প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:গল্পগুচ্ছ (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/১০৫

এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।
৩১৬
গল্পগুচ্ছ

সে যেন তাহার হৃদয়দেবতাকে আপন হদয়মন্দিরে তুলিয়া রাখিতে চায়।

 স্থির হইল অম্বিকাচরণ এখনই কাজ ছাড়িয়া দিবেন—আজ আর কেহ তাহাতে কিছুমাত্র প্রতিবাদ করিল না। কিন্তু এই তুচ্ছ প্রতিশােধে ইন্দ্রাণীর মন কিছুই সান্ত্বনা মানিল না। যখন সন্দিগ্ধ প্রভু নিজেই অম্বিকাকে ছাড়াইতে উদ্যত, তখন কাজ ছাড়িয়া দিয়া তাহার আর কী শাসন হইল। কাজে জবাব দিবার সংকল্প করিয়াই অম্বিকার রাগ থামিয়া গেল, কিন্তু সকল কাজকর্ম সকল আরামবিশ্রামের মধ্যে ইন্দ্রাণীর রাগ তাহার হৃৎপিণ্ডের মধ্যে জ্বলিতে লাগিল।

পরিশিষ্ট

এমন সময়ে চাকর আসিয়া খবর দিল, বাবুদের বাড়ির খাজাঞ্চি আসিয়াছে। অম্বিকা মনে করিলেন, বিনােদ স্বাভাবিক চক্ষুলজ্জাবশত খাজাঞ্চির মুখ দিয়া তাঁহাকে কাজ হইতে জবাব দিয়া পাঠাইয়াছেন। সেইজন্য নিজেই একখানি ইস্তফাপত্র লিখিয়া খাজাঞ্চির হস্তে গিয়া দিলেন।

 খাজাঞ্চি তৎসম্বন্ধে কোনাে প্রশ্ন না করিয়া কহিল, “সর্বনাশ হইয়াছে।”

 অম্বিকা জিজ্ঞাসা করিলেন, “কী হইয়াছে।”

 তদুত্তরে শুনিলেন, যখন হইতে অম্বিকাচরণের সতর্কতাবশত খাজাঞ্চিখানা হইতে বিনােদের টাকা লওয়া বন্ধ হইয়াছে তখন হইতে বিনােদ নানা স্থান হইতে গােপনে বিস্তর টাকা ধার লইতে আরম্ভ করিয়াছিল। একটার পর আর-একটা ব্যাবসা ফাঁদিয়া সে যতই প্রতারিত ও ক্ষতিগ্রস্ত হইতেছিল ততই তাহার রােখ চড়িয়া যাইতেছিল ততই নূতন নূতন অসম্ভব উপায়ে আপন ক্ষতি নিবারণের চেষ্টা করিয়া অবশেষে আকণ্ঠ ঋণে নিমগ্ন হইয়াছে। অম্বিকাচরণ যখন পীড়িত ছিলেন তখন বিনােদ সেই সুযােগে তহবিল হইতে সমস্ত টাকা উঠাইয়া লইয়াছে। বাঁকাগাড়ি পরগনা অনেক কাল হইতে পার্শ্ববর্তী জমিদারের নিকট রেহেনে আবদ্ধ; সে এ পর্যন্ত টাকার জন্য কোনােপ্রকার তাগাদা না দিয়া অনেক টাকা সুদ জমিতে দিয়াছে, এখন সময় বুঝিয়া হঠাৎ ডিক্রি করিয়া লইতে উদ্যত হইয়াছে। এই তাে বিপদ।

 শুনিয়া অম্বিকাচরণ কিছু ক্ষণ স্তম্ভিত হইয়া রহিলেন। অবশেষে কহিলেন, “আজ কিছুই ভেবে উঠতে পারছি নে-কাল এর পরামর্শ করা যাবে।”

 খাজাঞ্চি যখন বিদায় লইতে উঠিলেন তখন অম্বিকা তাঁহার ইস্তফাপত্র চাহিয়া লইলেন।

 অন্তঃপুরে আসিয়া অম্বিকা ইন্দ্রাণীকে সকল কথা বিস্তারিত জানাইয়া কহিলেন, “বিনােদের এ অবস্থায় তাে আমি কাজ ছেড়ে দিতে পারি নে।”

 ইন্দ্রাণী অনেক ক্ষণ প্রস্তরমূর্তির মতাে স্থির হইয়া রহিল। অবশেষে অন্তরের সমস্ত বিরােধদ্বন্দ্ব সবলে দমন করিয়া নিশ্বাস ফেলিয়া কহিল, “না, এখন ছাড়তে পার না।”

 তাহার পর ‘কোথায় টাকা’ ‘কোথায় টাকা’ করিয়া সন্ধান পড়িয়া গেল-যথেষ্ট পরিমাণে টাকা আর জুটে না। অন্তঃপুর হইতে গহনাগুলি সংগ্রহ করিবার জন্য অম্বিকা বিনােদকে পরামর্শ দিলেন। ইতিপূর্বে ব্যাবসা উপলক্ষে বিনােদ সে চেষ্টা