পাতা:চিঠিপত্র (সপ্তম খণ্ড)-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৪৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দিক থেকে পঙ্গু করা, নিজের বুদিকে এমন একান্তভাবে অন্ধ করা ! যে ধৰ্ম্ম আমাদের উপরের জিনিষ, উপনিষৎ যার পথকে “ক্ষুরধারনিশিত” দুর্গম বলেছেন, যাকে লাভ করবার জন্যে আমাদের সমস্ত শক্তিকে সচেষ্ট্র রাখা আবশ্বক, তাকে আমরা যথেচ্ছামত সস্তা_কর | — త్వ ক্রমাগত বলে এসেছি আমরা পারি নে,_ন সব ধারণ আমাদের সাধ্যের অতীত, আমরা নিকৃষ্ট অধিকারী, আমাদের পক্ষে সত্যের বিকারই একমাত্র অবলম্বনীয়। নিজেকে দুৰ্ব্বল বলে স্বীকার করে নিজের ধৰ্ম্মকে যদি খাটো করি তবে কে আমাদের বল দেবে ? ধৰ্ম্মকেই যদি, নীচে রাখি তবে আমাদের উপরে তুলবে_কিসে ? কিছুতেই তুলচেন, কিছুতেই জাগ্ৰচিনে, আমরা প্রতিদিন মরচি তবু প্রতিকারের ইচ্ছামাত্রও নেই। এখন আমাদের এমন সময় এসেছে যখন এই সমস্ত মোহজঞ্জালকে চিরাভ্যস্ত মমত্ববুদ্ধিবশত স্বদেশের মৰ্ম্মস্থানে গুরুভার পর্বতের মত স্তুপাকার জমিয়ে রাখা আর চলবেন । আমি জানি সত্যের পথ সহজ নয়— পিছনে টেনে রাখবার যে কত বন্ধন আছে তার ঠিকানা নেই— যদি মনে করি একে একে একটু একটু করে সে সমস্ত শিথিল হতে থাকবে তাহলে নৈরাশ্য আসে কিন্তু ঈশ্বর যখন রুদ্রবেশে দয়া করেন তখন তিনি এক আঘাতেই অকস্মাৎ অনেক বন্ধন ছেদন করে দেন– তখন তিনি অসহ বেদনা দেন কিন্তু সেই বেদনাকে সার্থক করেন । আমাদের দেশ তার সেই বিশ্ব-উদ্বোধন প্রচণ্ড আঘাতের সৌভাগ্য w)(፫