প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:গল্পগুচ্ছ (চতুর্থ খণ্ড).pdf/৯৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


b/S8 গল্পগুচ্ছ স্তব করব না— পলিসের কাজে তোমার খবরদারির শেষ নেই, কিন্তু আমাকে তুমি চোখ বাজে বিশ্বাস করে এসেছ, যদিও সব সময়ে সেই বিশ্ববাসের যোগ্যতা আমার ছিল না। আমি এই জন্যই তোমাকে ভক্তি করি, আমার ভক্তি শাস্ত্রমতে গড়া নয়।" “সদ আর কেন, পেট ভরে যা বলবার সে তো বলে গেলে, এখন তোমার ঐ কুকুরটাকে খাওয়াতে যাও, বন্ড চে'চাচ্ছে— ও আমাকে ঘমোতে দেবে না। আমি ভাবছি আমাকে এবারে ছয়টির দরখাস্ত দিতে হবে।" সদ হেসে বললে, “তুমি ইন্সপেক্টরি ছেড়ে দিয়ে গাছতলায় বাবাজি সেজে বোসো, তোমার আয় যাবে বেড়ে, আমিও তার কিছর বখরা পাব।” “সব তাতেই তুমি যেমন নিশ্চিত হয়ে থাক, আমার ভালো লাগে না।” "ও আমার স্বভাব, তোমার খনী ডাকাতদের জন্য আমি চিন্তা করতে পারব না। একা তোমার চিন্তাতেই আমার দিন চলে গেল। সমস্ত দেশের লোকের হাসিতে যোগ না দিয়ে আমি করব কী। তোমার এই পলিসের থানায় স্বদেশীদের নিয়ে অনেক চোখের জল বয়ে গেছে, এত দিনে লোকেরা একট হেসে বাঁচছে। এই জন্যই আনিলবাবকে সবাই দ্য হাত তুলে আশীবাদ করছে, তুমি ছাড়া। আমি দুশ্চিন্তার ভান করব কী করে বলো দেখি।” 卤 তৃতীয় “দেখো, সদর, এবারে আমি তোমার শরণাপন্ন।” সদ বললে, “কবে তুমি আমার শরণাপন্ন নও, শনি। এই জন্য তো তোমাকে সবাই স্মৈণ বলে। দ্য জাতের সৈন্ত্রণ আছে। এক দল পর্ষ সীর জোরের কাছে হার না মেনে থাকতে পারে না, তারা কাপরাষ। আর এক দল আছে তারা সত্যিকার পরষে, তাই তারা সীর কাছে অসংশয়ে হার মেনেই নেয়। তারা অবিশ্বাস করতে জানেই না, কেননা তারা বড়ো। এই দেখো-না আমার কত বড়ো সবিধে— তোমাকে যখন খুশি যেমন খুশি ঠকাতে পারি, তুমি চোখ বাজে সব নাও।” “সদ, কণী পাট পট তোমার কথাগুলি গো!” "সে তোমারই গণে কতা, সে তোমারই গণে।" "এবারে কাজের কথাটা শনে নাও— ও-সব আলোচনা পরে হবে। এবারে একটা সরকারী কাজে তোমার সাহায্য চাই। নইলে আমার আর মান থাকে না। পলিসের লোকরা নিশ্চয়ই জেনেছে এই কাছাকাছি কোথায় এক জায়গায় একজন মেয়ে আছে। সেই এখানকার খবর কেমন করে পায় আর ওকে সাবধানে চালিয়ে নিয়ে বেড়ায়। সে আচ্ছা জাহাবাজ মেয়ে। ওরা বলছে সে এই পাড়ারই কোনো বিধবা মেয়ে। যেমন করে হোক তার সন্ধান নিয়ে তার সঙ্গে তোমাকে ভাব করতে হবে।” সদ বললে, “শেষকালে আমাকেও তোমাদের চরের কাজে লাগাবে! আচ্ছা, তাই হবে, মেয়েকে দিয়ে মেয়ে ধরার কাজে লাগা যাবে, নইলে তোমার মখে রক্ষা হবে না। আমি এই ভার নিলাম। দদিনের মধ্যে সমস্ত রহস্য ভেদ হয়ে যাবে।” “পরশ হল শিবরারি, খবর পেয়েছি অনিল ডাকাত সিম্বেশবরী তলার মন্দিরে জপতপ করে রাত কাটাবে। তার মনে তো ভয়-দের কোথাও নেই। এ দিকে ও ভারি