প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:গল্পগুচ্ছ (চতুর্থ খণ্ড).pdf/৭৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


মানবার তাকে আমি শেষ পর্যন্ত মানব না। একলা দড়িয়ে লড়ব। আর বকে ফলিয়ে বলব, জিতবই। জিতবই, জিতবই।” "ব্র্যাভো, আমি ফিরিয়ে নিলাম আমার ফিলজফিটা। এখন থেকে লাগাৰ ঢাকে চটি তোমার জয়যাত্রার সঙ্গে সঙ্গে। আপাতত কিছুদিনের জন্যে বিদায় নিচ্ছি, ফিরতে দেরি হবে না।" আশচয্যের কথা এই—সোহিনীর চোখে জল ভরে এল। বললে, “কিছ মনে করবেন না।" জড়িয়ে ধরলে চৌধুরীর গলা। বললে, “সংসারে কোনো কখনই টেকে না, এও মহন্তকালের জন্যে।” ব’লেই গলা ছেড়ে দিয়ে পায়ের কাছে পড়ে সোহিনী অধ্যাপককে প্রণাম করলে। SO খবরের কাগজে যাকে বলে পরিস্থিতি সেটা হঠাৎ এসে পড়ে, আর আসে দল বোধে। জীবনের কাহিনী সুখে দুঃখে বিলম্বিত হয়ে চলে। শেষ অধ্যায়ে কোলিশন লাগে অকস্মাৎ ভেঙেচুরে স্তৰধ হয়ে যায়। বিধাতা তাঁর গল্প গড়েন ধীরে ধীরে, গল্প ভাঙেন এক ঘায়ে। সোহিনীর আইমা থাকেন আশ্বালায়। সোহিনী তার কাছ থেকে টেলিগ্রাম পেয়েছে ‘যদি দেখা করতে চাও শীঘ্র এসো’। এই আইমা তার একমাত্র আত্মীয় যে বেচে আছে। এরই হাত থেকে নন্দকিশোর কিনে নিয়েছিলেন সোহিনীকে। নীলাকে তার মা বললে, “তুমিও আমার সঙ্গে এসো।” নীলা বললে, “সে তো কিছুতেই হতে পারে না।” "কেন পারে না।” "ওরা আমাকে অভিনন্দন দেবে তারই আয়োজন চলছে।” "ওরা কারা ?” “জাগানী ক্লাবের মেম্বররা। ভয় পেয়ো না, খব ভদ্র ক্লাব। মেম্বরদের নামের ফদ দেখলেই বুঝতে পারবে। খবই বাছাই-করা।” “তোমাদের উদ্দেশ্য কণী ।” “স্পষ্ট বলা শক্ত। উদ্দেশ্যটা নামের মধ্যেই আছে। এই নামের তলায় আধ্যাত্মিক সাহিত্যিক আটিস্টিক সব মানেই খাব গভীরভাবে লকোনো আছে। নবকুমারবাব খুব চমৎকার ব্যাখ্যা করে দিয়েছিলেন। ওরা ঠিক করেছে তোমার কাছ থেকে চাঁদা নিতে আসবে।” “কিন্তু চাঁদা দেখছি ওরা নিয়ে শেষ করেছে। তুমি ষোলো-আনাই পড়েছ ওর হাতে। কিন্তু এই পর্যন্তই। আমার যেটা ত্যাজ্য সেটাই ওরা পেয়েছে। আমার কাছ থেকে আর কিছল পাবার নেই।" t “মা, এত রাগ করছ কেন। ওঁরা নিঃসবার্থভাবে দেশের উপকার করতে চান।” “আচ্ছা, সে আলোচনা থাক। এতক্ষণে তুমি বোধ হয় তোমার বন্ধদের কাছ থেকে খবর পেয়েছ যে তুমি স্বাধীন।”