পাতা:চিঠিপত্র (সপ্তম খণ্ড)-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৮১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


২ • ১৬ নভেম্বর ১৯১১ ē শান্তিনিকেতন বোলপুর কল্যাণীয়াসু মা, তোমার উপর রাগ করবার ত কোনো কারণ হয় নি । ইতিমধ্যে আমি বোটে পদ্মার চরে আশ্রয় নিয়েছিলুম। সেখানে নির্জনে যখন থাকি তখন চিঠিপত্র লেখা আমার আর হয়ে ওঠে না । মাঝে মাঝে আমার এই রকম সম্পূর্ণ ছুটি নেবার দরকার হয়। যখন আমি কলকাতায় কিম্বা কাজকৰ্ম্মের মাঝখানে থাকি তখন চিঠিপত্র লিখতে পারি কিন্তু যখন পূর্ণ অবকাশের মধ্যে বাস করি তখন সে অবকাশ ভাঙতে ইচ্ছা করি নে। আজকাল চিঠি আতি অল্পই লিখি । আমি এই প্রার্থনা করি ঈশ্বর তোমার মনকে শান্ত স্নিগ্ধ কর্তব্যরত করুন— প্রসন্ন চিত্তে তুমি আপনার জীবনকে গ্রহণ কর, সন্তুষ্ট মনে সংসারের কল্যাণ সাধন কর— তোমার চারিদিকের সঙ্গে সকল বিষয়েই তোমার সুন্দর যোগ হোক, ইচ্ছা যেন বিদ্রোহী ও বিভ্রান্ত না হয়, নত শিরে নম্র মনে ঈশ্বরের ইচ্ছার কাছে নিজের ইচ্ছাকে বিসর্জন কর— পূজার অঞ্জলির মত নিজেকে সুন্দর ও পবিত্র করে তার কাছে উৎসর্গ কর— কেবলি আপনার দিকে তাকিয়ে থেকোনা, আপনার কথা ভেবে না— যেখানে তিনি তোমাকে কাজ দিয়েছেন সেইখানেই তার ১৬৫