পাতা:চিঠিপত্র (সপ্তম খণ্ড)-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৯৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সরলাবালা সরকারের কস্তা, আনন্দবাজার পত্রিকার স্বৰ্গত সম্পাদক প্রফুল্লকুমার সরকারের পত্নী নির্ঝরিণী সরকার রবীন্দ্রনাথের সহিত র্তাহার পত্রব্যবহারের বিবরণ ২২ বৈশাখ ১৩৬৩ সংখ্যা দেশ পত্রে “কবি-পরিচিতি’ প্রবন্ধে বিবৃত করিয়াছেন— নিম্নে তাহ মুদ্রিত হইল – এই প্রবন্ধে উল্লিখিত পিসিমা, কাদম্বিনী দত্ত । খুব অল্প বয়সেই আমার কবির লেখার সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল। হয়তে সব কিছু বুঝবার মতো জ্ঞান তখনও হয় নি কিন্তু তবু তার লেখা যে কী ভালো লাগত। আমার মা আর আমার পিসিমা সর্বদাই কবির লেখা নিয়ে আলোচনা করতেন । এমনভাবে কবির সম্বন্ধে তারা কথাবার্তা বলতেন যেন কবি তাদের একজন ঘরের লোক, একজন পরমাত্মীয় । তাদের মুখে শুনে শুনে সেই অতি অল্প বয়সেই আমারও কবির প্রতি মনে মনে একটা গভীর আত্মীয়তা-বোধ জন্মেছিল । যদিও তাকে তখনও দেখি নি এবং তার সঙ্গে যে কোনোদিন দেখা হবে সে সম্ভাবনাও ছিল না, তবুও মনে হত তিনি যেন নিতান্ত আপনার জন । ছেলেবেলা থেকেই দেশের উপর একটা অতুরাগও মনের ভিতর ছিল । তাই যে ছেলেরা দেশের জন্য জীবনপণ করেছিল তাদের উপরও ছিল একান্ত আত্মীয়তা-বোধ । তাই মানিকতলার বোমার মামলা ও তাহার ফলাফলে আমার মন একেবারে দুঃখে অভিভূত হয়ে পড়েছিল। মনের সেই অবস্থায় একজন আশ্রয়দাতা, একজন সান্তুনা দেবার পাত্রের জন্য মন যখন ব্যাকুল হয়ে উঠেছিল তখনই আমি কবিকে পত্র লিখি । বয়স আমার তখন ষোলো-সতেরো বৎসরের বেশি নয় । আমি তাকে চিঠি লিখছি এ কথা ভাবতে নিজেই নিজের এই সাহসে অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। কবিকে আমি চিঠি লিখছি ? তিনি এই চিঠি পেয়ে কি › ግ 8