প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:গল্পগুচ্ছ (চতুর্থ খণ্ড).pdf/৯৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


૪૧૦ গল্পগুচ্ছ প্রিন্সিপালের কাছে নালিশ করব।” “নালিশ করতে হয় কোরো, তবে অপমানের একটা সংজ্ঞা ঠিক করে দিয়ো । এর মধ্যে কোন শব্দটা অপমানের ? বলো তো আমি আরও চড়িয়ে দিতে পারি। বলব—হে নিখিলবিশ্ববহৃদয়-উন্মাদিনী”— রাগে লাল হয়ে সরীতি দ্রতপদে চলে গেল। তার পিছন দিকে খুব একটা হাসির ধবনি উঠল। ডাক পড়তে লাগল, “ফিরে চাও হে রোষারণলোচনা, হে যৌবনমদমত্তমাতঙ্গিনী”— * , তার পরের দিন ক্লাস আরম্ভ হবার মুখেই রব উঠল, "হে সরস্বতী-চরণকমলদল-বিহারিণী-গঞ্জেনমত্ত-মধৱতা, পণচন্দ্রনিভাননী”— সরীতি রেগে গিয়ে পাশের ঘরে সুপারিনটেণ্ডেণ্ট গোবিন্দবাবকে বললে, “দেখন, আমাকে কথায় কথায় অপমান করলে আমি থাকব না।” তিনি এসে বললেন, ক্লাসের ছেলেদের, "তোমরা কেন ওকে এত উপদ্রব করছ।” নীহার বললে, “একে কি উপদ্রব বলে ! যদি কেউ নালিশ করতে পারে, তবে পণচন্দ্রই করতে পারতেন যে তাঁকে আমি ঠাট্টা করেছি। আমাদের ক্লাসে যোগেশ বলে—ওগুলো বাদ দিয়ে শধে ওকে নিভাননা বললেই হয়, কেননা কলমের নিভের মতন সতীক্ষয় ওর মুখ। শচনে বরং আমি বলেছিলাম ছি, এরকম করে বলতে নেই, ওঁরা হলেন বিদষী— কথাটা চাপা দিয়েছিলাম। কিন্তু পাণচন্দ্রনিভাননাতে আমি তো দোষের কিছু দেখি নি।” I গিয়েছিলম—হে সরস্বতীচরণকমলদলবিহারিণী গঞ্জনমত্তমধৱতা! প্রথমত কথাটা নিন্দার নয়, দ্বিতীয়ত সেটা যে ওরই প্রতি লক্ষ করে বলা এত বড়ো অহংকার ওর কেন হল। ঘরেতে আরও তো ছাত্রী আছে, তারা তো ছিল খুশি ।” সপোরিনটেণ্ডেণ্ট বললেন, “অপথানে অসময়ে এ রকম সম্ভাষণগুলো লোকে পরিহাস বলেই নেয়। দরকার কী বলা!” “দেখন সার, মন যখন উতলা হয়ে ওঠে তখন কি সময় অসময়ের বিচার থাকে। তা ছাড়া আমাদের এ সম্ভাষণ যদি পরিহাসই হয়, তা হলে তো এটা কেউ গায়ে না নিয়ে হেসে উড়িয়ে দিতে পারতেন। আর, আপনার কলেজে এত বড়ো বড়ো সব বিদাষী, এরা কি পরিহাসের উত্তরে পরিহাস করতেও জানেন না ? এদের দন্তর চিকেমিদীতে কি হাস্যমাধরী জাগবে না। তা হলে আমরা সব তৃষিত সন্ধাপিপাস পর্যগুলো বাঁচি কী করে।” এই রকম কথা-কাটাকাটির পালা চলত যখন তখন। সরেীতি অস্থির হয়ে উঠল— তার স্বাভাবিক গাভীয়া আর টেকে না। সে ঠাট্টা করতে জানে না, অথচ কড়া জবাব করবার ভাষাও তার আসে না। সে মনে-মনে জনলে পড়ে মরে। সরেীতির এই দগতিতে দয়া হয় এমন পরষেও ছিল ওদের মধ্যে, কিন্তু তারা ঠাই পায় না। আর-একদিন হঠাৎ কী খেয়াল গেল, যখন সরেীতি কলেজে আসছিল তখন রাস্তার ওপার থেকে নীহার তাকে ডেকে উঠল— ‘হে কনকচক্ষপকদামগৌরী ! লোকটা পড়াশনা করেছে বিস্তর, তার ভাষা শিখবার যেন একটা নেশা ছিল। যখন তখন অকারণে সংস্কৃত আওড়াত, তার ধননিটা লাগত ভালো। পাঠ্য পুস্তকের