প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:গল্পগুচ্ছ (তৃতীয় খণ্ড).djvu/২৩৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পার ও পায়ী 속 8 তাঁকে স্মরণ করিয়ে দিতুম যে, পণ্ডিতমশায়কে মাও একদিন কথা দিয়েছিলেন, তব সে কথায় শধ্যে যে আমার বিবাহ ফেসে গেল তা নয়, পণ্ডিতমশায়ের জীবিকাও তার সঙ্গে সহমরণে গেল— তা হলে এই উপলক্ষে একটা ফৌজদারি বাধত। বৃদ্ধি বিচার এবং রচির চেয়ে শচিতা মন্ত্রতন্ত্র ক্লিয়াকম যে ঢের ভালো, তার কবিত্ব যে সংগভীর ও সন্দের, তার নিষ্ঠা যে অতি মহৎ, তার ফল যে অতি উত্তম, সিম্বলিজমটাই যে আইডিয়ালিজম এ কথা বাবা আজকাল আমাকে শুনিয়ে শুনিয়ে সময়ে অসময়ে আলোচনা করেছেন। আমি রসনাকে থামিয়ে রেখেছি, কিন্তু মনকে তো চুপ করিয়ে রাখতে পারি নি। যে কথাটা মুখের আগার কাছে এসে ফিরে যেত সেটা হচ্ছে এই যে, এ-সব যদি আপনি মানেন তবে পালবার বেলায় মুরগি পালেন কেন। আরও একটা কথা মনে আসত; বাবাই একদিন দিনক্ষণ পালপাবণ বিধিনিষেধ দানদক্ষিণা নিয়ে তাঁর অসুবিধা বা ক্ষতি ঘটলে মাকে কঠোর ভাষায় এ-সব অনুষ্ঠানের পণ্ডতা নিয়ে তাড়না করেছেন। মা তখন দীনতা স্বীকার করে, অবলাজাতি স্বভাবতই অবাক বলে মাথা হে’ট ক’রে বিরক্তির ধাক্কাটা কাটিয়ে দিয়ে ব্রাহ্মণভোজনের বিস্তারিত আয়োজনে প্রবত্ত হয়েছেন। কিন্তু, বিশবকমা লজিকের পাকা ছাঁচে ঢালাই করে জীব সজন করেন নি। অতএব কোনো মানুষের কথায় বা কাজে সংগতি নেই এ কথা বলে . তাকে বাগিয়ে নেওয়া ষায় না, রাগিয়ে দেওয়া হয় মাত্র । ন্যায়শাস্ত্রের দোহাই পাড়লে অন্যায়ের প্রচন্ডতা বেড়ে ওঠে— যারা পোলিটিকাল বা গাহপথ্য অ্যাজিটেশনে শ্ৰহ্মাবান তাদের এ কথাটা মনে রাখা উচিত । ঘোড়া যখন তার পিছনের গাড়িটাকে অন্যায় মনে করে তার উপরে লাথি চালায় তখন অন্যায়টা তো থেকেই যায়, মাঝের থেকে তার পাকেও জখম করে। যৌবনের আবেগে অলপ একটখানি তক করতে গিয়ে আমার সেই দশা হল । পৌরাণিকী মেয়েটির হাত থেকে রক্ষা পাওয়া গেল বটে, কিন্তু বাবার আধুনিক যুগের তহবিলের আশ্রয়ও খোওয়ালম। বাবা বললেন, “ষাও, তুমি আত্মনিভর করো গে।" আমি প্রণাম করে বললাম, "যে আজ্ঞে ।” মা বসে বসে কাঁদতে লাগলেন । বাবার দক্ষিণ হস্ত বিমুখ হল বটে, কিন্তু মাঝখানে মা থাকাতে ক্ষণে ক্ষণে মানি-অর্ডারের পেয়াদার দেখা পাওয়া যেত। মেঘ বর্ষণ বন্ধ করে দিলে, কিন্তু গোপনে স্নিগ্ধ রাত্রে শিশিরের অভিষেক চলতে লাগল। তারই জোরে ব্যাবসা শর করে দিলাম। ঠিক উন-আশি টাকা দিয়ে গোড়াপত্তন হল। আজ সেই কারবারে ষে মলধন খাটছে তা ঈর্ষাকাতর জনশ্রুতির চেয়ে অনেক কম হলেও, বিশ লক্ষ টাকার চেয়ে কম নয় । প্রজাপতির পেয়াদারা আমার পিছন পিছন ফিরতে লাগল। আগে যে-সব স্বার বন্ধ ছিল এখন তার আর আগল রইল না। মনে আছে, একদিন যৌবনের দনিবার দরাশায় একটি ষোড়শীর প্রতি (বয়সের অঙ্কটা এখনকার নিষ্ঠাবান পাঠকদের ভয়ে কিছু সহনীয় করে বললাম) আমার হদয়কে উন্মুখ করেছিলাম, কিন্তু খবর পেয়েছিলম কন্যার মাতৃপক্ষ লক্ষ্য করে আছেন সিবিলিয়ানের প্রতি-অন্তত ব্যারিস্টারের নীচে তাঁর দটি পৌছয় না। আমি তাঁর মনোযোগ-মটরের জিরোপয়েন্টের নীচে ছিলাম। কিন্তু, পরে সেই ঘরেই অন্য একদিন শধে চা নয়, লাঞ্চ