প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:গল্পগুচ্ছ (তৃতীয় খণ্ড).djvu/২৪১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পাত্র ও পায়ী 9é> এমন সময় দেশে মন্বন্তর এল। দেশ উজাড় হয়ে যায়। যাদের উপর সাহায্যবিতরণের ভার ছিল তাদের মধ্যে কেউ কেউ চুরি করছিল বলে তিনি ম্যাজিস্ট্রেটকে জানাতেই ম্যাজিস্ট্রেট বললেন, “সাধলোক পাই কোথায় ?” তিনি বললেন, “আমাকে যদি বিশ্বাস করেন আমি এ কাজের কতক ভার নিতে পারি।” তিনি ভার পেলেন এবং এই ভার বহন করতে করতেই একদিন মধ্যাহ্নে মাঠের মধ্যে এক গাছতলায় মারা যান। ডাক্তার বললে, তাঁর হৃৎপিণ্ডের ক্লিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে। গলে্পর এতটা পৰ্যন্ত আমার পবেই জানা ছিল। কেমন একটা উচ্চ ভাবের মেজাজে এরই কথা তুলে আমাদের ক্লাবে আমি বলেছিলাম, “এই নন্দকৃষ্ণের মতো লোক যারা সংসারে ফেল করে শকিয়ে মরে গেছে—না রেখেছে নাম, না রেখেছে টাকা— তারাই ভগবানের সহযোগী হয়ে সংসারটাকে উপরের দিকে—” এইটুকু মাত্র বলতেই ভরা পালের নৌকা হঠাৎ চড়ায় ঠেকে যাওয়ার মতো, আমার কথা মাঝখানে বন্ধ হয়ে গেল। কারণ, আমাদের মধ্যে খুব একজন সম্পত্তি ও প্রতিপত্তি-শালী লোক খবরের কাগজ পড়ছিলেন– তিনি তাঁর চশমার উপর থেকে যাক গে। শোনা গেল, নন্দকৃষ্ণর বিধবা সত্ৰী তাঁর একটি মেয়েকে নিয়ে এই পাড়াতেই থাকেন। দেওয়ালির রাত্রে মেয়েটির জন্ম হয়েছিল বলে বাপ তার নাম দিয়েছিলেন দীপালি। বিধবা কোনো সমাজে স্থান পান না বলে সম্পণে একলা থেকে এই মেয়েটিকে লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষ করেছেন। এখন মেয়েটির বয়স পঁচিশের উপর হবে। মায়ের শরীর র্যগণ এবং বয়সও কম নয়—কোনদিন তিনি মারা যাবেন, এই মেয়েটির কোথাও কোনো গতি হবে না। বিশ্বপতি আমাকে বিশেষ অননয় করে বললেন, “যদি এর পাত্র জটিয়ে দিতে পারেন তো সেটা একটা পণ্যেকম হবে।” আমি বিশ্বপতিকে শুকনো সবাথপর নিরেট কাজের লোক বলে মনে মনে একটা অবজ্ঞা করেছিলাম। বিধবার অনাথা মেয়েটির জন্য তাঁর এই আগ্রহ দেখে আমার মন গলে গেল। ভাবলম, প্রাচীন পথিবীর মত ম্যামথের পাকযন্ত্রের মধ্যে থেকে খাদাবীজ বের করে পতে দেখা গেছে, তার থেকে অঙ্কুর বেরিয়েছে—তেমনি মানুষের মনষ্যেত্ব বিপলে মতস্তপের মধ্যে থেকেও সম্পণে মরতে চায় না। } আমি বিশবপতিকে বললাম, “পাত্র আমার জানা আছে, কোনো বাধা হবে না । আপনারা কথা এবং দিন ঠিক করন।” “কিন্তু মেয়ে না দেখেই তো আর—” “না দেখেই হবে।” “কিন্তু, পাত্র যদি সম্পত্তির লোভ করে সে বড়ো বেশি নেই। মা মরে গেলে কেবল ঐ বাড়িখানি পাবে, আর সামান্য যদি কিছু পার।" “পাত্রের নিজের সম্পত্তি আছে, সেজন্যে ভাবতে হবে না।" “তাঁর নাম বিবরণ প্রভৃতি—” “সে এখন বলব না, তা হলে জানাজানি হয়ে বিবাহ ফেসে যেতে পারে।” “মেয়ের মাকে তো তার একটা বর্ণনা দিতে হবে।"