প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:গল্পগুচ্ছ (চতুর্থ খণ্ড).pdf/৯৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


প্রগতিসংহার bも為 আড়চোখে দেখেন— দেখে তরিও হাসি চাপা শক্ত হয়ে ওঠে। একদিন রব উঠল কোনো মহারাজা কলেজ দেখতে আসবেন, বিশেষ করে মেয়েদের ক্লাস। কানে কানে গজেব রটল— তাঁর এই দেখতে আসার লক্ষ্য ছিল বধ জোগাড় করা। একদল মেয়ে ভান করলে যে, তাদের যেন অপমান করা হচ্ছে । কিন্তু ওরই ভিতরে দেখা গেল সেদিনকার খোঁপায় কিছু শিল্পকাজ, সেদিনকার পাড়ে কিছল রঙ । লোকটি তো যে সে নয়, সে ক্রোড়পতি । মেয়েদের মনের মধ্যে একটা হাড়োমড়ি ছিল সকলের আগে তাঁর চোখে পড়বার । তার পরে ক্লাস তো হয়ে গেল । একটা দত এসে জানালে যে তাঁর পছন্দ ঐ সরীতিকেই। সরীতি জানে, এ রাজার তহবিলে অগাধ টাকার জোরে পরষ জাতির সমস্ত নীচতা কোথায় তলিয়ে যায়। ভান করলে এ প্রস্তাবে সে যে কেবল রাজি নয় তা নয়, বরণ সে অপমানিত বোধ করছে। কেননা, মেয়েদের ক্লাস তো গোহাটা নয়, যে, ব্যবসায়ী এসে গোর বাছাই করে নিয়ে যাবে। কিন্তু মনে-মনে ছিল আর-একটা সাধ্যসাধনার প্রত্যাশা। ঠিক এমন সময়ে খবর পাওয়া গেল, মহারাজা তাঁর সমস্ত পাগড়ি-টাগড়ি-সমেত অন্তধান । করেছেন। তিনি বলে গিয়েছেন, বাঙালি মেয়েদের মধ্যে একটাকেও বাছাই করে নেবার যোগ্য তিনি দেখলেন না। এর চেয়ে তাঁদের পশ্চিমের বেদের মেয়েরাও অনেক ভালো । ক্লাস-সন্ধে মেয়েরা একেবারে জন্বলে উঠল। বললে, কে বলেছিল তাঁকে আমাদের এই অপমান করতে আসতে ! সেদিন তাদের সাজসজ্জার মধ্যে যে একট কারিগরি দেখা গিয়েছিল সেটা লজা দিতে লাগল। এমন সময়ে প্রকাশ পেল—মহারাজটি তাদেরই একজন পরোনো ছাত্র। বাপ-মায়ের বিষয়-সম্পত্তি জয়ো খেলে উড়িয়ে দিয়ে সে খুজে বেড়াচ্ছে টাকাওয়ালা মেয়ে। মেয়েদের মাথা হেট হয়ে গেল । সরীতি করে বার করে বলতে লাগল— সে একটুও বিশ্বাস করে নি। সে প্রথম থেকেই কেবল যে বিশ্ববাস করে নি তা নয়, সে কলেজের প্রিন্সিপালকে এই পড়ার ব্যাঘাত নিয়ে নালিশ করতে পর্যন্ত তৈরি ছিল। হয়তো ছিল, কিন্তু তার তো কোনো দলিল পাওয়া গেল না। এমনি করে একটার পর আর-একটা উৎপাত চলতেই লাগল। এই সমস্ত উপদ্রবের প্রধান পান্ডা ছিল নীহার। একবার ডিগ্রি নিতে যাচ্ছিল যখন সরেীতি, তার পাশে এসে নীহার বললে, “কণী গো গরবিনী, মাটিতে যে পা পড়ছে না!" সরীতি মুখ বেকিয়ে বললে, “দেখন, আপনি আমার নাম নিয়ে ঠাট্টা করবেন ना ।” নীহার বললে, “তুমি বিদাষী হয়ে একে ঠাট্রা বলো, এ যে বিশাধ ক্লাসিক্যাল সাহিত্য থেকে কোটেশন করা! এমন সম্মান কি আর কোনো নামে হতে পারে!” “আমাকে আপনার সমমান করতে হবে না।” “সন্মান না করে বাঁচি কী করে! হে বিকচকমলায়তলোচনা, হে পরিণতশরচ্চন্দ্ৰবদনা, হে সিমতহাস্যজ্যোৎস্নাবিকাশিনী, তোমাকে আদরের নামে ডেকে যে তৃপ্তির শেষ হয় না।” i “দেখন, আপনি আমাকে রাস্তার মধ্যে যদি এরকম অপমান করেন, আমি