পাতা:গৌড়রাজমালা.djvu/৩৮

এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।

গৌড়রাজমালা।

শরীরের মাংস পচিয়া পড়িতে আরম্ভ করিয়াছিল। এই রোগে কিছুদিন ক্লেশভোগ করিয়া, অবশেষে গৌড়াধিপ মানবলীলা সম্বরণ করিয়াছিলেন।

 ইউয়ান্ চোয়াং লিখিয়াছেন—বৌদ্ধধর্ম্মের বিলোপ-সাধনে কৃতসঙ্কল্প হইয়া, শশাঙ্ক কুশীনগর প্রদেশে, বুদ্ধগয়ায় এবং পাটলিপুত্রে এই ধ্বংসলীলার আরম্ভ করিয়াছিলেন। কিন্তু চীনদেশীয় শ্রমণের এই সিদ্ধান্ত যুক্তি-প্রমাণের সম্পূর্ণ বিরোধী। বৌদ্ধধর্ম্মের অভ্যুদয়ের সঙ্গে সঙ্গে যে কিছু সাম্প্রদায়িক হিংসাদ্বেষ উৎপন্ন হইয়াছিল, তাহা বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ধর্ম্মযাজকগণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। মহাভাষ্যকার পতঞ্জলি দ্বন্দ্বসমাস-প্রকরণে (পাণিণি ২।৪।১২) যাহাদের মধ্যে বিরোধ চিরন্তন [শাশ্বতিক] এইরূপ প্রাণীবাচক শব্দের দৃষ্টান্তমধ্যে “শ্রমণব্ৰাহ্মণম্” উল্লেখ করিয়াছেন। পুরাণে বৌদ্ধধর্ম্মের যে নিন্দা দৃষ্ট হয়, তাহ ব্রাহ্মণ-যাজকের অন্তর্নিহিত শ্রমণ-বিদ্বেষ-প্রসূত। ব্রাহ্মণ হউক আর অব্রাহ্মণই হউক, সাধারণ শৈব বা বৈষ্ণবের মনে সেরূপ বিদ্বেষ ছিল না। এই শ্রেণীর লোকেরা বুদ্ধ এবং বৌদ্ধধর্ম্মকে কিরূপ শ্রদ্ধার চক্ষুতে দেখিতেন, তাহা ক্ষেমেন্দ্র-ব্যাস-দাসকৃত “দশাবতার চরিতম্” কাব্যের “বুদ্ধাবতার” প্রসঙ্গে এবং জয়দেবের

“निन्दसि यज्ञविधे रहहः! श्रुतिजातं
सदय हृदय-दर्शित-पशुघातं
केशव धृत-वुद्ध-शरीर
जय जगदीश हरे।”

গাথায় প্রকটিত হইয়াছে।[১] শশাঙ্ক যে যুগে প্রাদুর্ভূত হইয়ছিলেন, সেই যুগের শৈব এবং বৈষ্ণব নরপতিগণ বৌদ্ধ-দেবতা এবং বৌদ্ধ-ভিক্ষুকে রীতিমত ভক্তি করিতেন। সম্রাট্‌ স্কন্দগুপ্ত (৪৫৫–৪৬৬ খৃঃ অঃ) “পরম-ভাগবত” বা বৈষ্ণব ছিলেন। বসুবন্ধুর জীবনচরিতকার পরমার্থ লিখিয়া গিয়াছেন—তিনি বৌদ্ধ-শ্রমণগণের উদার পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।[২] বলভীর মৈত্রক-বংশীয়

  1. খৃষ্টীয় একাদশ শতাব্দের শেষার্দ্ধে ক্ষেমেন্দ্র কাশ্মীরে প্রাদুর্ভূত হইয়াছিলেন। পুরাণকার বুদ্ধাবতার প্রসঙ্গে যেখানে লিখিয়াছেন, বিষ্ণু অসুরগণের সম্মোহনের জন্য বুদ্ধরূপে অবতীর্ণ হইয়াছিলেন, সেখানে বুদ্ধচরিতের সূচনায় ক্ষেমেন্দ্র লিখিয়াছেন—

    “काले प्रयाते कलिविप्लवेन रागग्रहोग्रे भगवान् भवाद्धौ
    मज्जत्‌सु संमोइ-जले जनेषु जगर्न्निवास करुणान्धितोऽभूत्॥
    स सर्व-सत्तोपकृति-प्रयत्नः कृपाकुलः शाक्यकुले विशाले।
    शुद्धोदनाख्यस्य नराधिपेन्दो र्धन्यस्य गर्भेऽवततार पत्न्याः॥
    “अथ स भगवान् कृत्वा सर्वे जगज्जिन-भास्कर
    स्तिमिर-रहितं ज्ञानालोकैः क्रमाद्गुणि-बान्धवः।
    जन-करुणया सङ्घर्माख्यं निधाय परं वपु-
    स्तरण-शरणं संसाराब्ध्या वभूत् पुनरच्युतः॥

  2. Smith’s Early History of India, Second Edition, p. 292.

১২