পাতা:গল্পগুচ্ছ (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/২৫০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


নষ্টনীড় 8心公 চার জিজ্ঞাসা করিল, “তুমি তার লেখা পড়েছ ?” ভূপতি কহিল, "হাঁ—না, ঠিক পড়ি নি। সময় পাই নি। কিন্তু আমাদের নিশিকান্ত পড়ে খাব প্রশংসা করছিল। সে বাংলা লেখা বেশ বোঝে।” ভূপতির মনে অমলের প্রতি একটি সম্মানের ভাব জাগিয়া উঠে, ইহা চারর একান্ত ইচ্ছা। তৃতীয় পরিচ্ছেদ উমাপদ ভূপতিকে তাহার কাগজের সঙ্গে অন্য পাঁচরকম উপহার দিবার কথা বুঝাইতেছিল। উপহারে যে কী করিয়া লোকসান কাটাইয়া লাভ হইতে পারে, তাহা ভূপতি কিছুতেই বঝিতে পারিতেছিল না। . চার একবার ঘরের মধ্যে প্রবেশ করিয়াই উমাপদকে দেখিয়া চলিয়া গেল। আবার কিছুক্ষণ ঘুরিয়া ফিরিয়া ঘরে আসিয়া দেখিল, দুইজনে হিসাব লইয়া তকে প্রবত্ত । উমাপদ চারীর অধৈয দেখিয়া কোনো ছতা করিয়া বাহির হইয়া গেল। ভূপতি হিসাব লইয়া মাথা ঘরাইতে লাগিল। চার ঘরে ঢুকিয়া বলিল, "এখনও বুঝি তোমার কাজ শেষ হল না ? দিনরাত ঐ একখানা কাগজ নিয়ে যে তোমার কী করে কাটে, আমি তাই ভাবি।” ভূপতি হিসাব সরাইয়া রাখিয়া একটুখানি হাসিল। মনে মনে ভাবিল, বাস্তবিক, চার্যর প্রতি আমি মনোযোগ দিবার সময়ই পাই না, বড়ো অন্যায়। ও বেচারার পক্ষে সময় কাটাইবার কিছুই নাই।’ ভূপতি স্নেহপণাস্তবরে কহিল, “আজ যে তোমার পড়া নেই! মাস্টারটি বুঝি পালিয়েছেন ? তোমার পাঠশালার সব উলটো নিয়ম— ছাত্রীটি পথিপত্র নিয়ে প্রস্তুত, মাস্টার পলাতক । আজকাল অমল তোমাকে আগেকার মতো নিয়মিত পড়ায় ব’লে তো বোধ হয় না।” চার কহিল, “আমাকে পড়িয়ে অমলের সময় নষ্ট করা কি উচিত। অমলকে তুমি বঝি একজন সামান্য প্রাইভেট টিউটার পেয়েছ ?” ভূপতি চারার কটিদেশ ধরিয়া কাছে টানিয়া কহিল, “এটা কি সামান্য প্রাইভেট টিউটারি হল। তোমার মতো বউঠানকে যদি পড়াতে পেতুম তা হলে--” চার। ইস ইস তুমি আর বোলো না ! স্বামী হয়েই রক্ষে নেই তো আরও কিছ! ভূপতি ঈষৎ একট, আহত হইয়া কহিল, “আচ্ছা, কাল থেকে আমি নিশ্চয় তোমাকে পড়াব। তোমার বইগুলো আনো দেখি, কী তুমি পড় একবার দেখে নিই।” চার । ঢের হয়েছে, তোমার আর পড়াতে হবে না। এখনকার মতো তোমার খবরের কাগজের হিসেরটা একটা রাখবে ? এখন আর-কোনো দিকে মন দিতে পারবে কি না বলো । ভূপতি কহিল, “নিশ্চয় পারব। এখন তুমি আমার মনকে যে দিকে ফেরাতে চাও সেই দিকেই ফিরবে।” চার । আচ্ছা বেশ, তা হলে অমলের এই লেখাটা একবার পড়ে দেখো কেমন চমৎকার হয়েছে। সম্পাদক অমলকে লিখেছে এই লেখা পড়ে নবগোপালবাব তাকে ○○