পাতা:চিঠিপত্র (সপ্তম খণ্ড)-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৯৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শিশুমনে কি একটা অনুভূতি হত যে, অনবরত চোখের জল পড়ত। তরুণ জয়সিংহের মহারাজা গোবিন্দমাণিক্যের সম্বন্ধে যে মনের ভাবের বর্ণনা আছে, কবির সম্বন্ধে আমার সেইরকম মনোভাব ছিল। যেন আকাশের চাদের উপর শিশুর আসক্তি । র্তার কাছে যখন প্রথম যাই তখন কি যে মনের অবস্থা হয়েছিল আজ তা বলে বুঝানো অসম্ভব। তাকে প্রণাম করেছি, তিনি সস্নেহে আমার সেই প্রণাম গ্রহণ করেছেন, মাথায় তার আশীৰ্বাদী হাতের ছোয়া পাচ্ছি ; এ কি স্বপ্ন, না সত্য ? বোধহয় এই রকমই মনে হয়েছিল। আমি আশ্চর্য হয়ে যাই যে, নিয়ত কত লোক র্তার দর্শনার্থী হয়ে র্তার কাছে যাচ্ছে, তার প্রিয়জন সব সময় তাকে ঘিরে রয়েছেন, আমার সঙ্গে তার কতটুকুই বা দেখা হয়েছে, তৰু কোনোদিন তিনি আমাকে ভুলে যান নি। যখনি দেখা হয়েছে তার চোখে সেই অতি পরিচিতের সঙ্গে মিলনের সস্নেহ ভাবটি ফুটে উঠেছে। আর মনে হয়েছে আমি যেন তার কাছে বড়ো হয়ে যাই নি ; সেই ছোটো মেয়েটিই আছি । র্তার বর্ষামঙ্গল প্রভৃতিতে এবং যখন তিনি কোনো সাধারণ সভায় বক্তৃতা দিয়েছেন অথবা নটীর পূজা প্রভৃতি অভিনয় করিয়েছেন, সব জায়গাতেই তাকে দর্শন করবার সৌভাগ্য হয়েছে এবং সেইসব ছবি এখনও মনের মধ্যে আঁকা রয়েছে। আজ তার পুণ্য আবির্ভাব-দিনে সেইসব কথাই মনে পড়ছে। ছেলেবেলাতেই তার অনেক রচনা আমার মুখস্থ হয়ে গিয়েছিল। আর সে লেখায় যে কি রস পেতাম তা তারই এক ছত্র দিয়ে বলতে পারি, না বুঝেও আমি বুঝেছি তোমারে কেমনে কিছু না জানি । ➢ ግ\9