনী বলে, এতে তুমি রাগই কর আর যাই কর।” 轨 “মরণ আমার, রাগ করতে যাব কেন! ডাকুন আমাকে সোহিনী বলে, সহি বললে আমার কান জড়িয়ে যাবে।” o i l "গোপন কথাটা প্রকাশ করেই বলি। তোমার ঐ সোহিনী নামটির সঙ্গো আর