পাতা:চিঠিপত্র (সপ্তম খণ্ড)-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৩৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


তোমার চিঠিখানি পড়ে খুলি হলুম। আমি প্রথম থেকেই লক্ষ্য করেছি তোমার ভাববার ও ভাব প্রকাশের শক্তি সাধারণের চেয়ে অনেক বেশি। এই কারণেই, যখন আমার সময় ছিল, তোমাকে যত্ন করে অনেক চিঠি লিখেছি— জানতেম তুমি তা বুৰবে এবং তাতে তোমার নিজের চিস্তার উদ্যম উদ্বুদ্ধ হবে। এখন আমার জীবনের সায়াহ্ন ; আমার ভাবনা কল্পনা যা কিছু একদিন বাইরে সঞ্চরণ করতে বেরিয়েছিল তারা সব ভিতরে ফিরে এসেছে—তাই চিঠির গগুষও ভরতে চায় না। তোমার মধ্যে যে শক্তি আছে তাকে তুমি নিরুদ্ধ করে কেন রাখ ? অন্তত তাকে নিজের কাছে প্রকাশ করতে পারলেও তোমার উপকার হবে। প্রকাশের দ্বারাই নিজের কাছ থেকে নিজে আমরা লাভ করি— আমাদের পক্ষে সেই লাভ সকলের চেয়ে সত্য । গাছ আপনার ফলফুলপল্লব বিকাশের দ্বারাই আপন সম্পদ পায়— বাইরে থেকে তার ডালে বহুমূল্য জিনিষ বুলিয়ে দিলে সে তার পক্ষে ভার হয় মাত্র । আত্মীয়ার বিবাহ উপলক্ষ্যে আজ কলকাতায় এসেছি কাল বোলপুরে ফিরে যাব । ইতি ৪ ফাল্গুন ১৩৩৩ * শ্রীরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 〉a >