পাতা:চিঠিপত্র (দ্বাদশ খণ্ড)-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩০৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


স্মৃতি-ম্পন্দন আজ আমার শিরায় শিরায় মেঘমল্লারের মীড় লাগিয়েছে। আমার কর্তব্যবুদ্ধি কোথায় ভেসে গেল,— সম্প্রতি আমি আমার সামনেকার ঐ সারবন্দী শালতালমহুয়াছাতিমের দলে ভিড়ে গেছি। প্রাণরাজ্যে ওদের হ’ল বনেদি বংশ, ওরা কোন আদিকালের রৌদ্রবৃষ্টির উত্তরাধিকার পুরোপুরি ভোগ ক’রে চলেচে । ওরা মানুষের মত আধুনিক নয়, সেইজন্তে ওরা চিরনবীন । মানবজাতির মধ্যে কেবল কবিরাই সভ্যতার অপব্যয়ের চোটে তাদের আদিকালের উত্তরাধিকার একেবারে ফুকে দিয়ে বসে নি। তাই তরুলতার আভিজাত্য কবিদের নিতান্ত মানুষ বলে অবজ্ঞা করে না । এই জন্যেই বর্ষে বর্ষে বর্ষার সময় আমাকে এমন করে উতলা করে দেয়, আমাকে সকল দায়িত্ববন্ধন থেকে বিবাগী করে’ প্রাণের খেলাঘরে ডাকতে থাকে— আমাদের মর্মের মধ্যে যে ছেলেমানুষ আছে, যে হচ্চে আমাদের সবচেয়ে প্রাচীন পূর্বজ, সেই আমার কর্মশালাটি দখল করে বসে। সেইজন্যেই বর্ষা পড়ে অবধি আমি হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টির সঙ্গে গাছপালার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে বসে গেছি, কাজকর্ম ছেড়ে গান তৈরি করচি– সেই সূত্রে মানুষের মধ্যে আমি সবচেয়ে কম মানুষ হয়েচি— আমার মন ঘাসের মত কঁপিচে, পাতার মত ঝিলমিল করচে। কালিদাস এই উপলক্ষ্যেই বলেছিলেন, “মেঘালোকে ভবতি সুখিনোইপ্যস্তথাবৃত্তি চেতঃ * অন্যথাকৃত্তি হচ্ছে মানববৃত্তির গণ্ডির বাইয়ের বৃত্তি । এই বৃত্তি আমাদের সেই সুদূরকালে নিয়ে যায় যখন প্রাণের খেলা চলচে, মনের মাস্টারী সুরু হয় নি— ३bv 8