পাতা:চিঠিপত্র (দ্বাদশ খণ্ড)-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৪৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অবশ্য আমার সামর্থ্যেরও সীমা আছে– সে সীমা যে বেশি দূরে তাহা নহে— কারণ, আমি ঋণে মগ্ন । তা ছাড়া আমার আয়ুর চেয়ে বিদ্যালয়ের আয়ু বেশি এই কথাই ধরিয়া লওয়া উচিত— অতএব আমার আয়ের সঙ্গে বিদ্যালয়ের আয়কে এক করিয়া দেখিলে এক দিন বিপদ ঘটিবেই । আসল কথা, যে জিনিষের প্রয়োজনকে সকলে সত্যভাবে স্বীকার না করে তাহাকে কৃত্রিম উপায়ে বঁাচাইয়া রাখা বিড়ম্বন । যেটুকু আমার শক্তির উপর নির্ভর করিতেছে বিদ্যালয়ের মধ্যে সেইটুকুই যদি সত্য হয় তবে সেই শক্তির শেষ পর্যন্তই চলুক। দেশালাই জ্বলে বাতিকে জ্বালাইবার জন্য, কিন্তু বাতি যদি না জলে তবে দেশালাইয়ের শেষটুকু পৰ্য্যন্ত জলুক— ততক্ষণ যতটুকু পথ পার হওয়া যায় ততটুকুই ভাল । বিদ্যালয়ের আর্থিক সঙ্কটের কথা শুনিয়া দেশে ফিরিবার জন্য আমার মন টলিয়াছিল। কিন্তু আমার এখানকার বন্ধুরা বারস্বার আমাকে আশ্বাস দিতেছেন যে আমার বই ছাপার ভালরূপ ব্যবস্থা করিতে পারিলে বিদ্যালয়ের আয় সম্বন্ধে অনেকটা নিশ্চিন্ত হওয়া যাইতে পারে । সেইজন্য অাশাপথ চাহিয়া বসিয়া আছি । কিন্তু বই বিক্রি করিয়া কিছু পাইব এ কথা বিশ্বাস করিবার ভরসা আমার চলিয়া গিয়াছে . . . আমেরিকায় যাইবার প্রস্তাব চলিতেছে। সেখানে কিছু সুবিধা হইতে পারে কিনা দেখিব। কিন্তু ভিক্ষা করিবার বিদ্যা আমি একেবারেই জানি না— এবং দেশের কাজের জন্য বিদেশে ভিক্ষার ঝুলি বাহির করিতে আমার অত্যন্ত লজ্জা \రిe