প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:গল্পগুচ্ছ (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/২৪৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


Sむし。 গল্পগুচ্ছ সেদিন সেই গাছের তলায় অমল সাহিত্যের মাদকরস প্রথম পান করিল; সাকী ছিল নবীনা, রসনাও ছিল নবীন এবং অপরাহের আলোক দীঘ ছায়াপাতে রহস্যময় হইয়া আসিয়াছিল। চার বলিল, “অমল, গোটাকতক আমড়া পেড়ে নিয়ে যেতে হবে, নইলে মন্দাকে কী হিসেব দেব।” মঢ়ে মন্দাকে তাহাদের পড়াশনা এবং আলোচনার কথা বলিতে প্রবত্তিই হয় না, সতরাং আমড়া পাড়িয়া লইয়া যাইতে হইল। দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ বাগানের সংকল্প তাহাদের অন্যান্য অনেক সংকল্পের ন্যায় সীমাহীন কল্পনাক্ষেত্রের মধ্যে কখন হারাইয়া গেল তাহা অমল এবং চার লক্ষও করিতে পারিল না। এখন অমলের লেখাই তাহাদের আলোচনা ও পরামশের প্রধান বিষয় হইয়া উঠিল। অমল আসিয়া বলে, “বোঠান, একটা বেশ চমৎকার ভাব মাথায় এসেছে।” চার উৎসাহিত হইয়া উঠে; বলে, “চলো, আমাদের দক্ষিণের বারান্দায়-এখানে এখনই মন্দা পান সাজতে আসবে।” চার কাশমীরি বারান্দায় একটি জীণ বেতের কেদারায় আসিয়া বসে এবং অমল রেলিঙের নিচেকার উচ্চ অংশের উপর বসিয়া পা ছড়াইয়া দেয়। বলা শক্ত। গোলমাল করিয়া সে যাহা বলিত তাহা পাট বুঝা কাহারও সাধ্য নহে। অমল নিজেই বার বার বলিত, “বোঠান, তোমাকে ভালো বোঝাতে পারছি নে ৷” চার বলিত, "না, আমি অনেকটা বুঝতে পেরেছি; তুমি এইটে লিখে ফেলো, দেরি কোরো না।” সে খানিকটা বুঝিয়া, খানিকটা না বুঝিয়া, অনেকটা কল্পনা করিয়া, অনেকটা অমলের ব্যক্ত করিবার আবেগের দ্বারা উত্তেজিত হইয়া, মনের মধ্যে কী-একটা খাড়া করিয়া তুলিত, তাহাতেই সে সুখ পাইত এবং আগ্রহে অধীর হইয়া উঠিত। চার সেইদিন বিকালেই জিজ্ঞাসা করিত, “কতটা লিখলে।” অমল বলিত, "এরই মধ্যে কি লেখা যায়।” চার পরদিন সকালে ঈষৎ কলহের স্বরে জিজ্ঞাসা করিত, “কই, তুমি সেটা লিখলে না ?” অমল বলিত, “রোসো, আর-একটা ভাবি।" চার রাঙ্ক করিয়া বলিত, “তবে যাও!” বিকালে সেই রাগ ঘনীভূত হইয়া চার যখন কথা বধ করিবার জো করিত তখন অমল লেখা কাগজের একটা অংশ রমাল বাহির করিবার ছলে পকেট হইতে একটুখানি বাহির করিত। মহাতে চারর মৌন ভাঙিয়া গিয়া সে বলিয়া উঠিত, “ঐ-যে তুমি লিখেছ ! আমাকে ফাঁকি ! দেখাও ” অমল বলিত, “এখনও শেষ হয় নি, আর-একটা লিখে শোনাব।”