পাতা:গল্পগুচ্ছ (চতুর্থ খণ্ড).pdf/৯৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


वननाश। bfも● ধামিক কিনা, ও মেয়েটা থাকবে তার কিরকম তালিক মতের সী হয়ে।” ” “তোমরা পলিসের লোক আড়ালে আড়ালে থেকো, আমি ধরে দেব। কিন্তু রাত্রি একটার আগে যেয়ো না। তাড়াহুড়ো করলে সব ফসকে যাবে।” অমাবস্যার রাত, একটা বেজেছে। পায়ের-জতো-খোলা দটো একটা লোক অন্ধকারে নিঃশব্দে এ দিকে ও দিকে বেড়াচ্ছে। বিজয়বাব মন্দিরের দরজার কাছে। একজন চুপিচুপি তাঁকে ইশারা করে ডাকলে, আস্তে আস্তে বললে, “সেই ঠাকরনটি আজ মন্দিরের মধ্যে এসেছেন তাতে সন্দেহমাত্র নেই। তিনি বিখ্যাত কোনো যোগিনী ভৈরবী । দিনের বেলা কারো চোখেই পড়েন না। রাত্রি একটার পর শুনেছি নটরাজের সঙ্গে তাঁর নত্য। একটা লোক দৈবাৎ দেখেছিল, সে পাগল হয়ে বেড়াচ্ছে চারি দিকে। হজের, আমরা মন্দিরে গিয়ে ঐ ঠাকরনের গায়ে হাত দিতে পারব না। এমন-কি চোখে দেখতেও পারব না— এ বলে রাখছি। আমরা ব্যারাকে ফিরে যাব ঠিক করেছি। আপনি একলা যা পারেন করবেন।” একে একে তারা সবাই চলে গেল। নিঃশব্দ–বিজয়বাব যত বড়ো একেলে লোক হোন-না কেন, তাঁর যে ভয় করছিল না এ কথা বলা যায় না। তাঁর বকে দরদের করছে তখন। দরজার কাছ থেকে মেয়েলি গলায় গান গন আওয়াজ শোনা যাচ্ছে : ধ্যায়েন্নিত্যং মহেশং রজতগিরিনিভং চারুচন্দ্রাবতংসং ! বিজয়ের গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠতে লাগল। ভাবলেন কী করা যায়। এক সময়ে সাহসে ভর করে দিলেন দরজায় ধাক্কা। ভাঙা দরজা খালে গেল। ভিতরে একটি মাটির প্রদীপ মিটমিট করে জবলছে, দেখলেন শিবলিঙ্গের সামনে তাঁর সন্ত্রী জোড়হাত করে বসে, আর অনিল এক পাশে পাথরের মতির মতো দাঁড়িয়ে। নিজের সন্ত্রীকে দেখে সাহস হল মনে, বললেন—“সদ, অবশেষে তোমার এই কাজ !” “হ্যাঁ, আমিই সেই মেয়ে যাকে তোমরা এতদিন খুজে বেড়াচছ । নিজের পরিচয় দেব বলেই আজ এসেছি এখানে। তুমি তো জান আমাদের দেশে দৈবাৎ দই একজন সত্যিকার পরষে দেখা দেয়। তোমাদের একমাত্র চেষ্টা এদের একেবারে নিজীব করে দিতে। আমরা দেশের মেয়েরা যদি এই-সব সসন্তানদের আপন প্রাণ দিয়ে রক্ষা না করি তবে আমাদের নারীধমকে ধিক। তোমার অগোচরে নানা কৌশলে এতদিন এই কাজ করে এসেছি। যাঁর কোনো হঝুেম কখনও ঠেলতে পারি নি, সকলের চেয়ে কঠিন আজকের এই হুকুম— এও আমাকে মানতে হবে। এই আমার দেবতাকে আজ তোমার হাতেই ছেড়ে দিয়ে আমি সরে দাঁড়াব। জানি আমার চেয়ে বড়ো রক্ষক তাঁর মাথার উপরে আছেন। দ্য দিন পরেই সমাজের সঙ্গে আমার সম্প্রবন্ধ কী রকম নিন্দায় ভরে উঠবে তা আমি জানি। এই লাঞ্ছনা আমি মাথায় করে নেব । কখনো মনে কোরো না চাতুরী করে তোমার সন্ত্রীকে বাঁচিয়ে এই মানুষকে আলাদা নালিশে জড়াতে পারবে। আমি চিরদিন তাঁর পিছন পিছন থেকে শাসিতর শেষ পালা পর্যন্ত যাব। তুমি সুখে থেকো। তোমার ভয় নেই, ইচ্ছা করলেই তুমি নতন সঙ্গিনী পাবে। আর যা কর আমাকে দয়া কোরো না। আমার চেয়ে অনেক বড়ো যাঁরা তাঁদের তুমি তা কর নি। সেই নিঠরতার অংশ নিয়ে মাথা উচু করেই আমি তোমার কাছ থেকে বিদায় নেব। প্রাণপণে তোমার সেবা করেছি ভালোবেসে, প্রাণপণে তোমাকে