পাতা:চিঠিপত্র (সপ্তম খণ্ড)-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৪৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বুদ্ধি যুক্তিকে একেবারে লঙ্ঘন করে এমন সকল নিরর্থকতার স্মৃষ্টি করেছি যাতে মানুষকে মূঢ় করে ফেলে। আমরা ধৰ্ম্মের নামেই অপরিচিত মুমুঘুকে পথের ধারে পড়ে মরে যেতে দিই পাছে জাত যায় ( এ আমার জানা )– অপরিচিত মৃতদেহকে সৎকার করিনে— মানুষের স্পর্শকে বীভৎস জন্তুর চেয়ে বেশি ঘৃণা করি । কেন এমন হয়েছে ? আমরা ধৰ্ম্মকে আমাদের নিজের চেয়ে নেবে যেতে দিয়েছি । আমরা কেবলি বলেছি, আমরা নিকৃষ্ট অধিকারী, আমরা পারি নে, বিশুদ্ধ সত্য, বিশুদ্ধ মঙ্গল আমাদের জন্যে নয়। অতএব আমাদের পক্ষে এই সমস্ত মুগ্ধ কল্পনাই ভাল। এমনি ধৰ্ম্মকে সহজ করতে গিয়ে যে তাকে কেবলি নীচু করেছে তার আর উদ্ধারের উপায় নেই। ধৰ্ম্মকে যে উপরে রেখেছে, ধৰ্ম্ম তাকে উপরে টেনেছে— হিন্দু তা করে না । হিন্দু কেবলি বলেছে মেয়েদের জন্যে সর্বসাধারণের জন্যে এই রকম আটপৌরে মোটা ধৰ্ম্মই দরকার— এই বলে সমস্ত দেশের বুদ্ধি ও আকাজক্ষাকে সেই মোটার দিকে ভারাক্রান্ত করে নেবে যেতে দিয়েছে। আর যাই হোক সাধনাকে নীচের দিকে নামতে দিলে কোনো মতেই চলবে না । কল্পনাকে, হৃদয়কে, বুদ্ধিকে, কৰ্ম্মকে কেবলি মুক্তির অভিমুখে আকর্ষণ করতে হবে— তাকে কোনো কারণেই কোনো সুযোগের প্রলোভনেই ভুলিয়ে রাখতে হবে না । আমি নিজের জন্তে এবং দেশের জন্যে সেই মুক্তি চাই । মনে কোরো না সেই মুক্তি জ্ঞানের মধ্যে মুক্তি— সে প্রেমের মধ্যে মুক্তি । তুমি মনে কোরো না প্রতিমা পূজা ছাড়া প্রেম হতেই ৩২