প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:গল্পগুচ্ছ (তৃতীয় খণ্ড).djvu/১৯১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শেষের রারি GRO > “মণি তোমাকে ভিতরে ভিতরে খব—” “সে কি জানি নে যতীন। তুই এখন ঘমো।” । “আমি মণিকে সব লিখে দিলম বটে, কিন্তু তোমারই সব রইল মাসি। ও তো তোমাকে কখনো অমান্য করবে না।” “সেজন্য অত ভাবছ কেন, বাছা।” “তোমার আশীবাদেই আমার সব, তুমি আমার উইল দেখে এমন কথা কোনোদিন মনে কোরো না---” "ও কী কথা যতীন। তোমার জিনিস তুমি মণিকে দিয়েছ বলে আমি মনে করব ! আমার এমনি পোড়া মন! তোমার জিনিস ওর নামে লিখে দিয়ে যেতে পারছ বলে তোমার যে সুখ সেই তো আমার সকল সখের বেশি, বাপ ।” “কিন্তু, তোমাকেও আমি—” “দেখ যতীন, এইবার আমি রাগ করব। তুই চলে যাবি, আর তুই আমাকে টাকা দিয়ে ভুলিয়ে রেখে যাবি!” "মাসি, টাকার চেয়ে আরও বড়ো যদি কিছ তোমাকে—” "দিয়েছিস যতীন, ঢের দিয়েছিস। আমার শান্য ঘর ভরে ছিলি, এ আমার অনেক জন্মের ভাগ্য। এতদিন তো বকে ভরে পেয়েছি, আজ আমার পাওনা যদি ফরিয়ে গিয়ে থাকে তো নালিশ করব না। দাও, সব লিখে দাও, লিখে দাও— বাড়িঘর, জিনিসপত্র, ঘোড়াগাড়ি, তালুক-মলক—যা আছে সব মণির নামে লিখে দাও— এ-সব বোঝা আমার সইবে না।” “তোমার ভোগে রচি নেই—কিন্তু, মণির বয়স অলপ, তাই—“ “ও কথা বলিস নে, ও কথা বলিস নে। ধনসম্পদ দিতে চাস দে, কিন্তু ভোগ করা---" - "কেন ভোগ করবে না মাসি।” "না গো না, পারবে না, পারবে না! আমি বলছি, ওর মাথে রচেবে না! গলা শকিয়ে কাঠ হয়ে যাবে, কিছতে কোনো রস পাবে না।” যতীন চুপ করিয়া রহিল। তাহার অভাবে সংসারটা মণির কাছে একেবারে বিবাদ হইয়া যাইবে এ কথা সত্য কি মিথ্যা, সখের কি দুঃখের, তাহা সে যেন ভাবিয়া ঠিক করিতে পারিল না। আকাশের তারা যেন তাহার হাদয়ের মধ্যে আসিয়া কানে কানে বলিল, এমনিই বটে—আমরা তো হাজার হাজার বছর হইতে দেখিয়া আসিলাম, সংসার-জোড়া এই-সমস্ত আয়োজন এত বড়োই ফাঁক।” যতীন গভীর একটা নিশ্বাস ফেলিয়া বলিল, “দেবার মতো জিনিস তো আমরা কিছুই দিয়ে যেতে পারি নে।” “কম কী দিয়ে যাচ্ছ বাছা । এই ঘরবাড়ি-টাকাকড়ির ছল করে তুমি ওকে যে কী দিয়ে গেলে তার মল্য ও কি কোনোদিন বাকবে না। যা তুমি দিয়েছ তাই মাথা পেতে নেবার শক্তি বিধাতা ওকে দিন, এই আশীবাদ ওকে করি।" “আর-একটা বেদানার রস দাও, আমার গলা শকিয়ে এসেছে। মণি কি কাল এসেছিল— আমার ঠিক মনে পড়ছে না।” “এসেছিল। তখন তুমি ঘামিয়ে পড়েছিলে। শিয়রের কাছে বসে বসে অনেক ক্ষণ