প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:গল্পগুচ্ছ (চতুর্থ খণ্ড).pdf/৬৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


v8о গলপক্ষকে সোহিনী অধ্যাপকের মাখের দিকে চেয়ে রইল। চৌধুরী বললেন, “জগতে বোকা অনেক রকম আছে, পরষ-বোকা সকল বোকার সেরা। কিন্তু মনে রেখো, দায়িত্ব হাতে না পেলে দায়িত্বের যোগ্যতা জন্মায় না। একজোড়া হাত পেয়েছে মানবে তাই সে হয়েছে মানুষ, একজোড়া খর পেলেই তার সঙ্গে সঙ্গে মলবার যোগ্য লেজ আপনি গজিয়ে উঠত। তুমি কি রেবতীর হাতের বদলে খর দেখতে পেয়েছ नाकि ।” “না, আমার ভালো লাগছে না। মেয়ের হাতেই যারা মানব কোনো কালে তাদের দুধে-দাঁত ভাঙে না। কপাল আমার! আপনি থাকতে আমি আর-কারও কথা কেন ভাবতে গেলাম।” “খুশি হলাম শনে। একটুখানি বুঝিয়ে দাও কী গণ আছে আমার।" “লোভ নেই আপনার একটাও।” “এত বড়ো নিন্দের কথা! লোভের মতো জিনিসকে লোভ করি নে?– খুবই कब्रि-” মখের কথা কেড়ে নিয়ে তাঁর গালে দটো চুমো দিয়ে সোহিনী সরে গেল। “কোন খাতায় জমা হল এটা সোহিনী।” “আপনার কাছে যে ঋণ পেয়েছি সে তো শোধ করতে পারি নে, তারই সনদ मिर्गीछ ।” “প্রথম দিন পেয়েছি একটি, আজ পেলাম দুটি। কেবলই বেড়ে চলবে নাকি।” “বাড়বে বই-কি, চক্ৰবন্ধির নিয়মে।” tf চৌধুরী বললেন, “সোহিনী, তোমার স্বামীর শ্রান্ধে শেষকালে আমাকে প্রত বানিয়ে দিলে ? সবনাশ, এ কি কম দায়িত্ব ! যার অস্তিত্ব হাতড়িয়ে পাওয়া যায় না তাকে খুশি করা ! এ তো বাঁধাদস্তুরের দান-দক্ষিনে নয় যে—“ “আপনিও তো বাধাদস্তুরের গরষ্ঠাকুর নন, আপনি যা করবেন সেটাই হবে পদ্ধতি। দানের ব্যবস্থা তৈরি করে রেখেছেন তো?” “কদিন ধরে ঐ কাজই করেছি, দোকানবাজার কম ঘুরি নি। দানসামগ্রী সাজানো হয়ে গেছে নীচের বড়ো ঘরটাতে। ইহলোকপিথত আত্মা যারা এগুলো আত্মসাৎ করবে তারা পেট ভরে খুশি হবে, সন্দেহ নেই।” চৌধুরীর সঙ্গে নীচে গিয়ে সোহিনী দেখলে, সায়ানস-পড়য়া ছেলেদের জন্যে নানা যন্ত্র, নানা মডেল, নানা দামী বই, নানা মাইক্লোসকোপের স্পাইডস, নানা বায়োলজির নমনা। প্রত্যেক সামগ্রীর সঙ্গে নাম ও ঠিকানা -লেখা কাড"। আড়াইশো ছেলের জন্যে চেক লেখা হয়েছে এক বৎসরের বত্তির। খরচের জন্যে কিছুমাত্র সংকোচ করা হয় নি। বড়ো বড়ো ধনীদের শ্রান্ধে যে ব্রাহ্মণবিদায় হয় তার চেয়ে এর ব্যয়ের প্রসর অনেক বেশি, অথচ বিশেষ করে চোখে পড়ে না এর সমারোহ। “পরতবিদায়ের কী দক্ষিণা দিতে হবে সেটা তো আপনি ধরে দেন নি।” “আমার দক্ষিণা তোমার খশি।"