প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:গল্পগুচ্ছ (চতুর্থ খণ্ড).pdf/৮৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


Vもむ গল্পগুচ্ছ “আহা, কী করছ, কাঁদ কেন, সামান্য একটা ঠাট্রা নিয়ে!” “না, তোমার এই ঠাট্টা আমার সইবে না, আমি বলে রাখছি।” “আচ্ছা, আচ্ছা, ব্যস-রইল, এখন তুমি আরামে নিশ্চিত হয়ে তোমার কুকুরকে খাইয়ে এসো। ও আবার কাটলেট নইলে খায় না, পাডিং না হলে পেট ওর ভরে না। সামান্য কুকুর নিয়ে তুমি অত বাড়াবাড়ি কর কেন আমি বুঝতেই পারি না।” সদ বললে, “তোমরা পরষ মানুষ বুঝবে না। পত্রহীনা মেয়ের বদকে যে স্নেহ জমে থাকে সে যে-কোনো একটা প্রাণীকে পেলে তাকে বকের কাছে টেনে নেয়। ওকে একদিন না দেখলে আমার মনে কেবলই ভয় হতে থাকে, কে ওকে কোন দিক থেকে ধরে নিয়ে গেল। তাই তো আমি ওকে এত যত্নে ঢেকেঢকে রাখি।” “কিন্তু আমি বলে দিচ্ছি সদন, কোনো জানোয়ার এত আদরে বেশি দিন বাঁচতে পারে না।” “তা, যতদিন বাঁচে ভালো করেই বাঁচুক।” বিজয়বাব বিশ্রাম করতে লাগলেন। ইতিমধ্যে পলিসের দলবল জটল, চলল সবাই আলাদা আলাদা রাস্তায় মোচকাঠির দিকে। বহু দরের পথ, প্রায় রাত পাইয়ে গেল যেতে-আসতে। পরের দিন বেলা সাতটার সময় মুখ শুকিয়ে ইন্সপেক্টর বাড়িতে এসে কেদারাটার উপরে ধপাস করে বসে পড়লেন। বললেন, “সদ, বড়ো ফাঁকি দিয়েছে! তোমার কথাই সত্যি। পলিসের লোক ঘেরাও করলে বন, সে বনে জনমানব নেই। হৈ হৈ লাগিয়ে দিলে ; চীৎকার করে বলতে লাগলে, “কোথায় আছ বের হও, নইলে আমরা গুলি চালাব। অনেকগুলো ফাঁকা গুলি চলল, কোনো সাড়া নেই। পলিসের লোক খবে সাবধানে বনের মধ্যে ঢুকে তল্লাস করলে। তখন ভোর হয়ে এসেছে। রব উঠল, 'ধর সেই নিতাইকে, বদমাইসকে। নিতাইয়ের আর টিকি দেখা যায় না। একখানা চিঠি পাওয়া গেল, কেবল এই কটি কথা— ‘আসামী নিরাপদ। দিদিকে আমার প্রণাম জানাবেন। অনিল ।’ দেখো দেখি কী কান্ড, এর মধ্যে আবার তোমার নাম জড়ানো কেন, শেষ কালে”— “শেষকালে আবার কী। পলিসের ঘরের গিন্নি কি আসামীর ঘরের দিদি হতেই পারে না। সংসারের সব সম্ববন্ধই কি সরকারী খামের ছাপ-মারা। আমি আর কিছু বলব না। এখন তুমি একটা শোও, একট ঘনমোও।” ঘমে ভাঙল তখন বেলা দপর। স্নান করে মধ্যাহ্ন ভোজনের পর বিজয় বসে বসে পান চিবোতে চিবোতে বললেন, “লোকটার চালাকির কথা কী আর তোমাকে বলব। ও দলবল নিয়ে চার দিকে প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে বেড়াচ্ছে, ও ভোর রাত্তিরে কুম্ভক যোগ করে শন্যে আসন করে—এটা নাকি অনেকের স্বচক্ষে দেখা। গ্রামের লোকের বিশ্ৱাস জমিয়ে দিয়েছে—ও একজন সিদ্ধপয়ষ, বাবা ভোলানাথের চিহ্নিত। ওর গায়ে হাত দেবে হিন্দরে ঘরে আজ এমন লোক নেই। তারা আপন ঘরের দাওয়ায় ওর জন্য খাবার রেখে দেয়— রীতিমত নৈবেদ্য। সকাল-বেলা উঠে দেখে তার কোনো চিহ্ন নেই। হিন্দ পাহারাওয়ালারা তো ওর কাছে ঘোষতেই চায় না। একজন দারোগা সাহস করে হিজলাকান্দির দাঙ্গার পরে ওকে গ্রেপতার