প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:গল্পগুচ্ছ (চতুর্থ খণ্ড).pdf/৯১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


b) গল্পগুচ্ছ সদ ভক্তিতে গদগদ হয়ে পায়ের কাছে লুটিয়ে পড়ল, পাড়ার লোক তার প্রণামের ঘটা দেখে হেসে বাঁচে না। প্রবীণা প্রতিবেশিনী মাচকে হেসে বললেন, "সাধন সন্ন্যাসীদের প্রতি তোমার এত ভক্তি হঠাৎ জেগে উঠল কী করে।” সদ্য হেসে বললে, “দরকার পড়লেই ভক্তি উথলে ওঠে। বাবাঠাকুরেরা পায়ের ধলো নিলে গলে যান। মিনর বিয়ে না হওয়া পর্যন্ত আমার ভক্তিটাকে টিকিয়ে রাখতে হবে।” ঘন ঘন শাখ বেজে উঠল, উলর সঙ্গে বর আসার শব্দ এল চার দিক থেকে। কনেকে একটি চেলী-জড়ানো পাটলির মতো করে এয়োর দল নিয়ে এল ছদিনাতলায়। নিবিঘে কাজ সমাধা হল। বর কনে বাবাজিকে প্রণাম করে অন্দরে যাবার জন্য উঠে দাঁড়াল, তখন বাবাজি আশীবাদ শেষ করে বিজয়বাবকে আর সভার সবাইকে বললেন, “মশায়, আমার খবরটা এবারে দিয়ে যাই। পরতের কাজ আমার পেশা নয়। আমার যা পেশা সে আপনার সমস্ত দারোগা-কনস্টেবলদের ভালো করেই জানা আছে। এখন আপনাদের পরতের দক্ষিণা দেবার সময় এসেছে। সে পৰ্যন্ত আমার আর সবার সইবে না। অতএব আপনার বিদায় করবার আগেই আমি বিদায় নিলেম ।” এই বলে সন্ন্যাসী সকলের সামনে দাড়ি গোঁফ টেনে ফেলে তিন লাফে চণ্ডী মন্ডপের পাঁচিল ডিঙিয়ে উধাও। সভার লোকেরা হাঁ করে চেয়ে রইল। বিজয়বাবর মুখে কথা নেই। বিয়ের ভোজ শেষ হয়ে গেছে, পাড়াপড়শী গেছে যে যার ঘরে। বরবধ বাসর ঘরে বিশ্রাম নিচ্ছে। সদা স্বামীকে বললে, “তুমি ভাবছ কী, যেমন করে হোক কাজ তো উদ্ধার হয়ে গেছে। সন্ন্যাসী উধাও হয়ে গিয়ে তোমাদেরই তো কাজ হালকা করে দিয়ে গেল। এখন বাসিবিয়ের আয়োজন করতে হবে, চোর-ডাকাতের পিছনে সময় নস্ট কোরো না। কিন্তু সেই মেয়েটির কোনো খোঁজ পেলে কি।” “দুঃখের কথা বলব কী, এখন একটি মেয়ের জায়গায় রোজ আমার থানার সামনে পাচিশটি মেয়ের আমদানি হচ্ছে চাল কলা নৈবেদ্য নিয়ে। এখন কোনটি যে কে খোঁজ করা শক্ত হয়ে উঠল।" “সে কী, তোমার দরজায় এত মেয়ের আমদানি তো ভালো নয়। ওখানে তুমি কি বাবাজি সেজে বসেছ নাকি।” “না, লোকটার চালাকির কথা শোনো একবার, অবাক হবে। একদিন হঠাৎ কিষণলাল এমে খবর দিলে আফিসের সামনের রাস্তায় একটি পাথর বেরিয়েছে। তার গায়ে পাড়ার মেয়েরা এসে সিদর লাগাচ্ছে, চন্দন মাখাচ্ছে ; কেউ চাইতে এসেছে সন্তান, কেউ স্বামীসৌভাগ্য, কেউ আমারই সব নাশ। এই ভিড় পরিকার করতে গেলেই খবরের কাগজে মহা হাউমাউ করে উঠবে যে এইবার হিন্দরে ধর্ম গেল। আমার হিন্দ পাহারাওয়ালারাও তাকে পাঁচ সিকা করে প্রণামী দেয়। ব্যবসা খাব জমে উঠল। টাকাগুলো কে আদায় করছে অবশেষে সেটার দিকে চোখ পড়ল। একদিন দেখা গেল—না আছে পাথরটা, না আছে টাকার থালা। আর সেই পাগলা এগাছের লোকটা সেও তার সাজ বদলে কোথায় ষে গা-ঢাকা দিল সে সম্বন্ধে নানা