প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:গল্পগুচ্ছ (চতুর্থ খণ্ড).pdf/৭৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


しf8げ গল্পগছে চলো তোমাকে বাড়ি পেপছিয়ে দিয়ে আসি গে।” বলে তাকে নিয়ে গেল। কিছুক্ষণ পরে আবার ঘরে ঢাকল পাঞ্জাবী। বললে, "চারি দিকে আমি দরজা বন্ধ করে রাখি, তুমি ওকে ভিতর থেকে খালে দিয়েছ।” এ কী সন্দেহ, কী অপমান । বারবার করে বললে, “আমি খালি নি।” “তবে ও কী করে ঘরে এল।” সেও তো বটে। বিজ্ঞানী তখন সন্ধান করে বেড়াতে লাগল ঘরে ঘরে। অবশেষে দেখলে রাস্তার ধারের একটা বড়ো জানলা ভিতর থেকে আগল দেওয়া ছিল, কে সেই আগলটা দিনের বেলায় এক সময়ে খলে রেখে গেছে। রেবতীর যে ধত বন্ধি আছে এতটা শ্রদ্ধা তার প্রতি দরোয়ানজির ছিল না। বোকা মানুষ, পড়াশুনো করে এই পষত তার তাকত। অবশেষে কপাল চাপড়ে বলে, “আওরত ! এ শয়তানি বিধিদত্ত।” যে অলপ-একটা রাত বাকি ছিল রেবতী নিজেকে বারবার করে বলালে, চায়ের নিমন্ত্রণে যাবে না। কাক ডেকে উঠল। রেবতী চলে গেল বাড়িতে। ১ই পরের দিন সময়ের একটা ব্যতিক্রম হল না। চায়ের সভায় চারটে প’য়তাল্লিশ মিনিটেই রেবতী গিয়ে হাজির। ভেবেছিল এ সভা নিভৃতে দুজনকে নিয়ে। ফ্যাশনেবল সাজ ওর দখলে নেই। পরে এসেছে জামা আর ধতি, ধোবার বাড়ি থেকে নতুন কাচিয়ে আনা, আর কাঁধে বলেছে একটা পাট-করা চাদর। এসে দেখে সভা বসেছে বাগানে। অজানা শোঁখিন লোকের ভিড়। দমে গেল ওর সমস্ত মনটা, কোথাও লকোতে পারলে বাঁচে। একটা কোণ নিয়ে বসবার চেষ্টা করতেই সবাই উঠে পড়ল। বললে, “আসন আসন ডক্টর ভট্টাচাৰ্য, আপনার আসন এইখানে।” একটা পিঠ-উচু মখমলে-মোড়া চৌকি, মণ্ডলীর ঠিক মাঝখানেই। বাবতে পারলে সমস্ত জনতার প্রধান লক্ষ্যই ও । নীলা এসে ওর গলায় মালা পরিয়ে দিলে, কপালে দিলে চন্দনের ফোঁটা। ব্রজেন্দ্রবাব প্রস্তাব করলেন ওকে জাগানী সভার সভাপতি পদে বরণ করা হোক। সমর্থন করলেন বঙ্কুবাব, চারি দিকে করতালির ধৰনি উঠল। সাহিত্যিক হরিদাসবাব ডক্টর ভট্টাচার্যের ইন্টারন্যাশনাল খ্যাতির কথা ব্যাখ্যা করলেন। বললেন, “রেবতীবাবরে নামের পালে হাওয়া লাগিয়ে আমাদের জাগানী ক্লাবের তরণী খেয়া দেবে পশ্চিম-মহাসমাদের ঘাটে ঘাটে।” সভার ব্যবস্থাপকেরা রিপোর্টারদের কানে কানে গিয়ে বললে, “উপমাগুলোর কোনোটা যেন রিপোর্ট থেকে বাদ না যায়।” বক্তারা একে একে উঠে যখন বলতে লাগল এতদিন পরে ডক্টর ভট্টাচাৰ্য সায়াসের জয়তিলক ভারতমাতার কপালে পরিয়ে দিলেন রেবতীর বকেটা ফলে উঠল— নিজেকে প্রকাশমান দেখলে সভ্যজগতের মধ্যগগনে। জাগানী সভা সম্বন্ধে যে-সমস্ত